১৬ জুলাই ২০২৬

দৈনন্দিন / গ্রামবাংলা

সরকারের অপেক্ষায় নয়, নিজেদের উদ্যোগে রাস্তা সংস্কার করলেন তরুণরা

প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার

প্রকাশঃ ২ জুলাই, ২০২৬ ১:৫৪ অপরাহ্ন


সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় না থেকে চাঁদা সংগ্রহ ও স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে গ্রামের দুটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা সংস্কার করেছেন মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল ইউনিয়নের সিংগুর গ্রামের একদল তরুণ। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশে সিমেন্ট-কংক্রিটের (সিসি) ঢালাইও দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এ উদ্যোগে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।


এর আগে একই তরুণদের সংগঠন হাকালুকি হাওরে কৃষকদের জন্য ‘কৃষকছাউনি’ নির্মাণ করে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিল।


স্থানীয় বাসিন্দা ও সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুলাউড়া-ভাটেরা সড়কের পাশে অবস্থিত সিংগুর গ্রামে প্রায় ১০ হাজার মানুষের বসবাস। পাকা সড়ক থেকে গ্রামে প্রবেশের দুটি রাস্তা প্রায় ১০ থেকে ১৫ বছর আগে সরকারি উদ্যোগে ইট বসিয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে রাস্তা ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। বর্ষাকালে এসব গর্তে পানি জমে কৃষকসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো।


এ অবস্থায় গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ কমাতে ‘পূর্ব সিংগুর নতুন কুঁড়ি ক্লাব’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। সংগঠনের সদস্যরা এলাকার প্রবাসী ও সচ্ছল ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রায় এক লাখ টাকা চাঁদা সংগ্রহ করেন। ওই অর্থে ইট, বালুসহ প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রী কেনা হয়।


গত জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হওয়া সংস্কারকাজে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত ৩০ থেকে ৪০ জন সদস্য পালাক্রমে স্বেচ্ছাশ্রম দেন। বুধবার কাজ শেষ হয়। এ সময় পাকা সড়ক থেকে গ্রামে প্রবেশের সংযোগস্থলের প্রায় ৩০০ ফুট এলাকায় সিমেন্ট-কংক্রিটের ঢালাইও দেওয়া হয়েছে।


সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বশির আল ফেরদাউস বলেন, রাস্তা সংস্কারের কাজ শেষ হলেও এখন রাস্তার দুই পাশের ভরাট হয়ে যাওয়া ড্রেন পরিষ্কারের কাজ করা হবে। তিনি জানান, বোরো মৌসুমে কৃষকেরা এই দুটি রাস্তা ব্যবহার করে হাকালুকি হাওরের জমিতে যাতায়াত করেন। তবে পর্যাপ্ত পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে রাস্তা তলিয়ে যায়। 


এছাড়া কয়েকটি স্থানে প্রতিরক্ষাব্যবস্থা না থাকায় বর্ষাকালে পানির স্রোতে রাস্তা ভেঙে পড়ে। তাই রাস্তা টেকসই করতে সরকারি উদ্যোগে দুটি কালভার্ট ও প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণের দাবি জানান তিনি।


বরমচাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোরশেদ আহমদ খান বলেন, স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা সংস্কারের বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। এলাকাবাসী যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা আক্তার বলেন, স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সংগঠন বা এলাকাবাসী যোগাযোগ করলে সিংগুর গ্রামের রাস্তার পানিনিষ্কাশন ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

রাস্তা সংস্কার, সিংগুর গ্রাম, পূর্ব সিংগুর নতুন কুঁড়ি ক্লাব, স্বেচ্ছাশ্রম, কুলাউড়া

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ