শ্রীমঙ্গলে প্রশাসনের নির্দেশে ৩ দিন পর ফের শুরু সড়ক নির্মাণকাজ
অনিয়ম-দুর্নীতি
প্রকাশঃ ১ জুলাই, ২০২৬ ১২:৩৫ অপরাহ্ন
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নে প্রায় ৪ কোটি টাকার একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের নির্মাণকাজ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, নির্ধারিত মানের পরিবর্তে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করায় সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন তারা। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কালিঘাট–মনু–দলই সার্কুলার সড়ক সংস্কারের জন্য ৪ কোটি ৫ লাখ ২২ হাজার ৮৪৬ টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি কার্যাদেশ জারি করা হয়। প্রকল্পটির কাজ শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৭ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
স্থানীয়দের ভাষ্য, হোসেনাবাদ–বিলাসছড়া সড়কটি আশিদ্রোন ও কালিঘাট ইউনিয়নের সাতটি চা-বাগান এলাকার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। প্রতিদিন কয়েক হাজার চা-শ্রমিকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন এই সড়ক ব্যবহার করে। তাই নিম্নমানের কাজ হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির পাশাপাশি সরকারি অর্থও অপচয় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, প্রকল্পে উন্নতমানের বালু, পাথর ও খোয়া ব্যবহারের কথা থাকলেও বাস্তবে নিম্নমানের বালু, রাবিশ, পুরোনো ইটের খোয়া ও পাথরের গুঁড়া ব্যবহার করা হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, এলজিইডির পর্যাপ্ত তদারকির অভাবে নির্ধারিত মান অনুসরণ না করেই কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কোথাও কোথাও খোয়া ও বালুর পরিবর্তে মাটিও ব্যবহার করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
হোসেনাবাদ পানপুঞ্জির মন্ত্রী (পুঞ্জি প্রধান) ওয়েল সুরং বলেন, নিয়মিত তদারকি না থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজেদের মতো করে কাজ করছে। তার অভিযোগ, প্রয়োজনীয় রড, সিমেন্ট ও পাথর ব্যবহার না করায় নির্মাণকাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
একই ধরনের অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দা শাহিন মিয়া। তিনি বলেন, কাজ শুরুর পর থেকেই অনিয়ম চলছে। এতে সড়কটির দীর্ঘস্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিনোদ তাঁতি, সঞ্জয় মুন্ডাসহ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সিসি ঢালাইয়ের কাজে অনিয়মের অভিযোগে এলাকাবাসী একপর্যায়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন। পরে বিষয়টি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।
তবে এসব অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সানি এন্টারপ্রাইজ-এর স্বত্বাধিকারী মো. হাসানুজ্জামান। তিনি বলেন, যে ইট নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, সেগুলো সরকারি সেলভেজ মালামাল। টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী প্রায় ৭৫ লাখ টাকা দিয়ে সেগুলো কেনা হয়েছে এবং খোয়া হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। নতুন অংশে কোনো সমস্যা নেই। পুরোনো অংশে কিছু ত্রুটি ছিল, সেগুলো ইতোমধ্যে সংশোধন করা হয়েছে।
এলজিইডির কার্যসহকারী আবু বকর সিদ্দিক বলেন, কাজ শিডিউল অনুযায়ীই হচ্ছে। তবে সেলভেজ ইট ব্যবহারের কারণে কিছু ক্ষেত্রে নির্মাণমান তুলনামূলক কম হতে পারে।
উপ-সহকারী প্রকৌশলী সঞ্জয় পণ্ডিত বলেন, প্রকল্পের মোট ব্যয় ৪ কোটি ৫ লাখ ২২ হাজার ৮৪৬ টাকা হলেও সেলভেজ সামগ্রীর বাবদ প্রায় ৭৫ লাখ টাকা সরকারি তহবিলে জমা হবে। সে হিসাবে প্রকল্পের প্রকৃত ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা। তিনি বলেন, পুরো প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ হয়েছে—এমন অভিযোগ সঠিক নয়। তবে কোথাও কোথাও কিছু ত্রুটি থাকতে পারে।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. আব্দুর রাকিব বলেন, অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হবে। তদন্তে কোথাও নিম্নমানের কাজের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে। এলজিইডির কর্মকর্তাদের দিয়ে তদন্ত করা হবে। তদন্তে অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শ্রীমঙ্গল সড়ক প্রকল্প, শ্রীমঙ্গল এলজিইডি, মৌলভীবাজার সড়ক উন্নয়ন, সড়ক নির্মাণে অনিয়ম, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী, এলজিইডি প্রকল্প