এহসানুল মাহবুব জুবায়ের
‘নদী কমিশন ভারতের সাথে আমাদের অধিকার আদায়ে কার্যকর মিটিং করতে পারে না’
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ১১ জুলাই, ২০২৬ ৭:৫৪ অপরাহ্ন
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের রুপচেং উত্তর মহল্লায় তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ ফারজানা আক্তার শিমু (২৩) এর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নির্যাতনের অভিযোগ তুলে নিহতের স্বামী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তার পরিবার। ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামী রাসেল আহমদ (২৮) ও তার মাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) সকালে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিমু উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের কমলাবাড়ি গ্রামের সেলিম আহমদের মেয়ে। তার স্বামীর বাড়ি একই ইউনিয়নের রুপচেং উত্তর মহল্লায়।
নিহতের বাবা সেলিম আহমদ অভিযোগ করেন, প্রায় ছয় মাস আগে রাসেল আহমদের সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবি, মানসিক নির্যাতন এবং বিভিন্ন বিষয়—বিশেষ করে ইফতারের সামগ্রী, সম্প্রতি দেওয়া আম-কাঁঠাল এবং বাড়ি নির্মাণের জন্য টাকা চেয়ে মেয়েকে বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হতো। এসব বিষয় নিয়ে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের সঙ্গে প্রায়ই পারিবারিক কলহ হতো বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি জানান, গত ৬ জুলাই অসুস্থ হয়ে পড়লে শিমুকে তাঁর স্বামী ও শাশুড়ি জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে দুই পরিবারের মধ্যে মতবিরোধের পর শিমু বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে চিকিৎসা শেষে গত ১০ জুলাই বিকেলে দুই পরিবারের সম্মতিতে তাঁকে আবার শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, শনিবার সকাল ৯টার দিকে রাসেল আহমদ ফোন করে জানান, শিমু ঘরের দরজা বন্ধ করে গলায় ফাঁস দিয়েছেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে গেলে তাদের দাবি, প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর শিমুকে সেখানে আনা হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জৈন্তাপুর মডেল থানাকে জানালে পুলিশ হাসপাতালে ও পরে ঘটনাস্থলে যায়।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, তাদের জানানো হয়েছে শিমু তার স্বামীর চাচার বসতঘরে গলায় ফাঁস দেন। তবে তাঁরা ঘটনাটিকে সন্দেহজনক দাবি করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলে পারিবারিক সূত্র জানা গেছে। অন্যদিকে, শ্বশুরবাড়ির পক্ষ নিহতের পরিবারের আনা নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে রাসেল আহমদের বসতঘরের একটি কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় শিমুকে ঝুলতে দেখা যায় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জৈন্তাপুর, রহস্যজনক মৃত্যু, অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ, সিলেট, পুলিশ তদন্ত