সুনামগঞ্জে আগাম বন্যার আশঙ্কা, দ্রুত পাকা ধান কাটার নির্দেশ
প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ
প্রকাশঃ ১৩ মার্চ, ২০২৬ ৬:৪৯ অপরাহ্ন
দীর্ঘ শুষ্ক মৌসুমের শেষে ফাল্গুন-চৈত্র মাসে বৃষ্টি ধানের জন্য উপকারী হওয়ায় বোরো ধানচাষীদের মুখে হাসি নিয়ে আসে। কিন্তু সে হাসিই ম্লান হতে থাকে যখন বৃষ্টিপাত দীর্ঘায়িত হয়, নিয়ে আসে আগাম বন্যার শঙ্কা।
শুক্রবার সিলেটে নেমেছে তেমনই স্বস্তির বৃষ্টি। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত তিন ঘন্টায় ৭৯ মিলিমিটারের ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। কিন্তু সে স্বস্তিকে ছাঁপিয়ে দেখা দিয়েছে ২০১৭ সালের মতো প্রলয়ঙ্করী আগাম বন্যার শঙ্কা।
বাংলাদেশ ও ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস এবং স্বতন্ত্র আবহাওয়াবিদদের দেয়া তথ্যমতে, শুক্রবার থেকে আগামী ১০ দিন সিলেট বিভাগ এবং তার উত্তরে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে প্রবল বর্ষণের পূর্বাভাস রয়েছে। দীর্ঘ এ প্রবল বর্ষণের ফলে পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হতে পারে বিস্তীর্ণ কৃষিভূমি।
২০১৭ সালের মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকেও ঠিক একইভাবে বৃষ্টিপাত শুরু হয়। সে বৃষ্টিপাত দীর্ঘায়িত হতে থাকলে মার্চের শেষসপ্তাহ থেকে নামতে থাকে ঢলের পানি। বৈশাখের আগেই নষ্ট হয়ে যায় সিলেট বিভাগ ও পার্শ্ববর্তী জেলাসমূহের সম্পূর্ণ বোরো ধানের আবাদ।
শুক্রবার বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রকাশিত ১২০ ঘন্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে আগামী ১৭ মার্চ পর্যন্ত ৫দিন সিলেট বিভাগসহ রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
একই সময়ে ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে যে মেঘালয় প্রদেশের সকল জেলায় ১৩ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত অতিবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে বৃষ্টিবলয় ‘গোধূলি’ দেশের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের জেলাগুলোতে আঘাত হানছে, যার ফলে এ অঞ্চলে ১৭ মার্চ পর্যন্ত ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
কানাডা প্রবাসী আবহাওয়া গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ তার একটি ফেসবুক পোস্টে জানান, আগামী ২৩ মার্চের মধ্যে সিলেট বিভাগের জেলাগুলোর উপর দিয়ে প্রতিদিন বৃষ্টির আশঙ্কা আছে, ১০ দিনে ৫০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় এবং এ সময় আগাম পাহাড়ি ঢল নামতে পারে ২০১৭ সালের মতো।
সিলেট, বৃষ্টিপাত, বন্যা, পূর্বাভাস, আগাম বন্যা, পাহাড়ি ঢল