অবশেষে চার লেনে উন্নীত হচ্ছে হবিগঞ্জ-লাখাই-সড়াইল মহাসড়ক
সিলেটজুড়ে
উন্নয়ন প্রকল্পে ৬১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ
প্রকাশঃ ১১ জুন, ২০২৬ ১১:৪৪ পূর্বাহ্ন
দীর্ঘদিনের দাবি ও নানা জটিলতার পর অবশেষে চার লেনে উন্নীত হচ্ছে হবিগঞ্জ-লাখাই-সড়াইল আঞ্চলিক মহাসড়ক। প্রায় ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ৬১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
এদিকে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে হবিগঞ্জ সদর ও লাখাই উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে ঢাকা ও সিলেটের মধ্যে যাতায়াতের দূরত্বও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। এছাড়া এ সড়ক ব্যবহারে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পথ সাশ্রয় হতে পারে বলে ধারণা স্থানীয়দের।
হবিগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, লাখাই ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর সীমান্তের বলভদ্র সেতু এলাকা থেকে হবিগঞ্জ শহরের কোর্ট স্টেশন পর্যন্ত প্রায় ২৬ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করা হবে। প্রকল্পটির জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬১৮ কোটি টাকা।
এর মধ্যে সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়নকাজে ব্যয় হবে প্রায় ৩৯৬ কোটি টাকা। ভূমি অধিগ্রহণের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২১৯ কোটি ১৪ লাখ টাকা। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সরবরাহ লাইনের স্থানান্তর কাজে ব্যয় হবে প্রায় ২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। চারটি পৃথক প্যাকেজে প্রকল্পটির কাজ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
হবিগঞ্জ সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, প্রকল্পের প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। দরপত্র আহ্বানের কাজ শুরু হয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে দ্রুত বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।
সওজ সূত্র জানায়, অতীতেও সড়কটি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এক পর্যায়ে দরপত্র আহ্বান ও ঠিকাদার নির্বাচন পর্যন্ত হলেও বিভিন্ন প্রশাসনিক ও কারিগরি জটিলতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হয়নি। পরে প্রকল্পটি বাতিলের প্রস্তাবও উঠেছিল।
তবে সড়কটির গুরুত্ব বিবেচনায় স্থানীয় বাসিন্দারা বিভিন্ন সময়ে মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদানসহ নানা কর্মসূচি পালন করেন। ফলে প্রকল্পটি পুরোপুরি বাতিল না হয়ে দীর্ঘ সময় ঝুলে থাকলেও আলোচনায় ছিল। অবশেষে নতুন করে বরাদ্দ পাওয়ায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা মনে করছেন, চার লেনের সড়ক নির্মিত হলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাই নয়, পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে কৃষি, মৎস্য, ক্ষুদ্র শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বর্তমানে সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই-হবিগঞ্জ সড়কের অনেক অংশ সরু হওয়ায় যানবাহন চলাচলে প্রায়ই ভোগান্তি তৈরি হয়। ভারী যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রেও নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সড়কটি প্রশস্ত ও আধুনিক মানে উন্নীত হলে এ সমস্যাগুলো অনেকটাই কমে আসবে বলে ধারণা তাদের।
জাতীয় সংসদের হুইপ ও হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ জি কে গউছ বলেন, নির্বাচনের সময় তিনি সড়কটির উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সরকার গঠনের পর বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় প্রকল্পটির জন্য অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে সড়কটির প্রস্থ প্রায় সাড়ে পাঁচ মিটার হওয়ায় যানবাহনের বাড়তি চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। উন্নয়নকাজ শেষ হলে সড়কটি আরও প্রশস্ত ও নিরাপদ হবে। এতে যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য ও শিল্প খাতের বিকাশ ত্বরান্বিত হবে।
হবিগঞ্জ-লাখাই-সড়াইল মহাসড়ক, চার লেন সড়ক, হবিগঞ্জ সড়ক উন্নয়ন, ৬১৮ কোটি টাকার প্রকল্প, লাখাই সড়ক