মৌলভীবাজারে বিপৎসীমার ওপরে জুড়ী নদীর পানি
কৃষি
প্রকাশঃ ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:২৪ অপরাহ্ন
কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বোরো ধান কাটার মৌসুমে এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। অনেক জায়গায় ধানক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে, কোথাও আবার কাটা ধানও রক্ষা করা যাচ্ছে না।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভারী বর্ষণে ইতোমধ্যে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর ধানি জমি প্লাবিত হয়েছে। এতে চলতি মৌসুমে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
হাওর ঘুরে দেখা গেছে, বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ ও লাখাই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকেরা কোমর থেকে বুকসমান পানিতে নেমে ধান কাটার চেষ্টা করছেন। ছোট নৌকায় করে কাটা ধান সরিয়ে নিচ্ছেন নিরাপদ স্থানে। কোথাও কোথাও বাতাসে লুটিয়ে পড়া ধান তুলতে গিয়ে সময় ও শ্রম দুটোই বেড়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় পানিতে কাজ করায় অনেকে অসুস্থও হয়ে পড়ছেন।
বানিয়াচংয়ের কৃষক সমুজ মিয়া বলেন, “হঠাৎ করে পানি বাড়ায় প্রস্তুতির সময় পাইনি। এখন যা কাটছি, সেটাও ঠিকমতো শুকাতে পারছি না।” একই এলাকার রিপন মিয়ার আশঙ্কা, কেটে রাখা ধান ভিজে পচে যেতে পারে।
আজমিরীগঞ্জের কৃষক সুজন মিয়া জানান, প্রতি বছর এই সময়ে ঝুঁকি থাকে, তবে এবারের পরিস্থিতি বেশি ভয়াবহ। বজ্রপাতের শঙ্কায় অনেক শ্রমিক হাওরে যেতে চাইছেন না, এতে ধান কাটার কাজও ধীর হয়ে গেছে।
অনেক কৃষক ইতোমধ্যে ধান কেটে খলায় জমা করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ পানি ঢুকে সেসব খলাও তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রাখার চেষ্টা করা হলেও তাতে খুব একটা সুফল মিলছে না বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
বুধবার বিকেলে বানিয়াচং উপজেলার সুজাতপুরের দত্তগাঁও অংশে খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে ও উপচে পানি হাওরে ঢুকে পড়ে। অল্প সময়েই শত শত একর জমি প্লাবিত হয়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর জেলায় ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৪ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৯৪ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের। তবে এখনো প্রায় ৪৯ শতাংশ ধান কাটা বাকি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক বলেন, “বৃষ্টির কারণে কিছু জমি তলিয়ে গেছে। দ্রুত ধান কাটার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ক্ষতি আরও বাড়তে পারে।”
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ছায়েদুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। কালনী-কুশিয়ারা নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ১৬০ সেন্টিমিটার নিচে থাকলেও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
হবিগঞ্জ, হাওরাঞ্চল, বোরো ধান, কৃষক