১২ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত ৪৯.২ মিমি, সিলেটে ফের বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা
প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ
প্রকাশঃ ৩ জুন, ২০২৫ ৮:৩১ অপরাহ্ন
সিলেটের বিয়ানীবাজারে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে কুশিয়ারা নদীর পানি বেড়িবাঁধ ভেঙে পড়ায় উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ জুন) দিবাগত রাতে অল্প বৃষ্টি হলেও বুধবার (৩ জুন) সারাদিন বৃষ্টিবিহীন ছিল। তারপরও আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি।
বিয়ানীবাজারের শেওলা পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার ৪৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উপজেলার দুবাগ, শেওলা, কুড়ারবাজার, মুড়িয়া, মাথিউরা, তিলপাড়া ও পৌরসভার কিছু অংশে রাস্তাঘাট, হাটবাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ি প্লাবিত হয়েছে।
শেওলা ইউনিয়নের বালিঙ্গা এলাকায় কুশিয়ারা নদীর বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকেছে। এছাড়া কাকরদিয়া, তেরাদল ও আলগাট্টা এলাকায় বেড়িবাঁধের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় ডুবে গেছে ফসলি জমি ও বসতঘর।
অন্যদিকে, দুবাগ ইউনিয়নের গজুকাটা এলাকার বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সেখানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা বালুভর্তি বস্তা ফেলে সাময়িকভাবে মেরামতের কাজ করলেও পানির চাপে যে কোনো সময় বাঁধটি ভেঙে যেতে পারে। একই অবস্থা দুবাগ বাজারের বাঁধেও দেখা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বন্যায় উপজেলার প্রায় সাতটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে। খামারিদের পুকুরের মাছ ভেসে গেছে, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে প্রায় ৫০০ কাঁচা ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গোলাম মুস্তাফা মুন্না বলেন, 'বন্যার আশঙ্কায় ৬৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিতরণের জন্য ৪৪ মেট্রিক টন চাল, ৫০ হাজার টাকা ও ১৪৫ প্যাকেট শুকনো খাবার মজুত রয়েছে। প্রকৃত বন্যার্তদের মধ্যেই ত্রাণ বিতরণ করা হবে।'
এদিকে, বৈরাগীবাজারের মূল বাজার এলাকা ও সবজি-মাছের বাজার ইতিমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে। সিলেট-বিয়ানীবাজার মহাসড়কের আঙ্গারজুর এলাকার উপর দিয়েও প্রবাহিত হচ্ছে পানি। কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
এছাড়াও বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার রক্ষায় সোয়া কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এ বিষয়ে ইউএনও জানান, আপদকালীন জরুরি কাজ বিবেচনায় বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের সুপারিশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী প্রকল্পগুলো অনুমোদন দিয়েছেন।
বিয়ানীবাজার বন্যা, কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি, বেড়িবাঁধ ভাঙন