
নির্বাচনের পর প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের সিলেট সফরকে ঘিরে পুরো নগরজুড়ে এখন ব্যস্ততা, প্রস্তুতি আর এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। আগামী ২ মে নির্ধারিত এই সফরকে সামনে রেখে প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে চলছে বহুমাত্রিক প্রস্তুতি। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রস্তুতিমূলক সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সিলেট নগরের প্রধান সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও স্থাপনাগুলো নতুন করে সাজানো হচ্ছে। রাস্তা মেরামত, সড়কের পাশে গাছপালা ছাঁটাই, সরকারি ভবনের সৌন্দর্যবর্ধন সবকিছুতেই দেখা যাচ্ছে তৎপরতা। সিলেট সিটি কর্পোরেশন অপ্রয়োজনীয় ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণ করে নগরকে পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগ নিয়েছে।
বিশেষ করে সিলেট সার্কিট হাউস এলাকায় চলছে জোর প্রস্তুতি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, মশা নিধন কার্যক্রমসহ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একাধিক দপ্তরের কর্মকর্তারা নিয়মিত পরিদর্শন করছেন।
সফরসূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল সাড়ে ১০টায় হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করবেন। পরে সকাল ১১টায় সিলেট নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে সিলেট সিটি করপোরেশনের বিভন্ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান ও সুধী সমাবেশে যোগ দেবেন।
এরপর দুপুর ১২টায় সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের মাসুকবাজার এলাকায় বাসিয়া নদী পুন:খনন কাজের উদ্বোধন করবেন। পরে বিকেল ৩টায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬ এর উদ্বোধন করবেন।
সবশেষে তিনি বিকেল ৫টায় সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে দলীয় সভায় অংশ নেবেন। এরপর সন্ধ্যা ৭টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছাড়াও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মাঠে কাজ করছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট, নজরদারি এবং প্রটোকল অনুযায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সফরের সময়সূচি অনুযায়ী প্রতিটি স্থান আগেভাগেই প্রস্তুত রাখা হচ্ছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে শুধু প্রশাসনিক নয়, জনমানুষের মাঝেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। নগরের বিভিন্ন স্থানে স্বাগত ব্যানার, আলোকসজ্জা এবং দলীয় কর্মসূচির কারণে এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অতীতেও সিলেটে তাঁর সফর ঘিরে এমন জনসমাগম ও উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।
চাঁদনীঘাট এলাকার ব্যবসায়ী বর্মণ দাস বলেন, প্রধানমন্ত্রী আসছেন এটা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। শহরজুড়ে যে প্রস্তুতি ও সাজসজ্জা চলছে, তাতে একটা উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। আশা করছি, এই সফরের মাধ্যমে সিলেটের উন্নয়নে নতুন কিছু উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী বলেন, আগামী ২ মে প্রধানমন্ত্রীর সিলেট সফরকে ঘিরে পুরো সিলেটবাসী প্রস্তুত রয়েছে। সফরকালে তিনি দলীয় নেতৃবৃন্দদের সাথে বৈঠক করবেন। সেখানে দলকে সাংগঠনিকভাবে পরিচালনার বার্তা দিবেন তিনি। এছাড়া বরাবরই তারেক রহমানকে সিলেটবাসী আনন্দের সাথে বরণ করেছেন এবার তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার সিলেট আসছেন আমি আশা করি মানুষ উনাকে দেখার জন্য অধির আগ্রহে বসে আছে।
সিলেট সিটি কর্পোরেশন-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে সিলেট নগরজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা, সৌন্দর্যবর্ধন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হবে।
শেয়ার করুনঃ
দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন
সিলেট, প্রধানমন্ত্রী, তারেক রহমান, সিলেট সিটি করপোরেশন, পুলিশ, উৎসব


