যাদুকাটায় তীর কেটে বালু লুট, ৬ জনকে আসামি করে মামলা
অপরাধ-বিচার
প্রকাশঃ ২৪ মে, ২০২৫ ২:০৯ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের ছাতকে টিআর, কাবিখা, কাবিটা ও এডিপির ২২৭টি উন্নয়ন প্রকল্পে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগের পর থেকেই গা ঢাকা দিয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কেএম মাহবুব রহমান। গত ১৭ মে (শনিবার) থেকে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।
কার্যালয়ে পিআইও অনুপস্থিত থাকায় প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের বিলের অর্থও আটকে গেছে, চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রকল্প কমিটির সদস্যরা।
সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ছাতকে যোগদান করেন কেএম মাহবুব রহমান। এরপর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে গড়ে তোলেন একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। অভিযোগ রয়েছে, এই সিন্ডিকেটের ছত্রছায়ায় প্রকল্প না করেই টাকা আত্মসাৎ, ঘুষ গ্রহণ এবং সম্পদের পাহাড় গড়েছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশ হলেও অজানা কারণে তিনি বহাল তবিয়তেই থেকে যান।
সর্বশেষ চলতি অর্থবছরের ২২৭টি প্রকল্পে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষাপটে ১৬ মে সন্ধ্যায় ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তার সঙ্গে আলোচনায় বসেন। ওই সময় উপস্থিত ছিলেন কার্যালয়ের কার্যসহকারী নাজমুল ইসলাম। ইউএনও স্পষ্ট জানিয়ে দেন, প্রকল্পে ঘুষ গ্রহণের কোনো অভিযোগই ছাড় দেওয়া হবে না।
এর পরদিন থেকেই অফিসে আর আসেননি মাহবুব রহমান। ওই রাতেই তিন দিনের ছুটির একটি আবেদন লিখে ইউএনওকে না দিয়ে নিজের কার্যালয়ের টেবিলে রেখে গোপনে ছাতক ত্যাগ করেন তিনি।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, নিজের দুর্নীতি চাপা দিতে ইউএনও ও কার্যসহকারী নাজমুল ইসলামের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে একটি অভিযোগ দিয়েছেন কেএম মাহবুব। পাশাপাশি ঘুষ-দুর্নীতির তথ্য ফাঁসের আশঙ্কায় নাজমুল ইসলামকে রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি উপজেলায় বদলি করানো হয়েছে।
মুক্তিরগাঁও গ্রামের প্রকল্প সেক্রেটারি ইজাজুল হক রনি অভিযোগ করে বলেন, 'রাস্তায় মাটি ভরাট কাজের জন্য পিআইও তার কাছ থেকে ২৪ হাজার ৫০০ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। আরেক প্রকল্পের সেক্রেটারি বাহাউদ্দিন শাহীর কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা দাবি করেন মাহবুব রহমান।'
এ বিষয়ে কার্যসহকারী নাজমুল ইসলাম বলেন, 'ইউএনও ও পিআইওর মধ্যে বাকবিতণ্ডার পর থেকে অফিসে অনুপস্থিত তিনি। শুনেছি, আমাকে বদলির সুপারিশও করেছেন।'
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেএম মাহবুব রহমান ফোন রিসিভ না করে কেটে দেন।
অন্যদিকে দোয়ারাবাজার উপজেলার পিআইও লুৎফুর রহমান বলেন, 'প্রকল্পের অর্থ লেনদেনের বিষয়ে কিছু জানি না। তবে ইউএনও-পিআইওর বাকবিতণ্ডা ও নাজমুলের বদলির বিষয়টি শুনেছি।'
ছাতক পিআইও দুর্নীতি, কেএম মাহবুব রহমান, সুনামগঞ্জ প্রকল্প অনিয়ম, ঘুষ লেনদেন উন্নয়ন প্রকল্প