১৯ এপ্রিল ২০২৬

নির্বাচন / জাতীয় সংসদ নির্বাচন

হবিগঞ্জ-৪ আসনে প্রার্থীদের চোখ চা-শ্রমিকদের ভোটে

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ২:১৭ অপরাহ্ন


হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনে নির্বাচনের উত্তাপ ছড়িয়েছে। প্রচার-প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে ভোটের মাঠ। শেষ মূহুর্তে প্রার্থীদের চোখ পড়েছে চা-শ্রমিকদের ভোটে। প্রতিবারই নির্বাচনে এই আসনে চা-শ্রমিকদের ভোট ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে। যে কারনে প্রার্থীদের টার্গেট থাকে চা-শ্রমিকদের মন জয়ে। এবার এর ব্যতিক্রম নয়। প্রার্থীরা ছুটছেন চা-শ্রমিকদের দ্বারে দ্বারে। দিচ্ছেন উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি। তবে চা-শ্রমিকদের অভিযোগ, তাদের ভোটে প্রার্থীরা জয়ী হলেও নির্বাচনের পর দেখা মিলেনা কারাও। তাদের নিয়ে জয়ী প্রার্থীদের  ভাবনা থাকে না এক মুঠোও। ফলে রাস্তাঘাট, সুপেয় পানির অভাব, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল ও একটি মাত্র অ্যাম্বুলেন্সের অভাবে স্বাস্থ্য সেবার ঝুকিসহ নানা সমস্যায় ভুগতে হয় তাদের। এতে করে বাগানের শ্রমিকদের জীবন মান উন্নয়নে নেই কোন পরিবর্তন। তাই এবার ভোট বুঝে-শুনে প্রয়োগ করবেন বলে জানান অনেকেই। 

চা-শ্রমিকরা জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীরা তাদের সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধি করেছেন। তবে ভোটের প্রতি তাদের কোন আমেজ নেই। নির্বাচন আসলে প্রার্থীরা তাদের সাথে যোগাযোগ রাখলেও পরে তাদের খোজ মিলেনা। ভোটের আশায় পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিলে বাস্তবে ভিন্ন। প্রতিবারই নির্বাচনে ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে চা-শ্রমিকদের ভোট। চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলার বৈকণ্ঠপুর, লস্করপুর, চন্ডিছড়া, তেলিয়াপাড়া, নোয়াপাড়া ও সুরমাসহ ২৩টি বাগানের প্রায় লক্ষাধিক ভোটার রয়েছেন। ভাঙ্গাচুরা মাটির রাস্তায় চলতে হয় তাদের। অবকাঠামোগত উন্নয়ন না থাকায় নানা সমস্যায় তাদের দূর্ভোগ পোহাতে হয় বছরের পর বছর।
 
এদিকে, ওই আসনে নির্বাচনে ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও আলোচনায় বিএনপি মনোনীত (ধানের শীষ) প্রার্থী সৈয়দ ফয়সল ও ইসলামীক ফ্রন্ট মনোনীত (মোমবাতি) প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন আত্ব তাহেরী। তাদের মধ্যেই দেখা দিয়েছে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। মাঠে ঘাঠে বেশ আলোচনায় রয়েছেন তারা। 

স্থানীয়দের মতে, এবার নির্বাচনে দুজনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা থাকলেও চা-শ্রমিকদের ভোটে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির ফয়সল। কারণ তিনি দীর্ঘদিন ধরে চা-শ্রমিকদের পাশে রয়েছেন। শুরুতে থেকেই বাগান গুলোতে প্রচারণাও করছেন তিনি। তবে শেষ মূহুর্তে এসে চা-বাগান গুলোতে প্রচারনা চালাচ্ছেন তাহেরী। তিনি জয়ী হলে শুরুতেই কারাগারে থাকা এই আসনের জনপ্রিয় সাবেক সংসদ সদস্য ব্যরিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনকে মুক্ত করবেন বলে প্রচার করছেন। এতে করে তার ভোটের ব্যাংক অনেকটাই ভারি হচ্ছে। তবে ভোটাররা বলছেন ভিন্ন কথা। কোন প্রার্থীকে ভোট দিবে এখনো সিদ্ধান্ত নেননি তারা। তবে দুর্ভোগ লাঘবে এবার নির্বাচনে প্রার্থীদের কাছে উন্নত রাস্তাঘাট, সুপেয় পানির সুবিধা, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল নির্মাণ এবং স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত চান তারা। এসব প্রতিশ্রতি বাস্তবায়ন করবে এমন প্রার্থীকে ভোট দেয়ার পরিকল্পনা তাদের।

লস্করপুর চা বাগানের সুনীল বাউরী বলেন, ‘আমরা অসুস্থ হলে চিকিৎসা পাইনা। বাগানে একটি অ্যাম্বুলেন্স নাই। অসুস্থ হলে রোগিদের নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া কষ্ট হয়ে যায়। নির্বাচন আসলে প্রার্থীরা এসব দেয়ার কথা বললেও কেউ পূরন করে না। বাগানে সুপেয় পানির ব্যবস্থা ও হাসপাতাল নির্মান করবে এমন প্রার্থীকে ভোট দিতে চাই’। 

চন্ডিছড়া চা বাগানের শ্রমিক সকাল মনি বলেন, আমাদের প্রতিদিন কাজ করতে হয়। আমাদের মজুরী কম। সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। অভাবের তাড়নায় প্রতিদিন ৬ মাসের শিশু নিয়ে কাজে আসতে হয়। ভোট নিয়ে এখনো ভাবিনি। তবে যারা আমাদের মজুরী বাড়িয়ে দিবেন, আমরা তাদেরকেই  ভোট দিব’। 

একই বাগানের বাসিন্দা মায়া রানী বলেন, নির্বাচন আসলে প্রার্থীদের দেখা মিলে। বুকে জড়িয়ে ধরেন এবং রাস্তা-ঘাট, স্কুল-কলেজ ও হাসপাতাল নির্মান করে দেয়ার কথা বলেন। কিন্তু পরে আর  তাদের পাওয়া যায়না। 

নোয়াপাড়া চা বাগানের শ্রমিক রাকেশ বলেন, ‘এবার আমরা বুঝে-শুনে ভোট দিব। তাকে ভোট দিব যে আমাদের উন্নয়ন করবে। যে আমাদের পাশে থাকবে। বিগত নির্বাচনে জয়ী প্রার্র্থীরা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেননি। এবার আমরা প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চাই’। 

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী (ধানের শীষ) এস.এম ফয়সল বলেন, ‘চা-শ্রমিকরা এবার ধানের শীষে ভোট দিবেন। কারণ আমি তাদের পাশে রয়েছি। অতীতে তাদেরকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। আমি তাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। নির্বাচিত হলে তাদের সকল দাবী মেনে নেব’। 

ইসলামীক ফ্রন্ট মনোনীত (মোমবাতি) প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন আত্বতাহেরী বলেন, ‘প্রতারণার রাজনীতি আমি করিনা। আমি মানুষের সেবার জন্য প্রার্থী হয়েছি। চা-শ্রমিকদের সাথে অর্থনৈতিক বৈষম্য করা হয়েছে। আমি শুরুতেই তাদের সমস্যা গুলো চিহ্নিত করবো। তাদের জীবন মান উন্নয়নে দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহন করবো’। 

এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫২ হাজার ৭১১ জন। নারী ২ লাখ ৭৪ হাজার ৪৯ ও পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭৮ হাজার ৬৬০ জন। হিজড়া ভোটার ২ জন। 


শেয়ার করুনঃ

নির্বাচন থেকে আরো পড়ুন

হবিগঞ্জ, জাতীয় সংসদ নির্বাচন, নির্বাচন, চা শ্রমিক

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ