০৬ মে ২০২৬

অপরাধ-বিচার / অপরাধ

একই কায়দায় দুই ছিনতাই, তবুও কেন ধরা পড়ছে না অপরাধীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:৩০ অপরাহ্ন


সিলেট নগরীতে মাত্র নয়দিনের ব্যবধানে একই কায়দায় দুইটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। দুটি ঘটনাই ঘটেছে আবাসিক এলাকায় বাসাবাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরার সামনে। পরে সেই ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।


কিন্তু প্রশ্ন ওঠছে ছিনতাইয়ের ঘটনা ক্যামেরায় ধরা পড়লেও কেন অপরাধীরা ধরা পড়ছে না? কারা এসব ছিনতাই করছে, আর কারাই বা ফুটেজ ছড়িয়ে দিচ্ছে?


এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন নগরবাসী। বিশেষ করে রমজান মাসে সকাল বেলা ফাঁকা নগরীতে চলাচলকারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রশ্ন ওঠছে, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে।


সাম্প্রতিক সময়ে দুই আলোচিত ঘটনায়ও একই কৌশল দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে নগরীর সাগরদিঘিরপার এলাকায় এক নারী হেঁটে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলযোগে এসে দুই ব্যক্তি তার পথরোধ করে ব্যাগ ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। ব্যাগ ছাড়তে না চাইলে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ভয় দেখানো হয়। পরে তারা সটকে পড়েন।


এর ঠিক ৯ দিন আগে ২৪ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৩টার দিকে নগরীর হাউজিং এস্টেট এলাকায় য় তিনটি মোটরসাইকেলে আসা ছিনতাইকারীরা সিএনজিচালিত অটোরিকশার গতিরোধ করে এক নারীর ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ওই নারীর ব্যাগে মাত্র ১৫ হাজার টাকা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।


দুটি ঘটনাই সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে এবং পরে সেই ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ অবস্থায় প্রশ্ন ওঠছে, ছিনতাইয়ের পরপরই সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়াচ্ছেন কারা। 
সংক্ষুব্ধ নাগরিকরা বলছেন, একটি বা একাধিক সংঘবদ্ধ চক্র এসব ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে। অনেক সময় মাদকাসক্ত তরুণ বা ছোটখাটো অপরাধচক্রের সদস্যরা এ ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। দ্রুত টাকা পাওয়ার আশায় তারা ঝুঁকিপূর্ণ অপরাধেও নামছে।


এদিকে, একাধিক ঘটনায় ফুটেজ ভাইরাল হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে না পারায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।


সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলনের সমন্বয়ক আব্দুল করিম কিম বলেন, ‘ছিনতাইয়ের ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরছে। মানুষ স্পষ্টভাবে দেখছে অপরাধ কীভাবে হচ্ছে। কিন্তু অপরাধীরা ধরা না পড়ায় মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হচ্ছে।


তিনি বলেন, নতুন সরকারের মন্ত্রী পরিষদে সিলেটের দুইজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী রয়েছেন। তাদের উপর মানুসের আস্থা রয়েছে। এ বিষয়ে তারা দ্রুতই উদ্যোগ নিবেন বলে মনে করেন তিনি।


সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। ফেসবুকে যাদের ছবি ছড়িয়ে পড়েছে এরা অপরাধী না। অপরাধীরা বাইরের এলাকা থেকে এসে দুটি ঘটনা ঘটিয়েছে। তাদের আটক করতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


তিনি বলেন, এই দুই ঘটনায় জড়িতরা আটক না হলেও বেশ কয়েকজন ছিনতাইকারীকে আটক করা হয়েছে। রমজান মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।


সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা সিসিটিভি ফুটেজ ছড়াচ্ছে তাদের ভিন্ন উদ্দেশ্য থাকতে পারে। তবে ছিনতাইকারীরা পরিকল্পনা করে ক্যামেরার সামনে গিয়ে ছিনতাই করবে এমনটা না।


শেয়ার করুনঃ

অপরাধ-বিচার থেকে আরো পড়ুন

সিলেট, ছিনতাই, আবাসিক এলাকা, অপরাধচক্র, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ