২৮ জুন ২০২৬

দৈনন্দিন / গ্রামবাংলা

আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা নেই, এবার শাহ আরেফিনের মোকামে প্রশাসনিক নজরদারির দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ২৮ জুন, ২০২৬ ১১:২৮ পূর্বাহ্ন


সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার লাউড়েরগড় শাহিদাবাদে হযরত শাহ আরেফিন (র.)-এর মোকামে বছরে প্রায় অর্ধকোটি টাকার দান-সদকা আসলেও সেই অর্থের স্বচ্ছ হিসাব ভক্তদের কাছে প্রকাশ করা হয় না বলে অভিযোগ উঠেছে। আর্থিক জবাবদিহি নিশ্চিত ও প্রশাসনিক তত্ত্বাবধানে মোকাম পরিচালনার দাবিতে শনিবার বিকেলে স্থানীয়রা মানববন্ধন করেছেন।

বাদাঘাট ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা জানান, ৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম সাধক হযরত শাহ আরেফিন (র.)-এর মূল আস্তানা ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সাতগুহায়। তবে সীমান্তের এপারে লাউড়েরগড় শাহিদাবাদে তাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত মোকামে দেশ-বিদেশ থেকে হাজারো ভক্ত দান-সদকা ও মানত নিয়ে আসেন। নগদ অর্থের পাশাপাশি গরু, মহিষ, ছাগল, হাঁস-মুরগি, স্বর্ণ ও রৌপ্যসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী দান করা হলেও সেসবের হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয় না বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

মোকাম পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি ও ভক্ত জসিম উদ্দিন জানান, ১৯৮৯ সালে তিনি পুরান লাউড়-মোকসেদপুর যৌথ সমাজকল্যাণ হযরত শাহ আরেফিন (র.) আলাইহি যুব সংঘের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। তখন প্রতি বছর আয়-ব্যয়ের হিসাব ভক্তদের সামনে উপস্থাপন করা হতো। কিন্তু বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আলম ছাব্বির দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই স্বচ্ছতা আর নেই বলে তিনি দাবি করেন।

জসিম উদ্দিন আরও জানান, দায়িত্ব ছাড়ার সময় মোকামের তহবিলে প্রায় সাড়ে আট লাখ টাকা ছিল। প্রতি বছর ওরস উপলক্ষে প্রায় ৫০০ অস্থায়ী দোকান বসে, যেখান থেকে দোকানপ্রতি এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা ভাড়া আদায় করা হয়। দানবাক্স, মানতের পশু এবং স্বর্ণ-রৌপ্য মিলিয়ে বছরে প্রায় অর্ধকোটি টাকা আয় হলেও কমিটির পক্ষ থেকে মাত্র ১২ থেকে ১৩ লাখ টাকা আয় দেখানো হয়। প্রকৃত ব্যয় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা হলেও ৮ থেকে ৯ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল হান্নান জানান, অতীতেও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে একবার দানবাক্সে তালা দেওয়া হয়েছিল। পরে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়। তিনি বলেন, এখন প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে মোকামের আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা জরুরি হয়ে পড়েছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহেদ মিয়া বলেন, প্রতি বছর দেশ-বিদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক ভক্ত ওরসে অংশ নিয়ে মানত করেন। দানবাক্স মাসে দুইবার খোলা হলেও কত টাকা আসে এবং কোন খাতে কত ব্যয় হয়, তার কোনো স্বচ্ছ হিসাব ভক্তদের জানানো হয় না।

মোকামের খাদেম আব্দুল করিম জানান, তাঁরা প্রায় ৫০ বছর ধরে মোকামের খেদমত করে আসছেন। ভক্তদের দেওয়া নগদ অর্থ, পশু, স্বর্ণ ও রৌপ্যসহ সব ধরনের দান সাধারণ সম্পাদক আলম ছাব্বিরের কাছে জমা দেওয়া হয়। এরপর সেসবের কী হয়, সে বিষয়ে তাঁদের কোনো ধারণা নেই।


মোকাম পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আলম ছাব্বির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কমিটির সভাপতি পদে রয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং অর্থ সম্পাদক পদে রয়েছেন স্থানীয় সমাজসেবী আবু সুফিয়ান। সভাপতি ও অর্থ সম্পাদকের যৌথ স্বাক্ষরে টাকা জমা ও ব্যয় হয়। তিনি ২২ বছর ধরে কেবল হিসাব নিকাশের দায়িত্ব পালন করে আসছেন বলে জানান।

আলম ছাব্বির আরও বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে দানবাক্সের টাকা গণনা করা হয় এবং বর্তমানে মোকামের যৌথ ব্যাংক হিসাবে ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা জমা রয়েছে। তিনি দাবি করেন, একটি সুবিধাবাদী চক্র তাঁকে পদ থেকে সরাতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব মিথ্যা অভিযোগ তুলছে এবং এর মাধ্যমে একজন সংবাদকর্মীর মানহানির চেষ্টা করা হচ্ছে।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান মানিক জানান, গত দুই বছর ধরে বিভিন্ন কারণে মোকামে ওরস হচ্ছে না। দায়িত্ব নেওয়ার পর একবার দানবাক্স খুলে ১ লাখ ১৬ হাজার টাকা পেয়েছি, যা মোকামের যৌথ ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

সুনামগঞ্জ, হযরত শাহ আরেফিন (র.), তাহিরপুর, প্রশাসন

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ