১২ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত ৪৯.২ মিমি, সিলেটে ফের বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা
প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ
প্রকাশঃ ৩১ মে, ২০২৫ ৯:২৮ অপরাহ্ন
টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ী ঢলে সিলেটের সবকটি নদনদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। শনিবার (৩১ মে) সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত সুরমা, কুশিয়ারা, সারি-গোয়াইন ও ধলাইসহ সবকটি নদনদীর পানি বিপজ্জনকভাবে বেড়েছে।
তবে কোথাও বিপৎসীমা ছাড়িয়ে না গেলেও বেশ কয়েকটি পয়েন্টে তা ছুঁই ছুঁই করছিল। অবশ্য দু’য়েকটি পয়েন্টে উজানের ঢল ওঠানামার কারণে পানি কিছুটা কমেছে।
শনিবার (৩১মে) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পাঠানো রিপোর্টে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
পাউবোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সুরমা নদীর পানি সিলেট পয়েন্টে বিপৎসীমার ১১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। গতকাল এই পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ২৮৮ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। একদিনের ব্যবধানে এই পয়েন্টে পানি বেড়েছে ১৭৩ সেন্টিমিটার। সুরমা নদীর সিলেট পয়েন্টে পানির বিপৎসামী ১০ দশমিক ৮০। আজ সন্ধ্যা ছয়টায় এই পয়েন্টে পানি ৯ দশমিক ৬৯ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। আর ১১৫ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেলে এই পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যাবে।
এদিকে সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে শনিবার সন্ধ্যা ছয়টায় পানি বিপৎসীমার ২৯ সেন্টিমিটার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। গতকাল এই পয়েন্টে পানি ছিল বিপৎসীমার ২৫২ সেন্টিমিটার নিচে। একদিনের ব্যবধানে এই পয়েন্টে পানি বেড়েছে ২২৩ সেন্টিমিটার। এই পয়েন্টে পানির বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৭৫ সেন্টিমিটার। আজ সন্ধ্যায় এই পয়েন্টে পানি ১২ দশমিক ৪৬ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
কুশিয়ারা নদীর পানি জকিগঞ্জের আমলশীদ পয়েন্টে একদিনের ব্যবধানে ৩৫৫ সেন্টিমিটার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ১৮৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। শনিবার সন্ধ্যা ছয়টায় এই পয়েন্টে পানি ১৩ দশমিক ৫৩ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এই পয়েন্টে পানির বিপৎসীমা ১৫ দশমিক ৪০ সেন্টিমিটার। আর ১৮৭ সেন্টিমিটার পানি বাড়লে এই পয়েন্টে বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যাবে।
কুশিয়ারা নদীর পানি শেওলা পয়েন্টে শনিবার সন্ধ্যা ছয়টায় বিপৎসীমার ২২৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এক দিনের ব্যবধানে ২৪১ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। গতকাল এই পয়েন্টে পানি ছিল বিপৎসীমার ৪৬৪ সেন্টিমিটার নিচে। এই পয়েন্টে পানির বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ০৫ সেন্টিমিটার।
এছাড়া কুশিয়ারা নদী শনিবার সন্ধ্যায় ফেঞ্চুগঞ্জে ১০২ সেন্টিমিটার এবং শেরপুরে ১১৪ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এই দুই পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা ৯ দশমিক ৪৫ সেন্টিমিটার ও ৮ দশমিক ৫৫ সেন্টিমিটার।
এদিকে সারি গোয়াইন নদীর পানি গতকাল সন্ধ্যায় বিপৎসীমার ১৩৫সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত আরও ৬১ সেন্টিমিটার বেড়েছে। এই পযেন্টে পানির বিপৎসীমা ১০ দশমিক ৮২ সেন্টিমিটার। আজ সন্ধ্যায় ১০ দশমিক ০৮ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। আর মাত্র ৭৪ সেন্টিমিটার পানি বাড়লে এই পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যাবে।
সারি নদীর পানি সারিঘাট পয়েন্টে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। গতকালে বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫৭ সেন্টিমিটার। এছাড়া জাফলংয়ের ডাউকি নদীর পরিস্থিতিও কিছুটা উন্নতি হয়েছে। যা গতকাল সন্ধ্যায় পানি বিপৎসীমার ১১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্লাবিত হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়ে তা দাঁড়িয়েছে ২২৫ সেন্টিমিটার।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, জেলার প্রধান দুই নদী সুরমা, কুশিয়ারাসহ প্রায় সবকটি নদ-নদীর পানি বাড়ছে। কয়েকটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে।
তিনি বলেন, সিলেটে টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। একই সাথে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের চেরাপুঞ্জিতেও ভারি বর্ষণ হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে আজ সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় চেরাপুঞ্জিতে ৪১০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। ভারতে বৃষ্টি হলেই পাহাড়ি ঢল সীমান্তের নদ-নদী দিয়ে সিলেটে আসে।
সিলেট বন্যা ২০২৫, সুরমা নদীর পানি, কুশিয়ারা নদী, পাহাড়ি ঢল, চেরাপুঞ্জি বৃষ্টি, সিলেট প্লাবন, পাউবো রিপোর্ট, নদীর পানি বৃদ্ধি, সিলেট পরিস্থিতি