অবশেষে ১৫ থেকে ২০ টাকা বাড়লো জ্বালানি তেলের দাম
দৈনন্দিন
বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই কৃষকের মৃত্যু
প্রকাশঃ ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ৬:৫৮ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে, পাশাপাশি হাওরের বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি এবং অন্তত ১০টি গরু মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেল তিনটার দিকে হঠাৎ করেই শুরু হয় তুমুল কালবৈশাখী ঝড়। এর সঙ্গে ছিল প্রবল শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাত। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান কৃষক লিটন মিয়া। পরে তাকে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন। নিহত লিটন মিয়া চরনারচর ইউনিয়নের পেরুয়া (আশনাবাজ) গ্রামের বাসিন্দা।
জানা গেছে, ঝড়ের সঙ্গে হওয়া শিলাবৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন হাওরে পাকা বোরো ধানের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে রফিনগর ইউনিয়নের কালিয়াকুটা হাওরে ধানের ব্যাপক ক্ষতির কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য প্রেমানন্দ চৌধুরী বলেন, ‘শিলাবৃষ্টির তাণ্ডবে হাওরের প্রায় সব ধান ঝরে গেছে।’
এদিকে ঝড়ের সময় নদী পার হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে অন্তত ১০টি গরু মারা গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বলনপুর ও জগন্নাথপুর গ্রামের বিভিন্ন কৃষকের এসব গরু ছিল।
স্থানীয়রা জানান, প্রবল ঝড়ে দিকভ্রান্ত হয়ে গরুগুলো পানিতে পড়ে যায় এবং সাঁতরে পার হতে না পেরে মারা যায়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনোরঞ্জন অধিকারী জানান, রফিনগর ইউনিয়নের বলনপুর ব্লকের পাগনার হাওড় এবং কালিকুটা হাওরের বিভিন্ন এলাকায় শিলাবৃষ্টিতে বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি চরনারচর ইউনিয়নের এলংজুড়ি, পেরুয়া, মধুপুর, শেরপুর, কানুপুর, আলীপুর, শতানন্দপুর, বক্তারপুর, হাছনাবাদ ও নুরপুর গ্রামেও শিলাবৃষ্টির প্রভাব পড়েছে।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে প্রায় ৫০০ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও ৭০ শতাংশ, কোথাও ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ফসল নষ্ট হয়েছে। আগামীকাল মাঠ জরিপ শেষে পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানা যাবে।
ঝড়ে ছোট-বড় কয়েকটি নৌকাও ভেঙে গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। হাওরপাড়ের কৃষকদের মাঝে নেমে এসেছে হতাশা; ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোতে চলছে বুকফাটা কান্না।
দিরাই কালবৈশাখী ঝড়, সুনামগঞ্জ শিলাবৃষ্টি, হাওরের ধান ক্ষতি, বজ্রপাতে মৃত্যু, বোরো ফসল ক্ষতি