সালমান শাহর লাশ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ
খেলাধুলা-বিনোদন
প্রকাশঃ ১০ জুন, ২০২৬ ৪:৪৮ অপরাহ্ন
বিশ্বকাপ ফুটবল এলেই যেন নতুন এক স্বপ্নে বিভোর হন মাগুরার কৃষক আমজাদ হোসেন। চার বছর পরপর সেই স্বপ্নের রং মেশে কালো, লাল ও হলুদে জার্মানির জাতীয় পতাকার রঙে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। মাগুরার এই প্রবীণ ফুটবলভক্ত তৈরি করেছেন সাড়ে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ জার্মানির পতাকা, যা প্রদর্শন করতে বুধবার সকালে ভিড় জমে শত শত মানুষের।
মাগুরা সদর উপজেলার নিশ্চিতপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশাল এই পতাকা প্রদর্শন করা হয়। সকাল থেকেই মাঠ ও আশপাশের এলাকায় ফুটবলপ্রেমীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ছোট ছোট শিশু থেকে শুরু করে তরুণ ও প্রবীণ সব বয়সী মানুষ কৌতূহল নিয়ে দেখতে আসেন ব্যতিক্রমী এই আয়োজন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। মিনি ট্রাকে বলের আদলে সাজানো জার্মান দলের পতাকা নিয়ে র্যালিটি বিদ্যালয় মাঠে পৌঁছায়। পরে সমর্থকদের সহায়তায় বিশাল পতাকাটি মাঠজুড়ে মেলে ধরা হয়। এ সময় পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
৭২ বছর বয়সী আমজাদ হোসেনের বাড়ি মাগুরা পৌরসভার ঘোড়ামারা গ্রামে। পেশায় তিনি একজন কৃষক। তবে স্থানীয়দের কাছে তিনি বেশি পরিচিত জার্মান ফুটবল দলের একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে।
আমজাদ হোসেন জানান, ২০০৪ সালে জার্মানির তৈরি একটি ওষুধ সেবনের মাধ্যমে তিনি দীর্ঘদিনের শারীরিক সমস্যা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই জার্মানির প্রতি তার এক ধরনের ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জন্ম নেয়। এরপর ২০০৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলকে সামনে রেখে তিনি প্রথমবারের মতো জার্মানির একটি পতাকা তৈরি করেন।
সেই পতাকার দৈর্ঘ্য ছিল দেড় কিলোমিটার। এরপর প্রতিটি বিশ্বকাপেই বাড়তে থাকে পতাকার আকার। ২০১০ সালে তিনি তৈরি করেন আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা। ২০১৪ সালে সেটি বেড়ে দাঁড়ায় সাড়ে তিন কিলোমিটারে। সর্বশেষ এবার তিনি তৈরি করেছেন সাড়ে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ জার্মান পতাকা।
আমজাদ হোসেন বলেন, “জার্মান দলের প্রতি আমার ভালোবাসা থেকেই পতাকা বানাই। প্রথম দিকে অনেকে বিষয়টিকে ভালোভাবে নেননি। পরিবারের সদস্যরাও আপত্তি করেছিলেন। কিন্তু আমি থেমে থাকিনি। এখন মানুষ আমার এই উদ্যোগকে ভালোবাসে, উৎসাহ দেয়।”
তিনি জানান, পতাকা তৈরির জন্য একসময় ব্যক্তিগত সম্পদও বিক্রি করতে হয়েছে। পরিবারের সমর্থন না পেলেও নিজের ইচ্ছাশক্তি আর ফুটবলের প্রতি ভালোবাসাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। এমনকি পতাকা তৈরির খরচ জোগাতে জমি বিক্রির সিদ্ধান্তও নিতে হয়েছিল তাকে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বিশ্বকাপ এলেই আমজাদ হোসেনের পতাকা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়। প্রতি আসরে পতাকার দৈর্ঘ্য বাড়ানোর বিষয়টি এখন মাগুরার এক বিশেষ আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। দূরদূরান্ত থেকেও মানুষ তার তৈরি পতাকা দেখতে আসেন।
আমজাদ হোসেনের আশা, আগামী দিনেও তিনি আরও বড় আকারের পতাকা তৈরি করবেন। বয়স বাড়লেও জার্মান ফুটবলের প্রতি তার ভালোবাসা কমেনি। বরং বিশ্বকাপের প্রতিটি আসর তাকে নতুন উদ্দীপনা দেয়।
মাগুরার এই কৃষকের কাছে ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়; এটি ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা আর এক অনন্য আবেগের নাম। আর সেই আবেগেরই প্রতীক হয়ে প্রতি বিশ্বকাপে আরও দীর্ঘ হয় তার প্রিয় দলের পতাকা।
আমজাদ হোসেন, মাগুরা, জার্মান পতাকা, ৭.৫ কিলোমিটার পতাকা, জার্মানি ফুটবল দল, জার্মানির সমর্থক, বিশ্বকাপ ফুটবল