মৌলভীবাজারে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন শুরু
যাপিতজীবন
প্রকাশঃ ২৮ জুন, ২০২৬ ১:১৯ অপরাহ্ন
সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) এলাকায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়েছে। এবারের কর্মসূচিতে নগরীর ৭৬ হাজার ৩৯০ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
রোববার (২৮ জুন) সকালে নগরীর বিনোদিনী নগর মাতৃসদন কেন্দ্রে এক শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাইয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, শিশুদের সুস্থ বিকাশ, দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভিটামিন ‘এ’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি সুস্থ, সবল ও মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তুলতে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের সফল বাস্তবায়ন জরুরি। তিনি অভিভাবকদের নির্ধারিত কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে গিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, “কোনো শিশুই যেন এ কর্মসূচির বাইরে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। সরকারের এই জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি সফল করতে নগরবাসীর সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রয়োজন।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলামসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, শিশুর স্বাভাবিক শারীরিক বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধে দেশে নিয়মিতভাবে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়ে থাকে। বছরে দুইবার ছয় থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের বিনামূল্যে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়।
তিনি বলেন, রোববার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সিসিক এলাকার বিভিন্ন কেন্দ্রে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে। কোনো শিশু নির্ধারিত দিনে ক্যাপসুল গ্রহণ করতে না পারলে পরবর্তী এক সপ্তাহ সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র থেকে তা গ্রহণ করতে পারবে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, ক্যাম্পেইনের আওতায় ছয় থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। লক্ষ্যমাত্রাভুক্ত শিশুদের মধ্যে ছয় থেকে ১১ মাস বয়সী ৮ হাজার ১১৪ জন শিশুকে নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৬৮ হাজার ২৭৬ জন শিশুকে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হবে। এদের মধ্যে ৭৬ হাজার ৩৩০ জন সাধারণ শিশু এবং ৬০ জন প্রতিবন্ধী শিশু রয়েছে।
কর্মসূচি বাস্তবায়নে সিসিকের ৪২টি ওয়ার্ডে ৮৪ জন সুপারভাইজারের তত্ত্বাবধানে মোট ৩৬৮টি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১টি স্থায়ী ইপিআই কেন্দ্র, ২৫৯টি অস্থায়ী ইপিআই কেন্দ্র, ৮৩টি অস্থায়ী ভিটামিন ‘এ’ কেন্দ্র এবং ২৫টি অতিরিক্ত কেন্দ্র। পুরো কার্যক্রম পরিচালনায় ৭৩৬ জন স্বেচ্ছাসেবী দায়িত্ব পালন করছেন।
সিসিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত ও অপুষ্টিজনিত জটিলতা প্রতিরোধে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি। তাই নির্ধারিত বয়সী সব শিশুকে সময়মতো ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াতে অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে।
সিলেট, ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন, আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী