শত কোটি টাকা ছাড়াল চা শ্রমিকদের পিএফ বকেয়া, অনিশ্চয়তায় হাজারো পরিবার
ব্যবসা-বাণিজ্য
প্রকাশঃ ৩ মার্চ, ২০২৬ ৪:১০ অপরাহ্ন
মার্কিন–ইরান সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। ইরান প্রণালি বন্ধের হুমকি দেওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও গ্যাস পরিবহনের ভাড়া রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
ইরান ও ওমানের মাঝখানে অবস্থিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টা হামলার পর এ পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে বলে শিপিং সূত্র জানিয়েছে।
রয়টার্সের তথ্যমতে, ইরান ঘোষণা দিয়েছে প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে তা লক্ষ্যবস্তু করা হবে। যদিও মার্কিন সামরিক বাহিনী বলেছে, প্রণালি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়নি; তবু ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তায় অনেক জাহাজ মালিক কার্যক্রম স্থগিত রেখেছেন।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে চীনে দুই মিলিয়ন ব্যারেল তেল বহনকারী ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার (VLCC) জাহাজের মানদণ্ড ভাড়া সোমবার বিশ্বস্কেল সূচকে W419-এ উঠেছে—যা দিনে প্রায় ৪ লাখ ২৩ হাজার ডলারের সমান। এটি সর্বকালের সর্বোচ্চ।
শুক্রবারের তুলনায় এ হার দ্বিগুণ হয়েছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার নিহত হওয়ার পর উত্তেজনা আরও বাড়ে। পাল্টা হিসেবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এর জেরে তেল ও গ্যাস স্থাপনায় সতর্কতামূলক বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম এ সপ্তাহে প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে।
কাতার উৎপাদন স্থগিত রাখার ঘোষণা দেওয়ার পর এলএনজি ট্যাংকারের দৈনিক ভাড়া একদিনেই ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। আটলান্টিক রুটে দৈনিক ভাড়া উঠেছে ৬১ হাজার ৫০০ ডলারে, আর প্যাসিফিক রুটে ৪১ হাজার ডলারে।
জ্বালানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান উড ম্যাকেঞ্জির বিশ্লেষকেরা বলছেন, সরবরাহ সংকুচিত থাকলে এ সপ্তাহেই স্পট ভাড়া এক লাখ ডলার ছাড়াতে পারে।
দক্ষিণ কোরিয়ার শিপিং কোম্পানি হুন্দাই গ্লোভিস বিকল্প রুট ও বন্দর ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেশটির সামুদ্রিক মন্ত্রণালয় মধ্যপ্রাচ্যে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে সাময়িকভাবে বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে বলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত শিপিং খাতে স্থবিরতা অব্যাহত থাকবে। এতে শুধু পরিবহন ব্যয় নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ চেইনেও দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি হতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন প্রণালি আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ কতটা ব্যাহত হবে। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস রপ্তানির বড় অংশ এ পথের ওপর নির্ভরশীল। ফলে উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় আরও বাড়তে পারে।
মধ্যপ্রাচ্য, ইরান, মার্কিন–ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, সংঘাত