জার্মানির আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সিলেটের বৃষ্টি খাতুনের সাফল্য
প্রবাস
প্রকাশঃ ২৭ মে, ২০২৫ ১০:০৮ অপরাহ্ন
'আমি প্রথমে শুধু রেমিটেন্স পাঠাতাম, এখন নেতৃত্ব দিচ্ছি কমিউনিটিকে' এই কথাটি বলেছেন সিলেটের ম্যানচেস্টার প্রবাসী ব্যবসায়ী মো. এনামুল কবির। তাঁর মতো হাজার হাজার মানুষের জীবনের গল্প আজ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। শ্রমিকের পরিচয় ছাপিয়ে প্রবাসে তাঁরা এখন উদ্যোক্তা, চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ, প্রযুক্তিবিদ কিংবা জনপ্রতিনিধি। আর এইসব সাফল্যগাঁথা শুধু প্রবাসীদের নয়, পুরো বাংলাদেশের জন্যই গর্বের।
বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশি প্রবাসীদের একটি বড় অংশই সিলেটি। সিলেট বিভাগের চার জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ ছড়িয়ে রয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে।
জনশক্তি রপ্তানি সংক্রান্ত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর গড়ে সিলেট বিভাগের প্রায় ৭০ হাজারের বেশি মানুষ কাজের খোঁজে বিদেশে যান।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের প্রবাসী আয় বা রেমিটেন্সের কমপক্ষে ২৫ শতাংশই আসে সিলেট বিভাগের মানুষের পাঠানো অর্থ থেকে।
সবচেয়ে দৃশ্যমান সাফল্য এসেছে যুক্তরাজ্যে। শতবর্ষ আগেই এই ভূখণ্ডে পাড়ি জমায় প্রথম সিলেট বিভাগের মানুষেরা। বর্তমানে শুধু লন্ডনেই প্রায় তিন লাখ মানুষ বসবাস করেন যারা সিলেট বিভাগের বাসিন্দা। তাঁদের অনেকেই রেস্টুরেন্ট ব্যবসা, ট্যাক্সি সার্ভিস, রিয়েল এস্টেট খাতে সফল হয়েছেন। রাজনৈতিক পরিমণ্ডলেও তাঁরা শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস, লুটন ও বার্মিংহামের মতো শহরে কাউন্সিলর থেকে শুরু করে সংসদ সদস্য পর্যন্ত রয়েছেন সিলেট বিভাগের প্রতিনিধিরা।
যুক্তরাজ্যের ইস্ট লন্ডনের সিলেটের বাসিন্দা সৈয়দ জাফরুল বলেন, প্রবাসী হয়েছি ৭ বছর হয়ে যাবে, আল্লাহর রহমতে এখন অনেক ভালো আছি, প্রথম দিকে এসে কাজ কর্ম করতে হয়েছে, পরিবারকে টাকা দিতে হয়েছে নিজের পড়াশুনাও করতে হয়েছে, এখন ছোটখাটো একটা রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় আছি। সিলেটের বাসিন্দাদের জন্য বিখ্যাত লন্ডন এখানে আপনি আনাচে-কানাচে সিলেটিদের পাবেন।
কেবল যুক্তরাজ্য নয়, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতেও সিলেট বিভাগের মানুষেরা বিশাল সংখ্যায় কাজ করছেন। সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে নির্মাণশ্রমিক থেকে শুরু করে মুদি দোকানদার, পরিবহন ব্যবসায়ী কিংবা নিজস্ব হোটেল মালিক সবখানেই আছেন সিলেট বিভাগের মানুষ। স্থানীয়দের কাছে তারা সৎ, পরিশ্রমী ও বিশ্বস্ত শ্রমিক হিসেবে পরিচিত। এছাড়া মানুষের স্বপ্নের দেশ আমেরিকাতেও সিলেটিদের প্রভাব রয়েছে চোখে পড়ার মতো।
আমেরিকার নিউইউর্ক পুলিশে কাজ সুনামগঞ্জের বাসিন্দা নিয়ন চৌধুরী কল্লোল বলেন, 'সিলেট বিভাগ থেকে উঠে আসা পরিচয়টাই আমার পরিচয়ের শিকড়। আমেরিকার মাটিতে পড়াশুনা এবং চাকরির সময়ও আমি ভুলিনি কোন মাটি থেকে উঠে এসেছি। আমি গর্ব করে আমেরিকায় বলি আমি বাংলাদেশি আমি সিলেটি সুনামগঞ্জের ছেলে। বিশ্বেরে সব জায়গায় আপনি সিলেটের বাসিন্দাদের পাবেন এবং তারা সম্মানের সহিত প্রবাসে কাজ করে যাচ্ছে।
সিলেট বিভাগের মানুষের এই সাফল্য শুধু অর্থনৈতিক নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতাও গড়ে তুলেছে। যুক্তরাজ্য, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে তাঁরা প্রতিষ্ঠা করেছেন শত শত মসজিদ, স্কুল ও সামাজিক সংগঠন। প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের জন্য বাংলা ভাষা শেখার স্কুল, সাহিত্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক আসরের ব্যবস্থাও করছেন তারা। দেশে ফিরে কিংবা প্রবাস থেকেই সিলেট অঞ্চলের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে অর্থায়ন করছেন অনেক প্রবাসী।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের থাকা মো. মোস্তাক আহমদ বলেন, আরবের দেশ প্রবাসীদের জন্য কষ্টের হলেও আমাদের সিলেট বিভাগের অনেক বাসিন্দারা এখানে নিজের নামের পাশাপাশি নিজ দেশের নামটাও উজ্জ্বল করছেন। এখানে কাজ করে অনেক প্রবাসীরা মসজিদ, স্কুল ও সামাজিক, সাহিত্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক আসরের ব্যবস্থাও করছেন তারা। দেশে ফিরে কিংবা প্রবাস থেকেই তারা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে অর্থায়ন করছেন অনেক প্রবাসী।
সিলেটি প্রবাসীদের সাফল্য, প্রবাসী বাংলাদেশি, রেমিটেন্স সিলেট, সিলেট বিভাগ প্রবাস