২১ এপ্রিল ২০২৬

দৈনন্দিন / নগরজীবন

সিলেট অঞ্চলে তীব্র বিদ্যুৎ ঘাটতি, কোথাও লোডশেডিং ৪৫ শতাংশ

মোসাইদ রাহাত

প্রকাশঃ ২০ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:৪৪ অপরাহ্ন

ছবিঃ সিলেট ভয়েস গ্রাফিক্স

সিলেট বিভাগজুড়ে বিদ্যুতের তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক লোডশেডিং হচ্ছে, এতে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। তাছাড়া আগামীকাল থেকে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ায় দিনভর লোডশেডিং নিয়েই পড়াশুনা চালিয়ে যেতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যার তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এলাকায় ৬০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া গেছে মাত্র ৩৩ মেগাওয়াট। এতে ২৭ মেগাওয়াট ঘাটতি তৈরি হয়ে লোডশেডিং দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৫ শতাংশে।

সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এলাকায় ১১৫ দশমিক ৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া গেছে ৭৯ দশমিক ৩ মেগাওয়াট। এতে ৩৬ দশমিক ৩ মেগাওয়াট ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা প্রায় ৩১ দশমিক ৪ শতাংশ লোডশেডিং।

মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে ১০০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ৫৬ দশমিক ৮ মেগাওয়াট। এতে ৪৩ দশমিক ২ মেগাওয়াট ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে চাহিদা ছিল ১৪২ মেগাওয়াট, সরবরাহ পাওয়া গেছে ৮৩ মেগাওয়াট। ফলে ৫৯ মেগাওয়াট ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এলাকায় ৩৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ২৭ মেগাওয়াট। এখানে ৮ মেগাওয়াট ঘাটতি রয়েছে।

এদিকে সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) সূত্র জানায়, বিকেল ৫টার দিকে তাদের আওতায় ২১০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১৮০ মেগাওয়াট। এতে ৩০ মেগাওয়াট ঘাটতি ছিল।

ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে নগর ও গ্রাম উভয় এলাকায় জনদুর্ভোগ বাড়ছে। বিশেষ করে গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া আগামীকাল থেকে এসএসসি পরীক্ষা হওয়ায় দ্রুত পরিস্থিতি উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নগরীর আম্বরখানা এলাকার বাসিন্দা আকিমুল মিয়া বলেন,গরমে সারাদিন কাজ করি  বিদ্যুৎ থাকে না৷ এতো পরিমান লোডশেডিং হচ্ছে যে আমরা কেউ এর আগে কোন সময় দেখি নাই। সিলেটের যদি এই অবস্থা হয় তাহলে গ্রামেগঞ্জের অবস্থাতো আরো খারাপ। সরকারকে দ্রুতই এই সংকট মোকাবেলায় কাজ করতে হবে।

সুনামগঞ্জের পৌর শহরের বাসিন্দা সিফাত আহমদ বলেন, দিনে রাতে কারেন্ট তাকে তার মধ্যে বিদ্যুৎ অফিস প্রতিনিয়ত কাজের কথা বলে ৬-৭ ঘন্টা বিদ্যুৎ নিয়ে রাখে৷ আবার যখন বিদ্যুৎ আসে তখন ঘন্টায় ঘন্টায় লোডশেডিং করে৷ আগামীকাল থেকে বাচ্চাদের পরীক্ষা এভাবে হলে বাচ্চারা পড়ালেখা করবে কিভাবে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেট বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমাম হোসেন জানান, গরম বাড়ায় বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু উৎপাদন বাড়েনি। ফলে সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। যে কারণে লোডশেডিং হচ্ছে।”

সিলেটের পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পরেশ চন্দ্র মন্ডল বলেন, খুব দ্রুত এই সংকট কেটে যাবে বলে মনে হচ্ছে না, জাতীয় পর্যায়ে উৎপাদন যদি না বাড়ে সেক্ষেত্রে আমাদের কিছুই করার থাকবে না। আমরা যতটুকু বিদ্যুৎ পাব সেখান থেকে সেভাবেই সরবরাহ করতে হবে।


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

সিলেট বিদ্যুৎ সংকট, লোডশেডিং, এসএসসি পরীক্ষা, পল্লী বিদ্যুৎ, জনদুর্ভোগ

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ