লন্ডনে শিশু যৌন নিপীড়নের ৪ হাজার মামলা পুনঃতদন্ত: চাপে মেয়র সাদিক খান
প্রবাস
প্রকাশঃ ২৮ জুন, ২০২৬ ১:৫৯ অপরাহ্ন
যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে শিশু যৌন শোষণের অন্তত চার হাজার বন্ধ মামলা পুনঃতন্তের যোগ্য বলে চিহ্নিত হয়েছে। মেট্রোপলিটন পুলিশের এই পর্যালোচনার ফলাফল সামনে আসার পর নতুন করে তীব্র চাপের মুখে পড়েছেন লন্ডনের মেয়র স্যার সাদিক খান। কারণ, এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন, লন্ডনে গ্রুমিং গ্যাং তৎপর থাকার কোনো প্রমাণ নেই।
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফের বরাতে জানা গেছে, স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড ২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত শিশু যৌন শোষণ সংক্রান্ত প্রায় ১২ হাজার অভিযোগ পর্যালোচনা করেছে। এর মধ্যে প্রতি তিনটির মধ্যে একটি অর্থাৎ প্রায় চার হাজার মামলা পুনর্তদন্তের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো এমন মামলা যেখানে পুলিশ বা ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস (সিপিএস) আগে আর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
চিহ্নিত মামলাগুলো ইতিমধ্যে ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির (এনসিএ) কাছে পাঠানো হয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সংস্থাটি সিদ্ধান্ত নেবে, কতগুলো মামলা আনুষ্ঠানিকভাবে পুনরায় খোলা হবে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে লন্ডন অ্যাসেম্বলির পুলিশ ও অপরাধ কমিটিতে কনজার্ভেটিভ সদস্য সুসান হল লন্ডনে কতটি গ্রুমিং গ্যাং সক্রিয় রয়েছে তা জানতে চাইলে মেয়র সাদিক খান বারবার প্রশ্নটি এড়িয়ে যান। প্রতিবারই তিনি সুসান হলকে পাল্টা প্রশ্ন করেন — তিনি ঠিক কী বোঝাতে চাইছেন।
পরবর্তী একটি কমিটি অধিবেশনে মেয়র সাদিক খান বলেন, পুলিশের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনার ভিত্তিতে এবং আমি সচেতনভাবে শব্দ বেছে বলছি লন্ডনে এ ধরনের গ্রুমিং গ্যাংয়ের কোনো রিপোর্টেড ঘটনা নেই এবং কোনো ইঙ্গিতও নেই।
তাঁর এই বক্তব্যকে ঘিরে তীব্র সমালোচনা ওঠে। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, মেয়র তাঁদের 'গ্যাসলাইট' করছেন অর্থাৎ বাস্তবতা অস্বীকার করে তাঁদের অভিজ্ঞতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন। একাধিক মহল থেকে তথ্য গোপনের অভিযোগও ওঠে।
এই পর্যালোচনার পটভূমিতে রয়েছে ব্যারোনেস কেসির নেতৃত্বে তৈরি একটি ঐতিহাসিক প্রতিবেদন। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, দশকের পর দশক ধরে ব্রিটেনের বিচারব্যবস্থা শিশু যৌন শোষণের ভুক্তভোগীদের ব্যর্থ করে আসছে। গ্রুমিং গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে।
ওই প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে এনসিএ 'অপারেশন বিকনপোর্ট' নামে একটি জাতীয় পর্যায়ের পর্যালোচনা শুরু করে। এর উদ্দেশ্য, অকালে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিশু যৌন শোষণ মামলাগুলো পুনরায় খতিয়ে দেখা এবং ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত ভুক্তভোগীদের জন্য নতুন করে তদন্তের সুযোগ তৈরি করা।
মেট্রোপলিটন পুলিশের চার হাজার মামলার তালিকা এই অপারেশনেরই অংশ হিসেবে এনসিএর কাছে পাঠানো হয়েছে। ইংল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চলে এ ধরনের পর্যালোচনা চলছে এবং লন্ডনের সংখ্যাটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বলে জানা গেছে।
যুক্তরাজ্য, লন্ডন, সাদিক খান, শিশু যৌন নিপীড়ন