নদীর পানি বাড়ছে, সুনামগঞ্জে বন্যার শঙ্কা
প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ
প্রকাশঃ ৮ জুলাই, ২০২৬ ৪:২২ অপরাহ্ন
বর্ষা মানেই সিলেটের প্রকৃতির নতুন সাজ। টানা বৃষ্টিতে পাহাড়, নদী, জলাবন, চা-বাগান ও ঝরনাগুলো যেন ফিরে পায় প্রাণ। তাই বর্ষায় সিলেট ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন হাজারো পর্যটক। বছরের অন্য সময়ের তুলনায় এ মৌসুমেই সিলেটের প্রকৃত সৌন্দর্য সবচেয়ে বেশি উপভোগ করা যায়।
আপনি যদি বর্ষায় সিলেট ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তাহলে অবশ্যই ঘুরে আসুন রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট, সাদা পাথর এবং লালাখাল। এই তিনটি পর্যটনকেন্দ্র বর্ষাকালে ধারণ করে ভিন্ন এক সৌন্দর্য, যা অন্য মৌসুমে পুরোপুরি উপভোগ করা সম্ভব নয়।
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার রাতারগুল বাংলাদেশের একমাত্র স্বীকৃত স্বাদুপানির জলাবন (সোয়াম্প ফরেস্ট)। বর্ষায় বনটির অধিকাংশ অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। তখন ছোট ডিঙি নৌকায় গাছের ফাঁক দিয়ে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা পর্যটকদের জন্য হয়ে ওঠে স্মরণীয়।
'বাংলার আমাজন' নামে পরিচিত রাতারগুলে বর্ষাকালে হিজল, করচ, মুর্তা ও বেতগাছ পানিতে ডুবে থাকে। চারপাশের নীরবতা, সবুজ বন আর স্বচ্ছ জলরাশি মিলে তৈরি করে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ।
তবে বর্ষায় রাতারগুল ভ্রমণের সময় সতর্ক থাকা জরুরি। কারণ বনের বিভিন্ন গাছে সাপের অবস্থান দেখা যায়। তাই লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার এবং স্থানীয় মাঝির পরামর্শ মেনে চলাই নিরাপদ।
সিলেট নগরীর আম্বরখানা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় গোয়াইনঘাট পৌঁছে রাতারগুল বিট অফিসে যেতে হবে। এরপর নৌকায় করে জলাবনের ভেতরে প্রবেশ করা যায়। বর্ষা মৌসুমে এ পথই সবচেয়ে জনপ্রিয়।
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর বর্ষায় সবচেয়ে বেশি প্রাণ ফিরে পায়। সীমান্তের পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝরনার পানি ধলাই নদীতে মিশে তৈরি করে দৃষ্টিনন্দন জলধারা। নদীর বুকে ছড়িয়ে থাকা সাদা পাথর আর সবুজ পাহাড় মিলিয়ে এখানকার সৌন্দর্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে।
বর্ষাকালে নদীতে পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় ট্রলারে করে সাদা পাথর ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা আরও উপভোগ্য হয়ে ওঠে। অনেকেই প্রথম দেখায় সাদা পাথরকে বিছনাকান্দি ভেবে ভুল করেন।
সিলেট শহরের আম্বরখানা থেকে কোম্পানীগঞ্জের টুকের বাজারে পৌঁছে ট্রলারে করে সাদা পাথর যাওয়া যায়। দলবেঁধে গেলে নৌকা ভাড়ার খরচ তুলনামূলক কম পড়ে।
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার লালাখাল বর্ষাকালের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। ভারতের চেরাপুঞ্জি পাহাড় থেকে নেমে আসা নদীটি পাহাড়, চা-বাগান ও বনাঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
বর্ষায় পাহাড়ি ঢলের কারণে নদীর পানির রং কিছুটা পরিবর্তিত হলেও চারপাশের সবুজ প্রকৃতি ও পাহাড়ি দৃশ্য লালাখালকে করে তোলে আরও আকর্ষণীয়। নৌকায় ভ্রমণ করে সীমান্তঘেঁষা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করেন পর্যটকরা।
সিলেট নগরী থেকে সারিঘাট হয়ে সড়কপথে অথবা নৌপথে সহজেই লালাখালে পৌঁছানো যায়। সেখানে নৌকা ভাড়া করে নদীপথে ঘুরে দেখা যায় আশপাশের মনোরম পরিবেশ।
বর্ষায় সিলেটের প্রকৃতি এক ভিন্ন রূপে ধরা দেয়। রাতারগুলের জলাবন, সাদা পাথরের স্বচ্ছ জলধারা, লালাখালের পাহাড়ঘেরা নদী, চা-বাগানের সবুজ আর মেঘে ঢাকা পাহাড় মিলিয়ে এ সময়ের সিলেট হয়ে ওঠে প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক স্বর্গরাজ্য। তাই প্রকৃতির সবচেয়ে সুন্দর রূপ দেখতে চাইলে বর্ষাই হতে পারে সিলেট ভ্রমণের সেরা সময়।
বর্ষায় সিলেট, সিলেট ভ্রমণ, রাতারগুল, রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট, সাদা পাথর, লালাখাল, সিলেট পর্যটন