সিলেটে ১১ দলীয় জোটের সমাবেশে সরকারকে কড়া বার্তা শফিকুর–নাহিদ–মামুনুলদের
রাজনীতি
প্রকাশঃ ২৫ জুলাই, ২০২৬ ৭:৪৮ অপরাহ্ন
ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেছেন, ‘জুলাই আমাদের জাতীয় জীবন তথা এই অঞ্চলের রাজনৈতিক-সামাজিক আন্দোলনের ইতিহাসের এক অভিনব, এক অভূতপূর্ব, অবিস্মরণীয় আন্দোলনের নাম ছিল। যে আন্দোলনে কোলের শিশু থেকে একশ বছরের বৃদ্ধরা পর্যন্ত নিজেদের সম্মান-মর্যাদা রক্ষা, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে অটুট রাখা, আধিপত্যবাদের হাত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করে বাংলাদেশে ইনসাফের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্যে একযোগে শিশু-কিশোর, তরুণ-যুবক, আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা—এরকম একযোগে আন্দোলনে নামার ইতিহাস পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল ঘটনা।’
শনিবার বিকেলে সিলেটে ১১ দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘এই আন্দোলন যারা করেছিলেন, তাদের সকলের একটাই মূল দাবি ছিল সেটি ছিল ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’। আমরা আমাদের সমাজের সর্বস্তরে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলাম, ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এই আন্দোলনের সবচেয়ে বড় বেনিফিশিয়ারি আজকের ক্ষমতাসীন দল। এই আন্দোলনের সবচেয়ে বড় বেনিফিট পাওয়ার পর পৃথিবীর ইতিহাসে সবচাইতে বড় একটি অকৃতজ্ঞ দলে পরিণত হতে যাচ্ছে। পৃথিবীর ইতিহাসে তারা একটি গাদ্দার রাজনৈতিক দল হিসেবে হয়তোবা স্বীকৃতি পাবে; তারা হয়তোবা একদিন ‘আফসোস পার্টির স্বীকৃতি পাবে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসের এত বড় ঐক্য জাতীয় জীবনে আমরা আর দেখিনি। এই ঐক্যকে বিভাজিত করে একতরফাভাবে পুরাতন প্রতিবাদকে আঁকড়ে ধরার লক্ষ্যে, দুর্নীতি-ঘুষ-অপরাজনীতিকে আঁকড়ে ধরার লক্ষ্যে এবং কোন বিশেষ মহলের কাছে দাসত্ব দিয়ে তাদের সমর্থন আদায় করে ভোটে পাস করার কোন ষড়যন্ত্র হয়েছে কিনা, জাতি বিএনপির কাছে সেটি জানতে চায়।’
সেলিম বলেন, ‘আজকে আপনারা বলেন—ওয়াদা লঙ্ঘন করলে ওয়াদা লঙ্ঘনকারী সে দ্বীনদার নয়, সে বেদিন। এটা তো ভোটের সময় হাদিস শোনালেন। আপনাদের ইশতেহারের এক নাম্বারে আছে; আপনারা পাস করলে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করবেন। আপনারা বলেন ৫১ শতাংশ লোক আপনাদেরকে ভোট দিয়েছে। তো তারা তো আপনাদের এই দফাকেও ভোট দিয়েছে। তাহলে জাতির সাথে বেইমানি করে এখন সংস্কারের পরিবর্তে সংশোধনের কথা বলে জাতির সাথে কেন প্রতারণা করছেন।’
তিনি বলেন, আপনারা তো পৃথিবীর, বাংলাদেশের সবচাইতে বড় প্রতারক শক্তি হতে চলেছেন। সংগ্রামী ভাইয়েরা আমার, বিএনপি সবই করবে। বিএনপির একটা চরিত্র হলো—ওরা ঘোলা পানিতে, স্বচ্ছ পানি তারা পছন্দ করে না। ঘোলা পানি খেতে চায়।
বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, একসময় কেয়ারটেকারের কথা বলা হলে বলেছিল, ‘শিশু আর পাগল ছাড়া কেয়ারটেকার নেই। এখন বিএনপি সবচাইতে ভালো কেয়ারটেকার বোঝে। কিছুদিন আগে আমরা বলেছিলাম, “এই চুপ্পু সাহেবকে রাখবেন না। আপনাদের জন্য, দেশের জন্য ১২টা বাজবে। হাসি হাসি বলেছিলেন, “সাংবিধানিক সংকট হবে।”
সেলিম উদ্দিন বলেন, এখন ঠিকই চুপ্পু সাব যখন টুটি চেপে ধরার পর্যায়ে চলে গেছেন, তখন আবার ঘোলা পানিতে মাছ শিকার। এখন চুপ্পু সাবকে বিদায় দিয়েছেন। আপনারা জুলাই মানবেন। ডাক্তার শফিকুর রহমান সাহেবের নেতৃত্বে ১১ দলীয় ঐক্য জুলাইয়ের ঘোষণা যেদিন দেবেন, সেদিন পায়ে ধরে জুলাই আপনারা মানবেন। জুলাই আপনাদেরকে মানতেই হবে। আর না হলে একশ বছরের জন্য বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে আপনাদেরকে এবান্ডেড ঘোষণা করা হবে। এই দেশের রাজনীতিতে আপনারা স্থান পাবেন না।
তিনি বলেন, সংগ্রামী সিলেটবাসী, আন্দোলন সংগ্রামের অন্যতম সূতিকাগার সিলেট। আরেকটা জুলাইয়ের ডাক যদি ডাক্তার শফিকুর রহমান খুলনার জনসভায় বলেছেন—আরেকটা অনিবার্য বিপ্লবের ডাক তিনি দিতে পারেন। সেই ডাক দিলে সিলেটের নাগরিক হিসেবে সারা বাংলাদেশের মধ্যে সিলেটে আন্দোলনকে সফল করার জন্য সবাইকে নিয়ে রাজপথে আসতে আপনারা তৈরি আছেন? কারা কারা তৈরি আছেন, একটু হাত তুলে দেখান। ইনশাআল্লাহ! স্লোগান পরিষ্কার। সবাই একসাথে স্লোগান ধরব। আবু সাঈদ, মুগ্ধ; শেষ হয়নি যুদ্ধ! আপস না সংগ্রাম? সংগ্রাম, সংগ্রাম! সংগ্রাম চলবে আমাদের আন্দোলনের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত। সবাইকে সংগ্রামী সালাম এবং শুভেচ্ছা জানিয়ে আমার কথা এখানেই শেষ করছি।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিচারের দাবিতে রাজশাহী থেকে শুরু হওয়া ১১ দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশ কর্মসূচির সমাপনী আয়োজন ছিল সিলেটের এ সমাবেশ।
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুমিনুল হকসহ ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতারা।
সেলিম উদ্দিন, জামায়াতে ইসলামী, ১১ দলীয় জোট, সিলেট সমাবেশ, জুলাই আন্দোলন