১২ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত ৪৯.২ মিমি, সিলেটে ফের বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা
প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ
প্রকাশঃ ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১০:৪৪ অপরাহ্ন
এক সময়ের খরস্রোতা নদী, যেখানে চলতো বড় বড় লঞ্চ-নৌকা, মিলতো প্রচুর মাছ আজ সেই নদীর বুকেই হচ্ছে বোরো ধানের চাষ। অবিশ্বাস্য মনে হলেও জেলার বিভিন্ন উপজেলার নদীগুলোর বর্তমান চিত্র এখন এমনই। নাব্যতা হারিয়ে ভরাট হয়ে পড়েছে অধিকাংশ নদী। খননের উদ্যোগ না থাকায় দিন দিন সংকট আরও তীব্র হচ্ছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জের ১২ উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ১০৬টি নদী রয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ নদীই বর্তমানে নাব্যতা সংকটে ভুগছে। বর্ষা মৌসুমে কিছুটা পানি থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে অনেক নদীর তলদেশ জেগে উঠে চরে পরিণত হয়। কোথাও কোথাও নদীর বুকেই ধান চাষ করছেন স্থানীয় কৃষকরা।
শান্তিগঞ্জ উপজেলার পুরাতন সুরমা নদীর জামলাবাজ গ্রামের বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে এখন বোরো ধানের আবাদ চলছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এক সময় সারা বছর নদীতে পানি থাকতো, বড় বড় নৌকা চলাচল করতো। এখন অনেক স্থানে নদী এতটাই ভরাট হয়েছে যে মানুষ হেঁটে পারাপার করছেন।
নদীতীরবর্তী বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, কখনও নদী শুকাতে দেখিনি। এখন নদীর তলা ভরাট হয়ে ধান চাষ হচ্ছে। এতে সেচের পানিরও সংকট দেখা দিয়েছে।
জামলাবাজ গ্রামের যুবক শহীদুল ইসলাম বলেন, নদী ভরাট হওয়ায় বর্ষায় বন্যা হয়, আবার শুকনো মৌসুমে পানির অভাব দেখা দেয়। যে নদী ছিল আশীর্বাদ, এখন তা দুঃখের কারণ।
সদর উপজেলার ভৈষভেড় গ্রামের বাসিন্দা বুরহান উদ্দিন বলেন, নিয়মিত খনন না করলে একদিন নদীর অস্তিত্বই থাকবে না। দীর্ঘদিন ধরে খননের দাবি জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরিবেশ ও মানবাধিকারকর্মী আলী আহমদের মতে, নদীর এ পরিবর্তন যতটা প্রাকৃতিক, তার চেয়ে বেশি মানবসৃষ্ট। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের পাশাপাশি অপরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রম ও নিয়মিত খননের অভাব নদীগুলোর এ করুণ অবস্থার জন্য দায়ী। উজান থেকে আসা পলি অপসারণ না হওয়ায় নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এতে হাওরাঞ্চলের জীবন-জীবিকা ও পরিবেশের ভারসাম্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের পওর-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমদাদুল হক জানান, জেলার প্রায় সব নদীই ভরাটের কবলে পড়েছে। এর মধ্যে ১৯টি নদী খননের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। তন্মধ্যে ১২টি নদী খননের একটি প্রকল্প বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, নতুন সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় নদী ও খাল খনন রয়েছে। সুনামগঞ্জের ভরাট হওয়া নদীগুলোও এ কর্মসূচির আওতায় আনার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হবে।
সুনামগঞ্জ, নদী, খনন, নাব্যতা সংকট