
সিলেটের সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের প্রশংসা করে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, ‘ডিসি সারওয়ার আমাদের চোখ খুলে দিয়েছেন।’ একই সঙ্গে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। চার দিনের সরকারি সফরে এদিন সিলেটে পৌঁছান তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের অর্থ ব্যবস্থাপনা, দানবাক্স স্থাপন এবং জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের প্রত্যাহার নিয়ে সৃষ্ট আলোচনা-সমালোচনার বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে মন্ত্রী বলেন, ‘উনি (সারওয়ার আলম) আমাদের চোখ খুলে দিয়েছেন। আমরা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সেদিকেই কাজ করব।’
মন্ত্রী বলেন, মাজারের দানের অর্থ প্রকাশ্যে গণনার মতো উদ্যোগ স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের পদক্ষেপে সরকারের সহযোগিতা থাকবে। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাইকে নিয়ে মাজারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করব। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, দেশের বাইরে থাকায় তিনি পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে অনুসরণ করতে পারেননি। তবে দেশে ফেরার পর সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘মাজার নিয়ে মানুষের যে প্রত্যাশা, তা পূরণে আমরা কাজ করব। খুব দ্রুতই সেখানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।’
জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের বদলি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রমের অংশ। তিনি বলেন, ‘বদলির বিষয়টি রুটিন ওয়ার্ক। এটি আগে বা পরে হতে পারত। এটিকে মাজার–সংক্রান্ত ঘটনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করার সুযোগ নেই।’
সম্প্রতি কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেটের পাঁচ প্রবাসীর মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোরও আশ্বাস দেন তিনি।
প্রবাসীদের সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চিকিৎসাসেবা, নিরাপত্তা, বিশ্রামাগারসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা আরও উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের তিনটি ডেগে সিলগালা করা হয় এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। প্রশাসনের দাবি ছিল, দানের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তবে এ উদ্যোগকে কেন্দ্র করে মাজার–সংশ্লিষ্টদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। এর মধ্যেই রোববার জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাঁর প্রত্যাহারের প্রতিবাদে সিলেটে বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালন করা হয়।
সিলেট ছাড়ার আগে সোমবার সারওয়ার আলমের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মাজারের দানবাক্সের অর্থ গণনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চার দিনে দানবাক্সে জমা হওয়া অর্থের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
শেয়ার করুনঃ
রাজনীতি থেকে আরো পড়ুন
সিলেট, মন্ত্রী, আরিফুল হক চৌধুরী, সারওয়ার আলম

