১২ জুলাই ২০২৬

প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ / দুর্যোগ

কুশিয়ারার পানি বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার ওপরে, সুনামগঞ্জে বন্যার শঙ্কা

প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ

প্রকাশঃ ১১ জুলাই, ২০২৬ ২:২৯ অপরাহ্ন


ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর টানা বৃষ্টিতে আবারও বন্যার শঙ্কায় সুনামগঞ্জ। জেলার কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। একই সঙ্গে সুরমা, বৌলাই, যাদুকাটাসহ ছোট-বড় প্রায় সব নদ-নদীর পানিও বাড়ছে। নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন সড়ক ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে।


এদিকে আগামী দুই দিন এমন বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকলে জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।


সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ৯টায় জেলার কুশিয়ারা নদীর পানি ৭ দশমিক ২২ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল, যা বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার ওপরে। ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ৮ সেন্টিমিটার বেড়ে বর্তমানে বিপৎসীমার ২৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।


তবে সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি কিছুটা কমেছে। সেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় পানির উচ্চতা ৭ সেন্টিমিটার কমে বর্তমানে বিপৎসীমার ৫৬ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। যদিও উজান থেকে নতুন করে ঢল নামতে থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


খোঁজ নিয়ে জানা যায় সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, দোয়ারাবাজার, ছাতক ও ধর্মপাশাসহ কয়েকটি উপজেলার নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। অনেক গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। তাহিরপুর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ আনোয়ারপুর সড়ক সম্পূর্ণ পানির নিচে চলে যাওয়ায় ওই এলাকার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অনেক কৃষক জানান, নিচু জমিতে রোপণ করা আমনের বীজতলা ও শাকসবজির ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


এদিকে বর্ষার শুরুতেই নদ-নদীর পানি এভাবে বাড়তে থাকায় উদ্বিগ্ন সুনামগঞ্জ শহরের পুরোনো বাসিন্দারা। কয়েক দিন আগেও যেসব এলাকায় পানি ছিল না, সেখানে এখন ধীরে ধীরে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। বিশেষ করে নদীতীরবর্তী বসতিগুলোতে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।


সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমদাদুল হক বলেন, ‘আগামী ৪৮ ঘণ্টা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার পাশাপাশি কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ কারণে ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাবে জেলার সুরমা, কুশিয়ারা, যাদুকাটা, রক্তীসহ প্রধান নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে।’


তিনি আরও বলেন, ‘নদ-নদীর পানির উচ্চতা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জানানো হবে।’


এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে আগামী দুই দিন মাঝারি থেকে ভারী এবং কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে উজানের ঢল আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।


শেয়ার করুনঃ

প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ থেকে আরো পড়ুন

সুনামগঞ্জ, কুশিয়ারা নদী, সুরমা নদী, পাহাড়ি ঢল, বন্যার শঙ্কা, ভারী বৃষ্টি, মেঘালয়, পানি উন্নয়ন বোর্ড, নদীর পানি বৃদ্ধি, তাহিরপুর, সিলেট বিভাগ, আকস্মিক বন্যা

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ