সুনামগঞ্জে কিশোরীকে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলার আসামি কুমিল্লায় গ্রেপ্তার
অপরাধ-বিচার
প্রকাশঃ ২১ জুন, ২০২৬ ৫:৫১ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জে এক কিশোরীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামিকে কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। শনিবার সন্ধ্যায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার একটি বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. হৃদয় (২২)। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার ব্রাহ্মণহাতা এলাকার বাসিন্দা।
র্যাব-৯ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরী সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার দুর্লভপুর এলাকার বাসিন্দা। মামলার আরেক আসামি সৈয়দ আইনুল হক ওই কিশোরীর আত্মীয় ও প্রতিবেশী। হৃদয় আইনুল হকের বাড়িতে থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালাতেন। সে সূত্রে তিনি প্রায়ই কিশোরীর বাড়িতে যাতায়াত করতেন।
অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে হৃদয় কিশোরীকে বিভিন্নভাবে বিরক্ত করতে শুরু করেন। বিষয়টি জানতে পেরে কিশোরীর মা আইনুল হকের কাছে অভিযোগ করেন। পরে আইনুল হক হৃদয়ের সঙ্গে কিশোরীর বিয়ের প্রস্তাব দেন। তবে মেয়েটি নাবালিকা হওয়ায় পরিবার সেই প্রস্তাবে সম্মতি দেয়নি।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর কিশোরীকে অপহরণের পরিকল্পনা করা হয়। চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি দুপুরে অভিযুক্তরা কিশোরীর বাড়িতে গিয়ে তাকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে হৃদয়ের গ্রামের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর কিশোরীর মা বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলার পর থেকে প্রধান আসামি হৃদয় আত্মগোপনে ছিলেন।
র্যাব জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে হৃদয়ের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। শনিবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে র্যাব-৯-এর সুনামগঞ্জ ক্যাম্প এবং র্যাব-১১-এর কুমিল্লা ক্যাম্পের সদস্যরা যৌথ অভিযান চালিয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জামকড়া সিঙ্গাপুর মার্কেট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেন।
র্যাব-৯-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি বলেন, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র্যাবের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সুনামগঞ্জ, কিশোরী অপহরণ, ধর্ষণ মামলা, র্যাব-৯, র্যাব-১১, হৃদয় গ্রেপ্তার, কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম, সুনামগঞ্জ সদর, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, অপহরণ মামলা, ধর্ষণ অভিযোগ