০৪ মে ২০২৬

অপরাধ-বিচার / অপরাধ

সিলেট সীমান্তে ১৭ দিনে ২৭২ জনকে পুশইন, বাড়ছে উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ২৫ মে, ২০২৫ ১১:১১ অপরাহ্ন


সিলেট সীমান্ত দিয়ে একের পর এক শত শত মানুষকে পুশইন (জোরপূর্বক ঢুকিয়ে দেওয়া) করছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। চলতি মাসের ৮ থেকে ২৫ মে পর্যন্ত ১৭ দিনে ২৭২ জনকে পুশইন করা হয়েছে। এ ঘটনাগুলোর সব মৌলভীবাজার ও সিলেট সীমান্ত দিয়ে ঘটছে।


বিষয়টি নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় সিলেট সীমান্তজুড়ে সতর্কতা ও তৎপরতা বাড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তবুও থামছে না পুশইন। সর্বশেষ রোববার সিলেট ও মৌলভীবাজার সীমান্ত দিয়ে আরও ১৫৩ জনকে পুশইন করেছে বিএসএফ। তাদের বাড়ি দেশের বিভিন্ন জেলায়। 


শনিবার (২৪ মে) গভীর রাত থেকে রোববার (২৫ মে) সকাল ৮টা পর্যন্ত পুশইন করা হয়। তবে বাংলাদেশে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই তাদের আটক করেছে বিজিবি। এদের মধ্যে বড়লেখার লাতু বিওপি ক্যাম্প আটক করে ৭৯ জন, পাল্লাথল বিওপি ক্যাম্প আটক করে ৪২ জন ও নয়াগ্রাম বিওপি ক্যাম্প আটক করে ৩২ জনকে। 
বিজিবি জানায়, ঘন জঙ্গল ও বিলের মধ্য দিয়ে তাদের বাংলাদেশে পাঠানো হয়। বিজিবি ৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 


সীমান্তে পুশ-ব্যাক বা পুশ-ইন এমন একটা পদ্ধতি যেখানে ধরা পড়া ব্যক্তিদের সীমান্তে নিয়ে গিয়ে অন্য দেশের সীমান্তে ঠেলে দেওয়া হয়ে থাকে। ভারতের দিক থেকে যেটা পুশ-ব্যাক, বাংলাদেশের চোখে সেটাই পুশ-ইন। এই প্রক্রিয়ার কোনো আইনি স্বীকৃতি নেই ভারতে। কিন্তু সম্প্রতি এভাবে শত শত বাংলাদেশীকে জোরপূর্বক সীমান্তে এনে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে।


জানা যায়, সীমান্ত পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠায় ভারতের মেঘালয়ের পূর্ব জৈন্তিয়া হিলস জেলাসহ তিনটি জেলায় আন্তর্জাতিক সীমান্তজুড়ে রাত্রিকালীন কারফিউ জারি করা হয়েছে। রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করে সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ৫শ মিটার পর্যন্ত এলাকায় কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এতে অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান, গবাদিপশু পারাপার, অস্ত্র বা বিপজ্জনক বস্তু বহনের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।


তবুও থামছে না পুশইনের মতো ঘটনা। সম্প্রতি সিলেট সীমান্তজুড়ে আরও বেড়েই চলছে এরকম বেআইনী কার্যক্রম। 


বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ মে সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত দিয়ে ২১ বাংলাদেশিকে পুশইন করেছে বিএসএফ। তাদের মধ্যে ১২ জন পুরুষ, চারজন নারী ও পাঁচজন শিশু ছিলেন। এর আগে গত ১৪ মে একই উপজেলার ডোনা সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে আরও ১৬ নারী-পুরুষকে পুশইন করা হয়। তাদের মধ্যে আটজন পুরুষ, ছয়জন নারী ও দুজন শিশু ছিলেন। 


গত ২২ মে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের মুরইছড়া সীমান্ত দিয়ে শিশুসহ ৭ বাংলাদেশিকে পুশইন করেছে বিএসএফ। আটকদের মধ্যে ছিলেন দুইজন পুরুষ, দুইজন নারী ও তিন শিশু। তারা সবাই কুড়িগ্রাম জেলার বাসিন্দা।


গত ১৬ মে মৌলভীবাজারের বড়লেখার নিউ পাল্লাথল সীমান্ত এলাকা দিয়ে আরও ১৬ জনকে পুশইন করেছে বিএসএফ। এরমধ্যে ১৪ জন নারী ও দুজন পুরুষ ছিলেন। 


গত ১৪ মে মৌলভীবাজারের বড়লেখার পাল্লাতল সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ৪৪ জনকে পুশইন করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৩ জন পুরুষ, ১৮ জন নারী ও ১৩ শিশু ছিলেন। 


এর আগে গত ৮ মে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে আরও ১৫ জনকে পুশইন করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৯ জন পুরুষ, তিনজন নারী ও তিনজন শিশু ছিলেন। 


এদিকে, সীমান্তে পুশ-ব্যাক ঠেকাতে তৎপর বিজিবি। গোয়াইনঘাটের খাসিয়া হাওড়, তামাবিল, সোনাটিলা, সংগ্রামপুঞ্জি, পান্তুমাই, বিছনাকান্দিসহ ১৯টি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত পয়েন্টে টহল জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। 


সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. নাজমুল হক বলেন, ‘ ৪৮ বিজিবির আওতাধীন এলাকা দিয়ে এখনও পুশইন-পুশব্যাকের ঘটনা ঘটেনি। তবুও সীমান্তজুড়ে নজরদাড়ি বাড়ানো হয়েছে। প্রশাসন, আনসার ও স্থানীয় ব্যক্তিদের এ বিষয়ে সহযোগীতা চাওয়া হয়েছে। যাতে সীমান্তে এ ধরণের অপৎপরতার খবর পেলেই বিজিবিকে জানাতে পারেন।  


বিজিবি ৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী হাসান, 'সীমান্ত এলাকার কিছু অংশ পাহাড়ি আবার কিছু এলাকায় জলাভূমি বিল থাকায় জিরো পয়েন্ট থেকে নজরদারি কঠিন। বিএসএফ তাদের এলাকায় স্থাপিত নিরাপত্তা লাইট বন্ধ করে দিয়ে মানুষদের সীমান্তের এপারে ঠেলে দেয়। পরে টহল বিজিবি তাদের আটক করে।'


তিনি আরও বলেন, বিজিবির হাতে আটকের পর পরিচয় যাচাই করে বাংলাদেশি নাগরিক বলে মানবিক দিক বিবেচনায় তাদের পরিবারের কাছে পাঠানোর জন্য পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।


শেয়ার করুনঃ

অপরাধ-বিচার থেকে আরো পড়ুন

পুশইন, পুশব্যাক, বাংলাদেশ, ভারত, বংলাদেশ-ভারত, সীমান্ত, বিজিবি, বিএসএফ

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ