১৭ জুলাই ২০২৬

তথ্যপ্রযুক্তি-শিক্ষা / ক্যাম্পাস

জুলাই শহীদ দিবসে বৈষম্যহীন ক্যাম্পাস গড়ার অঙ্গীকার শাবিপ্রবি উপাচার্যের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ১৬ জুলাই, ২০২৬ ৪:৪৬ অপরাহ্ন


শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসকে সম্পূর্ণ বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও মেধাভিত্তিক শিক্ষার্থীবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে যথাযথ মর্যাদায় পালিত ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই ঘোষণা দেন।

দিবসটি উপলক্ষে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা কালো ব্যাজ ধারণ করেন এবং একটি র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালি শেষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপাচার্য।

বক্তব্যের শুরুতে উপাচার্য ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, সেই রক্তঝরা দিনগুলোর কথা মনে পড়লে আজও আমাদের বুক কেঁপে ওঠে, আবার একই সাথে এক বুক গর্বে মাথা উঁচু হয়ে যায়। আজ আমরা পরম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি সেই সব সাহসী বীর সন্তানদের, যারা শোষণ, বৈষম্য আর স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে বুক পেতে দিয়ে আমাদের একটি নতুন স্বাধীন মানচিত্র, একটি বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ উপহার দিয়েছেন।

তিনি রংপুরে শহীদ আবু সাঈদ, চট্টগ্রাম কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ওয়াসিম আকরাম ও অন্যান্য শহীদদের মহান আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরে বলেন, তাঁদের রক্তে রচিত প্রতিরোধের ভাষা সে সময় দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। এই আত্মত্যাগই আন্দোলনকে নতুন গতি দিয়ে গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বৈরাচারের পতন নিশ্চিত করেছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় তিনি আন্দোলনের অন্যতম শহীদ ও শাবিপ্রবির প্রিয় শিক্ষার্থী রুদ্র সেনের অবদানের কথাও বিশেষভাবে স্মরণ করেন এবং আন্দোলনে আহত ও পঙ্গুত্ব বরণকারীদের প্রতি সহানুভূতি ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

গণঅভ্যুত্থানকে কোনো একক ব্যক্তি, দল বা মতাদর্শের অর্জন নয় বরং সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত সংগ্রামের ফল হিসেবে বর্ণনা করে উপাচার্য বলেন, এটি বৈষম্য ও অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সর্বস্তরের সম্মিলিত অর্জন। ছাত্র-জনতার এই ঐতিহাসিক লড়াই প্রমাণ করেছে যে, বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ হলে যেকোনো অসম্ভবকে জয় করা সম্ভব।

শাবিপ্রবিকে মুক্তচিন্তা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রামের ঐতিহাসিক ক্যাম্পাস আখ্যা দিয়ে উপাচার্য জানান, বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্পূর্ণ বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থীর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত থাকবে। শহীদদের স্বপ্নের বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের অংশ হিসেবে একাডেমিক উৎকর্ষ অর্জনের পাশাপাশি মুক্ত ও আধুনিক গবেষণার পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর প্রতিভা বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করার কথাও জানান তিনি।

বক্তব্যের শেষে তিনি সবাইকে শপথ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন, আজ এই জুলাই শহীদ দিবসে আমরা সবাই মিলে শপথ নেই শহীদদের রক্ত আমরা বৃথা যেতে দেব না। তাঁদের স্বপ্নের সেই নতুন বাংলাদেশ ও একটি আদর্শ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাব।


আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোঃ ইসমাইল হোসেন। সভাপতিত্ব করেন জুলাই শহীদ দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মোঃ আহমদ কবির চৌধুরী এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন রেজিস্ট্রার সৈয়দ ছলিম মোহাম্মদ আব্দুল কাদির।

এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, প্রক্টর অধ্যাপক মোঃ মোখলেসুর রহমান, গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ আশরাফ উদ্দিন, সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক মুহ. মিজানুর রহমান, পলিটিক্যাল স্ট্যাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ নজরুল ইসলাম, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ কামরুল ইসলাম, পলিটিক্যাল স্ট্যাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. দিলারা রহমান, নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ফ ম জাকারিয়া, পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. খালিদুর রহমান, গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. রেজোয়ান আহমদ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক আহমদ মাহবুব ফেরদৌসী এবং অতিরিক্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মখলিছুর রহমান পারভেজ।

সভায় উপস্থিত ছিলেন শহীদ সাংবাদিক এটিএম তুরাবের ভাই আবুল আজরফ আহসান জাবুর, শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাহাত জামান, ইসলামী ছাত্রশিবির শাবিপ্রবি শাখার সভাপতি মাসুদ রানা তুহিন, জাতীয় ছাত্রশক্তি শাবিপ্রবি শাখার আহ্বায়ক রশিদ আবরার, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ফয়সাল হোসেন ও মাহাবুল ইসলাম পবন, শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মোঃ সোহাগ ও সাংগঠনিক সম্পাদক আদনান মোহন, জাতীয় ছাত্রশক্তি শাবিপ্রবি শাখার সদস্য সচিব রিয়াজ হোসেন রিমন, সহায়ক পরিবহন সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম এবং কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাবেদ আহমেদ।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার ও উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব মোঃ ফয়ছল আহমেদ।


শেয়ার করুনঃ

তথ্যপ্রযুক্তি-শিক্ষা থেকে আরো পড়ুন

সিলেট, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, শাবিপ্রবি, জুলাই শহিদ দিবস

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ