২৩ এপ্রিল ২০২৬

প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ / দুর্যোগ

বৃষ্টি ও ঢলে সুনামগঞ্জের হাওরে পানি বাড়ছে, আপাতত বন্যার আশঙ্কা নেই

প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ

প্রকাশঃ ২১ মে, ২০২৫ ১২:৩৪ অপরাহ্ন


সুনামগঞ্জ ও ভারতের চেরাপুঞ্জিতে গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাতের কারণে হাওর ও নদ-নদীতে স্বাভাবিকভাবে পানি বাড়ছে। সুরমা ও কুশিয়ারা নদীসহ বিভিন্ন নদীর পানি কিছুটা বাড়লেও তা এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। ফলে আপাতত বন্যার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বন্যা–সংক্রান্ত তথ্য এবং অতীত অভিজ্ঞতায় সুনামগঞ্জের নদীতীরবর্তী ও হাওরাঞ্চলের মানুষজনের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার লালপুর গ্রামের কৃষক ফরিদ আলী বলেন, 'হাওরের ধান কাটা শেষ। এখন পানি আসলে সমস্যা নেই। কিন্তু বন্যা হলে কষ্ট বাড়বে। ঘরে ধান তুলেছি, ঘরটাও মেরামত করা দরকার ছিল, কিন্তু বৃষ্টির কারণে কিছুই করতে পারছি না। পানি বাড়ার খবর শুনলেই ভয় লাগে।'

সুরমা নদীর তীরবর্তী বড়পাড়ার গৃহবধূ সুরেজান বিবি বলেন, 'আমার ঘর নদীর একদম পাশে। প্রতিবছর বন্যায় পানি ঢুকে পড়ে। এবারও পানি বাড়তে দেখে ভয় লাগছে। রাতে চিন্তায় ঘুম আসে না।'

অন্যদিকে, অনেকেই বলছেন এই পানি হাওরের জন্য আশীর্বাদ। বৃষ্টির পানিতে হাওর জীবন্ত হয়ে ওঠে। এতে দেশি মাছের প্রবেশ ঘটে, যা স্থানীয় মৎস্যজীবীদের জীবিকার প্রধান উৎস।

শান্তিগঞ্জ উপজেলার ডুংরিয়া গ্রামের মৎস্যজীবী মুসা মিয়া বলেন, 'বর্ষায় যখন ধীরে ধীরে পানি বাড়ে, তখনই আমরা জাল ও ফাঁদ তৈরি করি। এখন মাছ বিক্রি করেই সংসার চলে, অনেকেই দেনা-পাওনাও মেটান। হাওরের পানিতে এখন কৈ, টেংরা, শিং, চিংড়িসহ নানা দেশি মাছ পাওয়া যাচ্ছে। আমরা চাই পানি আসুক, তবে যেন তা বন্যায় রূপ না নেয়।'

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পলাশ গ্রামের ইদ্রিস মিয়া বলেন, 'ফেসবুকে শুধু বন্যার খবর দেখি, অথচ হাওরে স্বাভাবিক হারে পানি ঢুকছে। খুব বেশি পানি এখনো হয়নি। এই পানিতে মাছ পাওয়া যাবে বলে আমরা গাছের ডালপালা ফেলছি, মাছ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছি।'

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, 'চেরাপুঞ্জি ও সুনামগঞ্জে যে বৃষ্টিপাত হচ্ছে, তা বর্ষাকালের স্বাভাবিক চিত্র। নদীর পানি কিছুটা বাড়লেও তা বিপৎসীমার অনেক নিচে রয়েছে। হাওরে পানি ধারণের যথেষ্ট জায়গা আছে, পুরোপুরি পরিপূর্ণ হতে আরও ১০ থেকে ১২ দিন সময় লাগবে।'

তিনি আরও বলেন, 'আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আগামী তিন দিনের মধ্যে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বন্যার তথ্য সঠিক নয়। আমরা পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছি এবং প্রয়োজন হলে আগেই সতর্কবার্তা দেওয়া হবে।'


শেয়ার করুনঃ

প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ থেকে আরো পড়ুন

সুনামগঞ্জ বন্যা পরিস্থিতি, সুরমা নদীর পানি, কুশিয়ারা নদীর পানি, হাওরে পানি বৃদ্ধি

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ