১১ জুলাই ২০২৬

দৈনন্দিন / দিবস

সাবেক স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক 

প্রকাশঃ ১০ জুলাই, ২০২৬ ২:৫২ অপরাহ্ন

ছবিঃ সাবেক স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী

জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার, বরেণ্য কূটনীতিক এবং বৃহত্তর সিলেটের কৃতী সন্তান হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ, ১০ জুলাই। ২০০১ সালের এই দিনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় ৭২ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে তাকে সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার সংলগ্ন কবরস্থানে দাফন করা হয়।

১৯২৮ সালের ১১ নভেম্বর সিলেট শহরের দরগা গেইট এলাকার রশিদ মঞ্জিলে জন্মগ্রহণ করেন হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। তার পিতা আব্দুর রশিদ চৌধুরী ছিলেন অবিভক্ত ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা পরিষদের সদস্য এবং মাতা সিরাজুনন্নেসা চৌধুরী ছিলেন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য।

শিক্ষাজীবনে তিনি সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা ও আসামে মাধ্যমিক শিক্ষা শেষে ১৯৪৭ সালে ভারতের আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ইংল্যান্ডের ইনার টেম্পলের সদস্য হন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনীতি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।

১৯৫৩ সালে তৎকালীন পাকিস্তানের পররাষ্ট্র বিভাগে যোগদানের মাধ্যমে তার কর্মজীবনের সূচনা। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি কূটনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ মিশনের প্রধান হিসেবে ১৯৭১ সালের ৫ ডিসেম্বর ভারতের সংসদে ভাষণ দেন এবং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনে বিভিন্ন দেশে কূটনৈতিক তৎপরতা চালান।

স্বাধীনতার পর তিনি পশ্চিম জার্মানিতে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া ও ভ্যাটিকানে রাষ্ট্রদূত, পররাষ্ট্রসচিব এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। ১৯৮৫ সালে তিনি জাতিসংঘের ৪১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা আরও উজ্জ্বল করেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর জার্মানিতে নিজের বাসভবনে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের আশ্রয় দিয়ে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

রাজনীতিতে তিনি সিলেট-১ (সদর–কোম্পানীগঞ্জ) আসন থেকে তিনবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের ১৪ জুলাই সর্বসম্মতিক্রমে জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেন।

বাংলা, ইংরেজি, উর্দু, ফরাসি ও ইতালীয় ভাষায় সাবলীল এই কূটনীতিক আরবি, স্প্যানিশ, পর্তুগিজ, জার্মান ও ইন্দোনেশীয় ভাষাতেও দক্ষ ছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৮ সালে তাকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করা হয়।


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

সিলেট, হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, মৃত্যুবার্ষিকী, রাষ্ট্রদূত

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ