সমন্বিত উদ্যোগে সিলেটকে নান্দনিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব: বাণিজ্যমন্ত্রী
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ২৯ জুন, ২০২৬ ৭:৩০ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণের ফলে নতুন করে প্লাবিত হয়েছে হাওরাঞ্চল। বিস্তীর্ণ এই হাওরাঞ্চলে পানিতে ডুবে থাকায় গ্রামীণ জনপদে যাতায়াত ও মাছ ধরার প্রধান বাহন হয়ে উঠেছে নৌকা। এ কারণে উপজেলার বিভিন্ন নৌকার হাটে এখন জমে উঠেছে বিভিন্ন ধরণের নৌকার বেচাকেনা।
সরেজমিনে জগন্নাথপুর বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন নৌকার হাট ঘুরে দেখা যায়, বর্ষার শুরুতেই নৌকার চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। হাটগুলোতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় লেগে আছে। অন্যদিকে চাহিদা বাড়ায় কারিগররাও নৌকা তৈরি করতে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন।
নৌকার মিস্ত্রি কানাই সরকার জানান, রেইনট্রি, কড়ই, চাম্বল ও আমগাছের কাঠ দিয়ে তৈরি ডিঙি ও কোষা নৌকার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। কাঠের মান ও নৌকার আকারভেদে প্রতিটি নৌকা ৪ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতারা জানান, বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই নৌকার চাহিদা বাড়তে থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। হাওরের পানি যত বাড়ছে, ক্রেতার সংখ্যাও তত বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে জেলেরাও প্রয়োজন অনুযায়ী নৌকা কিনতে হাটে আসছেন।
হাটে আসা ক্রেতা রমিজ আলী জানান, হাওরবেষ্টিত এই অঞ্চলে বর্ষাকালে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যাতায়াত, মাছ ধরা কিংবা গবাদিপশুর জন্য ঘাস সংগ্রহ—সব ক্ষেত্রেই নৌকাই একমাত্র ভরসা। তবে গত বছরের তুলনায় কাঠ ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় এবার নৌকার দামও কিছুটা বেশি।
সব মিলিয়ে, হাওরে নতুন পানির ছোঁয়ায় জগন্নাথপুরের নৌকার হাটগুলো এখন মুখরিত ও উৎসবমুখর। বেচাকেনা ভালো হওয়ায় বিক্রেতা ও কাঠমিস্ত্রিদের মুখে ফুটেছে হাসির ঝিলিক।
হাওর, নৌকা, বিক্রি, বর্ষাকাল, গ্রাম, যাতায়াত