সিলেটের ফয়সাল মাহমুদসহ পুলিশের ১৭ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে
দৈনন্দিন
ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানালেন নগরবাসীকে
প্রকাশঃ ৩০ মে, ২০২৬ ৫:৩০ অপরাহ্ন
পূর্বঘোষিত প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে পশুর কোরবানির পর মাত্র ৮ ঘণ্টার মধ্যেই সিলেট নগরীকে সম্পূর্ণ বর্জ্যমুক্ত করেছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক)। সিসিকের পরিচ্ছন্নতা শাখার কর্মীদের নিরলস পরিশ্রমে ঈদের দিন বিকেল ৬টার মধ্যেই নগরের সবকটি ওয়ার্ডের বর্জ্য অপসারণ করে চারপাশ পূর্বের পরিচ্ছন্ন অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
এই সফল কর্মযজ্ঞের পর শনিবার (৩০ মে) সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। সভায় তিনি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন এবং এই বিশাল কাজে সহযোগিতার জন্য নগরবাসী, সাংবাদিকবৃন্দ ও সিসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
মতবিনিময় সভায় সিসিক প্রশাসক জানান, ঈদ ও ঈদের পরদিন মিলিয়ে দুই দিনে সিলেট নগরীতে প্রায় ২৫ হাজার পশু কোরবানি হয়েছে। বিপুল পরিমাণ এই কোরবানির বর্জ্যের পাশাপাশি নগরের ১টি স্থায়ী ও ৫টি অস্থায়ী অনুমোদিত পশুর হাট এবং বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে বসানো অনেকগুলো পশুর হাটের বর্জ্যও সিসিককে অপসারণ করতে হয়েছে। সব মিলিয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা রেকর্ড সময়ে নগরী থেকে কমপক্ষে ১৩শ টন বর্জ্য অপসারণ করেছেন।
তিনি আরও জানান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সুশৃঙ্খল ও পরিবেশবান্ধব করতে সিসিকের পক্ষ থেকে এবার ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। কোরবানিদাতাদের তালিকা তৈরি করে সিসিকের নিজস্ব উদ্যোগে প্রায় ৩০ হাজার পরিবেশবান্ধব পলিব্যাগ এবং জীবাণু ও দুর্গন্ধ ছড়ানো রোধে ৫ হাজার কেজি (৫ টন) ব্লিচিং পাউডার ও তরল জীবাণুনাশক বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া নাগরিকদের তাৎক্ষণিক যোগাযোগের জন্য সার্বক্ষণিক চালু ছিল বিশেষ হটলাইন নম্বর।
সিসিক প্রশাসক জানান, বুধবার রাত থেকেই সিসিকের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বিভিন্ন হাটের বর্জ্য পরিষ্কারের কাজ শুরু করেন। ঈদের দিন মূল বর্জ্য অপসারণ কাজে সহস্রাধিক শ্রমিক দিনরাত পরিশ্রম করেছেন। বর্জ্য পরিবহনে সিসিকের নিজস্ব ৬০টি ট্রাকের পাশাপাশি ভাড়ায় চালিত আরও ৫৫টি ভারী ট্রাক ও ডাম্পার ব্যবহার করা হয়। সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার সকাল থেকেই নগরের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে ঘুরে এই কার্যক্রম সরেজমিন পরিদর্শন করেন ও প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেন। প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ছিলেন সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) একলিম আবদীন।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ১২ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা থাকলেও, আমরা চ্যালেঞ্জ নিয়ে ৮ ঘণ্টার মধ্যেই সিলেটবাসীকে পরিচ্ছন্ন নগরী উপহার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও সচেতন নগরবাসীর যৌথ প্রয়াসেই এই দূরূহ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়েছে।
এ সাফল্যে সিলেট নগরবাসী ও সিসিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানান সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, নির্ধারিত স্থানে কোরবানি দিয়ে এবং বর্জ্য ব্যাগে ভরে আমাদের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের হাতে তুলে দিয়ে নগরবাসী যে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।
একই সাথে ঈদের আনন্দ বিসর্জন দিয়ে দিনরাত নিরলস পরিশ্রম করা সিসিকের কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আপনাদের এই ত্যাগ ও কর্তব্যনিষ্ঠা সিসিক পরিবার সব সময় মনে রাখবে।
ভবিষ্যতে আরও ভালো করার উৎসাহ ও প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, এই সফলতা আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। ভবিষ্যতে যেকোনো উৎসব বা দুর্যোগে আমরা এর চেয়েও আরও দ্রুত ও আধুনিক নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে পারব। আসুন, সবাই মিলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমাদের ভালোবাসার সিলেট নগরীকে একটি পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও আদর্শ গ্রিন সিটিতে রূপান্তর করি।
সভায় সিসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) একলিম আবদীনসহ সিসিকের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সিলেট সিটি করপোরেশন, সিসিক, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, কোরবানির বর্জ্য, সিলেট নগরী