সিলেটে কোরবানির পশুর এক লাখ ১২ হাজার কাঁচা চামড়া সংরক্ষণ
ব্যবসা-বাণিজ্য
প্রকাশঃ ৩০ মে, ২০২৬ ১১:৩০ অপরাহ্ন
এবারের ঈদুল আজহায় সিলেটে অন্তত এক লাখ ১২ হাজার কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করেছেন ব্যবসায়ীরা। এরমধ্যে গরুর চামড়া রয়েছে ৯০ হাজার ও খাসি-ছাগলের চামড়া ২২ হাজার। সংগৃহীত চামড়াগুলো লবন দিয়ে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। ১০ থেকে ১২ দিন পর বাজার পরিস্থিতি বুঝে ট্যানারি বা বড় ক্রেতাদের কাছে চামড়া বিক্রি করা হবে।
শনিবার (৩০ মে) রাতে শাহজালাল চামড়া ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সহসভাপতি শাহিন আহমদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, এ বছর সিলেটে সরকার নির্ধারিত দামের ধারে-কাছেও বিক্রি হয়নি কোরবানির পশুর চামড়া। কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পেয়ে অনেকেই চামড়া বিনামূল্যে দান করেছেন, আবার কেউ বিক্রি করেছেন নামমাত্র মূল্যে। কোথাও কোথাও চামড়া নদীতে ফেলে দেওয়া কিংবা মাটিচাপা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, যেসকল চামড়া দেরিতে বিক্রির জন্য আনা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে কিছু চামড়া নষ্ট হয়ে গেছে। এগুলো কেউ কেউ ফেলে দিয়েছেন।
অন্যদিকে, ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে সিলেটের ব্যবসায়ীদের বছরের পর বছর ধরে বকেয়া থাকা পাওনা টাকা উদ্ধার না হওয়ায় নতুন করে আবার কোনো জটিলতা সৃষ্টি হবে কি না—তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। ফলে পর্যাপ্ত দাম নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন তারা।
সিলেটের প্রধান চামড়া সংগ্রহকারী সংগঠন শাহজালাল চামড়া ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতি সূত্রে জানা গেছে, সিলেট মহানগর ও জেলার ১৩টি উপজেলায় অন্তত এক লাখ ১২ হাজার কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছে। এরমধ্যে গরুর চামড়া রয়েছে ৯০ হাজার ও খাসি-ছাগলের চামড়া ২২ হাজার। জেলার বড় বড় ব্যবসায়ী ছাড়াও উপজেলা পর্যায়ে চামড়া সংগ্রহ করেছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, মানভেদে গরুর চামড়া ২০০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত দরে ক্রয় করেছেন। তাছাড়া খাসি ও ছাগলের চামড়া মানভেদে প্রতিফুট ১৫-২০ টাকায় কিনেছেন।
নগরীর পাঠানটুলার বাসিন্দা রিয়াজুদ্দিন জানান, চামড়ার বাজার পরিস্থিতি ভালো না হওয়ায় তিনি তার পশুর চামড়া কাজিবাজার মাদরাসায় দান করেছেন।
বাগবাড়ি সিটি আবাসিক এলাকার বাসিন্দা ফয়েজ আহমদ বলেন, চামড়া ব্যবসায়ীদের কাছে চামড়া বিক্রি করলে ২০০ টাকাও পেতাম না। এজন্য স্থানয়ি একটি মাদরাসায় দান করে দিয়েছি।
এদিকে ঈদের কয়েক দিন আগে সিলেটের কওমি মাদ্রাসাগুলো চামড়া সংগ্রহ না করার ঘোষণা দিলেও, শেষ পর্যন্ত তারা সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ায়। বাণিজ্যমন্ত্রীর নির্দেশনা ও জেলা প্রশাসকের সহায়তায় শেষ মুহূর্তে তারা চামড়া সংগ্রহে নামে। মূলত এই কওমি মাদ্রাসাগুলোর কাছ থেকেই স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সিংহভাগ চামড়া সংগ্রহ করে থাকেন।
শাহজালাল চামড়া ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সদস্য মো. শাহজাহান জানান, বৃহস্পতিবার কোরবানির পর সিলেট মহানগর এলাকা থেকে চামড়া সংগ্রহ শুরু হয়েছে হয়েছে। ব্যবসায়ীরা চামড়া সংগ্রহ করলেও এর ভবিষ্যৎ ও দাম নিয়ে চরম শঙ্কায় আছেন।
তিনি আরও বলেন, জকিগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, কানাইঘাট, ফেঞ্চুগঞ্জ ও গোয়াইনঘাটসহ বেশ কয়েকটি উপজেলায় এবার চামড়া সংগ্রহ পরিস্থিতি খুবই হতাশাজনক। অনেকে উপযুক্ত দাম না পেয়ে তাদের পশুর চামড়া হয় কাউকে বিনামূল্যে দিয়ে দিয়েছেন, না হয় নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন।
শাহজালাল চামড়া ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সহসভাপতি শাহিন আহমদ বলেন, কোরবানির পশুর অন্তত ১ লাখ ১২ হাজার কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছে। অধিকাংশ চামড়ায় ইতোমধ্যে লবণ দেওয়া হয়েছে এবং সংরক্ষণের কাজ চলছে। এখনো চামড়া বিক্রি শুরু হয়নি। সাধারণত ১০-১২ দিন পর বাজার পরিস্থিতি বুঝে বিক্রি করা হবে।
সরকার নির্ধারিত দামে চামড়া কেনাবেচা বাস্তবে সম্ভব হয় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিবছরই সরকারি দামের সঙ্গে বাজারদরের পার্থক্য থাকে। গরুর চামড়ার ক্ষেত্রে মানভেদে দাম নির্ধারণ করা হয়। তাছাড়া মাদরাসা ও এতিমখানার সংগ্রহ করা চামড়ার দাম গুণগত মান অনুযায়ী দাম ভিন্ন হয়।
তিনি আর বলেন, ব্যবসায়ীরা ফুট হিসেবে চামড়া বিক্রি করেন। বড়, মাঝারি ও ছোট চামড়া আলাদাভাবে শ্রেণিবিন্যাস করে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
লবণের কোনো সংকট নেই জানিয়ে শাহিন আহমদ বলন, উপজেলা ও শহর পর্যায়ে প্রয়োজনীয় লবণ সরবরাহ করা হয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত লবণ দেওয়ার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। কোরবানির ৫-৭ ঘণ্টার মধ্যে লবণ দিতে পারলে চামড়া নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমে।
ঈদুল আজহা, কোরবানির পশুর চামড়া