২৪ জুন ২০২৬

অপরাধ-বিচার / অভিযান

সিলেট ভয়েসে সংবাদ প্রকাশ

অবশেষে বাঁশের বেড়া অপসারণ, মুক্তি পেল ৫ পরিবার

প্রতিনিধি, জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ

প্রকাশঃ ২৪ জুন, ২০২৬ ৭:৫৬ অপরাহ্ন


সিলেট ভয়েসে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে পাঁচটি অসহায় পরিবারের চলাচলের পথে দেওয়া বাঁশের বেড়া অপসারণ করা হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে পৌর শহরের হবিবনগর এলাকায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠকের পর বেড়াটি সরিয়ে নেওয়া হয়।

 

এর আগে এ ঘটনায় বুধবার ‘প্রশাসনের নির্দেশেও সরছে না বেড়া, দুইদিন ধরে অবরুদ্ধ ৫ পরিবার’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে সিলেট ভয়েস। সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে দ্রুত এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি খাস জমিতে বসবাসকারী পাঁচটি পরিবারের যাতায়াতের পথ বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিযুক্তদের দ্রুত বেড়া অপসারণের নির্দেশ দেন। অন্যথায় প্রশাসন নিজ উদ্যোগে বেড়া অপসারণের পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলেও সতর্ক করা হয়। পরে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের মুখে বেড়াটি সরিয়ে নেওয়া হয়।

 

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জগন্নাথপুর পৌরসভার হবিবনগর এলাকার ইকড়ছই মৌজার সরকারি খাস জমিতে তারা প্রায় ৩১ বছর ধরে বসবাস করছেন। সম্প্রতি স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র জমিটি দখলের উদ্দেশ্যে তাদের যাতায়াতের প্রধান পথ বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেয়। এতে পরিবারগুলো কার্যত গৃহবন্দী হয়ে পড়ে।

 

অবরুদ্ধ অবস্থায় পরিবারগুলো চরম মানবিক সংকটে পড়েছিল বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। তারা জানান, কয়েক দিন ধরে স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ থাকায় খাদ্য ও পানির সংকট দেখা দেয়। শিশুরা স্কুল ও মাদ্রাসায় যেতে পারেনি। কোনো কোনো পরিবার চিড়া-মুড়ি, কলা-রুটি ও নদীর পানি খেয়ে দিন কাটিয়েছে।

 

ভুক্তভোগী হলুদা আক্তার ও সুমা আক্তার বলেন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তারা স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

 

ভুক্তভোগী হলুদা আক্তার ও সুমা আক্তার জানান, দীর্ঘ ৩১ বছর ধরে তারা এই সরকারি খাস জমিতে (ইকড়ছই মৌজা) ঘর বাড়ি তৈরি করে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন। কিন্তু স্থানীয় ভূমিখেকো চক্র আশিক মিয়া ও আমির আলী গংরা সরকারি এই জমিটি দখলের উদ্দেশ্যে অন্যায় ও অমানবিক উপায়ে তাদের যাতায়াতের প্রধান মুখে বাঁশের বেড়া দিয়ে অবরুদ্ধ করে ফেলে। ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় অবরুদ্ধ থাকার পর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বেড়া অপসারণ হওয়ায় পরিবারগুলোর মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

হলুদা আক্তার বলেন, ‘আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহোদয়কে ধন্যবাদ জানাই। দেশে আইন আছে বলেই নিরীহ মানুষ বিচার পায়। আজ গৃহবন্দী অবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছি।’

 

ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগের পর উপজেলা প্রশাসন উভয় পক্ষকে নিয়ে জরুরি বৈঠক করে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বেড়া অপসারণ করা হলে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটে। 

 

জগন্নাথপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহসীন উদ্দিন বলেন, ‘আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আমলে নিয়েছি। আজ উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে ঘটনার একটি স্থায়ী সমাধান করা হয়েছে।’ 

 

এ বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, ‘এ ঘটনায় উভয়পক্ষকে নিয়ে বসে সমাধান করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বাঁশের বেড়া অপসারণ করা হয়েছে। আগামীকাল উপজেলা প্রশাসন থেকে লোকজন গিয়ে বিরোধপূর্ণ জায়গা মেপে সরকারি অংশ নির্ধারণ করবে।’


শেয়ার করুনঃ

অপরাধ-বিচার থেকে আরো পড়ুন

জগন্নাথপুর, বাঁশের বেড়া অপসারণ, অবরুদ্ধ পরিবার, খাস জমি, উপজেলা প্রশাসন

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ