১২ জুলাই ২০২৬

ধর্ম / ইসলাম

শুধু অর্থ নয়, হিসাবের আওতায় আনা হবে সব ধরনের দান: কাইয়ুম চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ১১ জুলাই, ২০২৬ ২:৪৪ অপরাহ্ন


হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে শুধু দানবাক্সে জমা হওয়া নগদ অর্থ নয়, ভবিষ্যতে সব ধরনের দানের পৃথক হিসাব সংরক্ষণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি বলেন, মাজারে দান করা গরু, ছাগল কিংবা অন্য যেকোনো মূল্যবান সামগ্রীও হিসাবের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে দানবাক্সের অর্থ ভবিষ্যতে প্রকাশ্যে গণনা করা হবে কি না, সে বিষয়ে আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠেয় উচ্চপর্যায়ের কমিটির সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


শনিবার (১১ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হযরত শাহজালাল (রহ.)–এর মাজার প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে দানবাক্সের টাকা গণনা কার্যক্রম পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন সিটি প্রশাসক।


আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, প্রকাশ্যে দানবাক্সের টাকা গণনা করাই স্বচ্ছতার জন্য উপযুক্ত। তিনি বলেন, “যেহেতু আমরা এই প্রক্রিয়াটি শুরু করেছি, তাই আগামী বৃহস্পতিবারের সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। ভবিষ্যতে দানবাক্সের টাকা প্রকাশ্যে গণনা করা হবে, নাকি কমিটির মাধ্যমে হবে—সেই সিদ্ধান্ত সভাতেই নেওয়া হবে।”


দান ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে তিনি বলেন, “শুধু টাকার হিসাব রাখলে হবে না। কতটি গরু, কতটি ছাগল কিংবা অন্য কোনো মূল্যবান সামগ্রী দান করা হয়েছে, সেগুলোরও পূর্ণাঙ্গ হিসাব সংরক্ষণ করা হবে। সব ধরনের দানকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা হবে।”


সিটি প্রশাসক জানান, মাজার পরিচালনার জন্য গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি এখনো দান ব্যবস্থাপনার চূড়ান্ত নীতিমালা প্রণয়ন করেনি। তবে এ বিষয়ে কাজ চলছে। তিনি বলেন, “আমাদের কমিটির মেয়াদ এক মাস। আগামী বৃহস্পতিবার আবার সভায় বসব। ওই সভায় দানের অর্থের ব্যবস্থাপনা, মাজারের ব্যয় নির্বাহ, উদ্বৃত্ত অর্থের ব্যবহার এবং সার্বিক পরিচালনা নিয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।”


তিনি আরও জানান, নীতিমালা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত দানবাক্সের অর্থ থেকে নিয়মিত কোনো ব্যয় করা হচ্ছে না। আগে খাদেমদের মজুরি, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পারিশ্রমিক, লঙ্গরখানার ব্যয়সহ বিভিন্ন খাতে এই অর্থ ব্যবহার করা হলেও আপাতত সেসব ব্যয় স্থগিত রাখা হয়েছে।


আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “আজ প্রায় দুই সপ্তাহ পর দানবাক্সের টাকা গণনা করা হচ্ছে। আগামী বৈঠকে শুধু টাকা গণনার বিষয় নয়, পুরো দান ব্যবস্থাপনা কীভাবে পরিচালিত হবে, উদ্বৃত্ত অর্থ কীভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবহৃত হবে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এরপর সেই সিদ্ধান্ত সিলেটবাসী এবং দেশ-বিদেশে থাকা হযরত শাহজালাল (রহ.)–এর ভক্তদের গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানানো হবে।”


শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মাজারের দানবাক্স খুলে প্রকাশ্যে টাকা গণনা শুরু হয়। মাজারের প্রায় ৭০০ বছরের ইতিহাসে এটি দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে দানবাক্সের অর্থ গণনার উদ্যোগ। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।


শেয়ার করুনঃ

ধর্ম থেকে আরো পড়ুন

হযরত শাহজালাল মাজার, সিলেট, দানবাক্স, আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, মাজার পরিচালনা কমিটি, দান ব্যবস্থাপনা, প্রকাশ্যে টাকা গণনা, নীতিমালা, লঙ্গরখানা, সিলেট সিটি করপোরেশন

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ