২১ জুন ২০২৬

অপরাধ-বিচার / অপরাধ

বিশ্বনাথে সংবাদ সম্মেলন

সৌদি আরবে পাঠানোর নামে প্রতারণার অভিযোগ

প্রতিনিধি, বিশ্বনাথ, সিলেট

প্রকাশঃ ২০ জুন, ২০২৬ ৭:০৭ অপরাহ্ন

ছবিঃ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করছেন আজম খান

সৌদি আরবে ড্রাইভিং ভিসায় পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ ও মানবপাচারের অভিযোগে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেন তারা।


বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের উত্তর দশপাইকা গ্রামের বাসিন্দা আজম খান সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, উপজেলার দশঘর নোয়াগাঁও পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা আজবর আলী, তার সৌদি আরবপ্রবাসী ভাই আছকির আলী, রাজনা বেগম, আছিয়া বেগম ও ফরহাদ আলী তাকে সৌদি আরবে ড্রাইভিং ভিসায় পাঠানোর আশ্বাস দেন। এ জন্য বিভিন্ন সময়ে ব্যাংকের আরটিজিএস ও নগদ লেনদেনের মাধ্যমে তার কাছ থেকে মোট পাঁচ লাখ টাকা নেওয়া হয়।


আজম খানের দাবি, ড্রাইভিং ভিসার পরিবর্তে তাকে তিন মাস মেয়াদি অন্য একটি ভিসার পিডিএফ কপি দেওয়া হয়। পরে মেডিকেল, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও প্রশিক্ষণের খরচের কথা বলে আরও অর্থ আদায় করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে তাকে সৌদি আরব পাঠানোর কথা বলে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে তাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয় এবং তার ব্যবহৃত জিনিসপত্র, সৌদি মুদ্রার ৫০০ রিয়াল ও বাংলাদেশি সাত হাজার টাকা রেখে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে হোটেল থেকে বের করে দেওয়া হয়।


তিনি বলেন, পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টি তুলে ধরলে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আরও কয়েকজন তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। একপর্যায়ে প্রায় ২০ জন ভুক্তভোগী একত্রিত হয়ে অভিযুক্ত আছকির আলীর এলাকার দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমাদ উদ্দিন খানের কাছে গত ৮ মার্চ অভিযোগ দেন। সেখানে তারা টাকা ও পাসপোর্ট ফেরত চেয়ে বিচার প্রার্থনা করেন।


ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে গত ১৫ এপ্রিল, ৩ মে ও ৯ জুন তিন দফা নোটিশ দেওয়া হলেও অভিযুক্তরা উপস্থিত হননি। পরে চেয়ারম্যান তাদের আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তারা বৈদেশিক কর্মসংস্থান আইনে সিলেটের বিশ্বনাথ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সিআর মামলা নং-২৪৯/২০২৬ দায়ের করেন।


সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার লহরী গ্রামের আইন উদ্দিন, আব্দুল জলিল, মোস্তাব আলী, বালাগঞ্জ উপজেলার রিফাতপুর গ্রামের রিয়াজ উদ্দিন, মজলিশপুর গ্রামের সবুজ মিয়া, ওসমানীনগরের খয়েরপুর গ্রামের সেবুল মিয়া, তাজপুর গ্রামের শাহান আলী, বিশ্বনাথ উপজেলার পশ্চিম নোয়াগাঁও গ্রামের জলিলুর রহমান, জগদীশপুর গ্রামের আল-আমিন ও দশঘর নোয়াগাঁও গ্রামের জুনাব আলীসহ আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী ও তাদের স্বজনেরা।


সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মানবপাচারের অভিযোগ এনে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ এবং এ ধরনের প্রতারণা রোধে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ দাবি করেন।


এ বিষয়ে দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমাদ উদ্দিন খান বলেন, অভিযোগের বিষয়ে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হলেও অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তাই ভুক্তভোগীদের আদালতের আশ্রয় নিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


অভিযোগের বিষয়ে আছকির আলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সৌদি আরবের ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। এছাড়া তাদের বাড়িতেও একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


শেয়ার করুনঃ

অপরাধ-বিচার থেকে আরো পড়ুন

প্রতারণা, মানবপাচার, সৌদি আরব, মামলা, ভুক্তভোগী, বিশ্বনাথ

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ