২৬ জুলাই ২০২৬

রাজনীতি / রাজনৈতিক দল

সিলেটে ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান

‘ভারতে যা শুরু হয়েছে মনে হচ্ছে শুধুমাত্র আপা নয়, দুলাভাইসহ বরণ করতে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক 

প্রকাশঃ ২৫ জুলাই, ২০২৬ ৯:৫৮ অপরাহ্ন


বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেছেন, ‘বিভিন্ন মাধ্যমে আমরা শুনতে পাচ্ছি আপা আসবে। আমরা তো সবাই অপেক্ষা করছি ফুলের মালা নিয়ে। আমরা ফুলের মালা নিয়ে আপাকে বরণ করব। কিন্তু ভারতে যা শুরু হয়েছে তাতে মনে হচ্ছে শুধুমাত্র আপা নয়, দুলাভাইসহ বরণ করতে হবে।’ 

 

শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে সিলেটে ১১ দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশে বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।

 

ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান ‘সংগ্রামী বন্ধুরা আমার, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে আমরা রাজশাহী গিয়েছিলাম। রাজশাহীবাসীর ঘোষণা- তারা গণভোটের গণরায়ের বাস্তবায়ন চায়। আমরা চট্টগ্রামে গিয়েছি, চট্টগ্রামেও একই দাবি- তারা গণভোটের বাস্তবায়ন চায়। আমরা বরিশালে গিয়েছি, বরিশালবাসীর একটাই দাবি— গণভোটের গণরায়ের বাস্তবায়ন করতে হবে। মাননীয় প্রধান অতিথি, আজকের এখানে সমাবেশ প্রমাণ করে তারাও গণভোটের গণরায়ের বাস্তবায়ন চায়।’

 

ইরান বলেন, মাননীয় প্রধান অতিথি, আমাদের মনে হচ্ছে আজকে আমাদের এই বক্তব্য আমাদের প্রধানমন্ত্রী বোঝেন না। আমাদের আজকে গণভোটের রায়ের দাবি তারেক রহমান সাহেব বুঝতেছেন না। বিএনপি আজকে সংস্কার বুঝে না, বিএনপি আজকে গণহত্যার রায়ের বিচারের কথা বুঝে না। সোজা আঙুলে যদি ঘি না ওঠে মাননীয় প্রধান অতিথি, আঙুল বাঁকা করতে হবে ইনশাআল্লাহ। 

 

তিনি বলেন, সংগ্রামী বন্ধুরা আমার, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেব, তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দুই সন্তানের দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি এক সন্তানকে মন্ত্রী বানিয়েছেন, আরেক সন্তানকে দেখলাম সচিব বানিয়েছেন। এখন বিএনপির এই ১৭ বছরে যারা হামলা-মামলা, নির্যাতন-নিপীড়ন করেছে, তাদের আজকে মাথায় হাত পড়ে গিয়েছে বন্ধুরা। তারা মনে মনে ভাবছে আমরা ভুল করেছি; আন্দোলন-সংগ্রাম না করে শুধুমাত্র তিন মাস জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করলে আমরাও আবার সচিব হতে পারতাম। 

 

লেবার পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি আপনার নেতাদেরকে আজকে নতুন শিক্ষা দিচ্ছেন। যারা এই জামাতের বিরুদ্ধে কথা বলে, ১১ দলের বিরুদ্ধে কথা বলে, আপনি তাদেরকে পুরস্কৃত করা শুরু করেছেন। আপনাদের সিলেটের এক আলেম— দাড়ি আছে, টুপি আছে, পাঞ্জাবি পরে— আমি তাকে আলেম বলব নাকি জালেম বলব, আমি তা বুঝতে পারছি না। তিনি এক সমাবেশে বলছেন, জামাতিদের লুঙ্গি খুলে ফেলতে হবে, লুঙ্গি খুলে ফেলতে হবে। আপনি একজন আলেম মানুষ যদি হন, আপনি আরেকজন আলেমের, আর একজন মানুষের, একজন হিন্দুর লুঙ্গিও তো আপনি খুলতে পারেন না। কী রাজনীতি করবেন আপনারা? 

 

ইরান বলেন, এই সরকার নির্বাচনের আগে ১১ দলীয় জোটের বিরুদ্ধে এদেশের কিছু চিহ্নিত আলেমকে লেলিয়ে দিয়েছিল কুকুরের মতো, তারা ব্যর্থ হয়েছে। এদেশের জনগণ ভোট দিয়েছিল কিন্তু ইঞ্জিনিয়ারিং করে এই সরকার তাদের বিজয় তারা চক্রান্তের মাধ্যমে তারা নিয়েছে। আমাদের এখানে আমাদের ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়কারী ডক্টর হামিদুর রহমান আজাদ— আমি এলাকাতে গিয়েছিলাম সেই কক্সবাজারের কুতুবদিয়া-মহেশখালীতে যেখানে মানুষ পঙ্গপালের মতো হামিদুর রহমান আজাদের জন্য রাস্তায় নেমে এসেছিল কিন্তু তাকেও নির্বাচিত হতে দেওয়া হয় নাই।

 

তিনি আরও বলেন, আমরা ঢাকাতে দেখেছি আমাদের মাওলানা মামুনুল হক, যিনি সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেম, যিনি কথিত আলেমদের চক্রান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন; এদেশে ইসলাম এবং মুসলমানদের জন্য তিনি ১১ দলীয় জোটের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। তাকেও পরাজিত করা হয়েছে ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে। ৩৫০ ভোটকে ৭৫০ ভোট করা হয়েছে। 

 

ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমাদের জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারকে পরিকল্পিতভাবে হারানো হয়েছে। আমরা বলতে চাই, আপনারা যদি মনে করে থাকেন যে পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতায় এসেছেন, তাহলে বলব বোকার স্বর্গে আছেন আপনারা। ২৪ সালে শেখ হাসিনাও নির্বাচিত হয়েছিল, তিনিও চেয়েছিলেন পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকবেন কিন্তু থাকতে পারেন নাই। গণভোটের গণরায় নিয়ে গরিমসি করলে শীঘ্রই আমরা কঠোর কর্মসূচি দেব বন্ধুরা। 

 

তিনি বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি বিভিন্ন মাধ্যমে আমরা শুনতে পাচ্ছি ‘আপা’ আসবে। আমরা তো সবাই অপেক্ষা করছি ফুলের মালা নিয়ে। আমরা ফুলের মালা নিয়ে আপাকে বরণ করব কিন্তু ভারতে যা শুরু হয়েছে তাতে মনে হচ্ছে শুধুমাত্র আপা নয়, দুলা ভাইসহ বরণ করতে হবে। 

 

তিনি আরও বলেন, আমি আর একটা কথা বলে শেষ করব। বিএনপি নেতাকর্মীদের আজকে দুই-তিনদিন যাবৎ জ্যৈষ্ঠ মাস চলছে। জামাতের এক ভদ্রলোক একটি ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত হয়েছে, শয়তান তাকে ওই রাস্তায় নিয়ে গেছে। তারা মনে করছে আমরা যেন কী পেয়ে গিয়েছি বন্ধুরা।

 

ডা. মোস্তাফিজুর বলেন, আমি জামায়াতে ইসলামীকে ধন্যবাদ জানাই, তারা সমস্ত তদন্ত করে তারপর তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। এবার দেখতে চাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী— এই মৌলভীবাজারের এমপি সাইফুর রহমানের ছেলে, তারও কিন্তু ভিডিও বের হয়েছে; আপনি তাকে কী করেন দেখতে চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমাদের সিলেট ছয় আসনের বর্তমান এমপি ইমরান আহমেদ চৌধুরীর ভিডিও বের হয়েছে। আপনি কী করেন দেখতে চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার গাজীপুর সদরের এমপি রনির নগ্ন ভিডিও বের হয়েছে। আপনারা কী করেন দেখতে চাই। ‘যত দোষ নন্দ ঘোষ; কালো জামাই কালো রঙের দিব্যি পড়লেও দেখা যায় না।‘ 

 

তিনি আরও বলেন, জামায়াত-শিবির হচ্ছে জামার মতো। আলেম ওলামারা হচ্ছে সাদা জামার মতো। আপনারা সবাই সতর্কভাবে জীবন যাপন করবেন।

 

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিচারের দাবিতে রাজশাহী থেকে শুরু হওয়া ১১ দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশ কর্মসূচির সমাপনী আয়োজন ছিল সিলেটের এ সমাবেশ।

 

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুমিনুল হকসহ ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতারা।


শেয়ার করুনঃ

রাজনীতি থেকে আরো পড়ুন

মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ১১ দলীয় জোট, সিলেট সমাবেশ, আপা ফুলের মালা, গণভোটের গণরায়

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ