তিউনিসিয়াকে গোল বন্যায় ভাসালো সুইডেন
খেলাধুলা-বিনোদন
প্রকাশঃ ১৫ জুন, ২০২৬ ১১:২৭ পূর্বাহ্ন
বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের প্রথম ম্যাচগুলোর একটিতে নেমে কুরাসাও হয়তো কঠিন পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত ছিল। কিন্তু সেই পরীক্ষা যে এতটা নির্মম হয়ে উঠবে, তা হয়তো ভাবেননি দেশটির ফুটবলার কিংবা সমর্থকেরা। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিপক্ষে মাঠে নেমে একপর্যায়ে প্রতিরোধের সব চেষ্টাই ভেসে যায় গোলের স্রোতে। শেষ পর্যন্ত কুরাসাওকে ৭–১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে জার্মানি।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে জার্মানি। ষষ্ঠ মিনিটেই এগিয়ে যায় দলটি। ফ্লোরিয়ান উইর্টজের নিখুঁত পাস ধরে বল জালে পাঠান ফেলিক্স এনমেচা। শুরুতেই গোল পেয়ে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন জামাল মুসিয়ালা, কাই হাভার্টজরা।
তবে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম উপস্থিতি স্মরণীয় করে রাখার সুযোগ হাতছাড়া করেনি কুরাসাও। ম্যাচের ২১ মিনিটে দলটির হয়ে ইতিহাস গড়েন লিভানো কমেনেনসিয়া। ডান প্রান্ত থেকে উঠে এসে বক্সের ভেতর বাঁ পায়ের শটে জার্মান গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়ারকে পরাস্ত করেন তিনি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে কুরাসাওয়ের প্রথম গোলটি গ্যালারিতে থাকা সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে ভাসিয়ে দেয়।
সমতায় ফিরলেও সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। জার্মানি দ্রুত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়। ৩৮ মিনিটে কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে হেড করে গোল করেন ডিফেন্ডার নিকো শ্লটারবেক। আবারও এগিয়ে যায় জার্মানি।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে পেনাল্টি পায় ইউরোপের দলটি। বক্সের মধ্যে ফেলিক্স এনমেচাকে ফাউল করলে স্পটকিকের নির্দেশ দেন রেফারি। সেখান থেকে গোল করে ব্যবধান ৩–১ করেন কাই হাভার্টজ।
প্রথমার্ধের পরিসংখ্যানই ম্যাচের চিত্র স্পষ্ট করে দেয়। ৭১ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে জার্মানি। প্রতিপক্ষের গোলমুখে ১৬টি আক্রমণ চালায় তারা, যার পাঁচটি ছিল লক্ষ্যে।
বিরতির পর আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে জার্মানি। ৪৭ মিনিটে ইয়োশুয়া কিমিখের পাস থেকে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে চতুর্থ গোল করেন জামাল মুসিয়ালা। এরপর ৬৮ মিনিটে লেফট ব্যাক নাথানিয়েল ব্রাউন স্কোরলাইনকে ৫–১ করেন।
ততক্ষণে ম্যাচ পুরোপুরি একপেশে হয়ে গেছে। ক্লান্ত ও বিধ্বস্ত কুরাসাওয়ের রক্ষণভাগের সুযোগ নিয়ে আক্রমণের পর আক্রমণ চালাতে থাকে জার্মানি। ৭৮ মিনিটে ডেনিজ উনদাভ গোল করলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৬–১।
এরপরও থামেনি জার্মানদের গোল উৎসব। ৮৮ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের সপ্তম গোলটি করেন কাই হাভার্টজ। তাতেই নিশ্চিত হয় ৭–১ গোলের বিশাল জয়।
বিশ্বকাপের মঞ্চে বড় ব্যবধানে জয়ের স্মৃতি জার্মান ফুটবলের জন্য নতুন নয়। ২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্বাগতিক ব্রাজিলকে ৭–১ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল তারা। এবার বিশ্বকাপের নবাগত কুরাসাওয়ের বিপক্ষেও সাত গোলের প্রদর্শনী দেখাল জার্মানরা।
তবে ম্যাচের ফল যতই একপেশে হোক, কুরাসাওয়ের জন্য এই ম্যাচ স্মরণীয় হয়ে থাকবে অন্য কারণে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজেদের প্রথম গোলের আনন্দ, লিভানো কমেনেনসিয়ার সেই মুহূর্ত এবং গ্যালারিতে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস পরাজয়ের আড়ালেও সেগুলো হয়ে থাকবে দেশটির ফুটবল ইতিহাসের এক বিশেষ অধ্যায়।
জার্মানি বনাম কুরাসাও, জার্মানি ৭-১ কুরাসাও, বিশ্বকাপ ২০২৬, কাই হাভার্টজ, জামাল মুসিয়ালা, ফেলিক্স এনমেচা, জার্মানি ফুটবল দল, কুরাসাও ফুটবল দল, বিশ্বকাপ ফুটবল