১৯ এপ্রিল ২০২৬

সিলেটজুড়ে

আবারও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা, উদ্বিগ্ন হাওরপাড়ের কৃষকরা

বজ্রপাতে বিভাগের ৬ জনের মৃত্যু, ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ৯:৫৯ অপরাহ্ন


কয়েকদিন ধরেই সিলেটজুড়ে থেমে থেমে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে আবারও শিলাবৃষ্টির আশঙ্কার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। বৈশাখের শুরুতেই এমন পূর্বাভাসে আতঙ্কে পড়েছেন হাওরপাড়ের কৃষকেরা।

 

আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট অঞ্চলের আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে অস্থায়ীভাবে মেঘলা থাকতে পারে। কিছু কিছু স্থানে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিচ্ছিন্নভাবে শিলাবৃষ্টিও হতে পারে।

 

এমন পরিস্থিতিতে উদ্বেগ আরও বেড়েছে, কারণ সম্প্রতি কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। জেলার তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও দিরাই উপজেলার পৃথক হাওরে বজ্রপাতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন—তাহিরপুরের আবুল কালাম (২৫), জামালগঞ্জের নাজমুল হোসেন (২৬), ধর্মপাশার হাবিবুর রহমান (২৪) ও রহমত উল্লাহ (১৩) এবং দিরাইয়ের লিটন মিয়া (৩৮)।

 

অন্যদিকে, একইদিনে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় মমিনা হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ওই কৃষক সুনাম উদ্দিন (৬০) উপজেলার বড় ভাকৈর (পূর্ব) ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের মৃত সুন্দর আলীর ছেলে। 

 

শুধু প্রাণহানিই নয়, বজ্রপাত ও ঝড়ে অন্তত ১০টি গবাদিপশুও মারা গেছে। শনিবার বিকেলে দিরাইয়ের বিভিন্ন হাওর এলাকায় নদী পার হওয়ার সময় এসব গরুর মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। 

 

তারা জানান, প্রবল কাল বৈশাখী ঝড়ে দিকভ্রান্ত হয়ে পানিতে পড়ে গিয়ে সাঁতরে পার হতে না পেরে গবাদিপশুগুলো মারা যায়।

 

এদিকে ঝড়ের সঙ্গে হওয়া শিলাবৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন হাওরে পাকা বোরো ধানের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা। বিশেষ করে দিরাই উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নের কালিয়াকুটা হাওরে ধানের ব্যাপক ক্ষতির কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। 

 

স্থানীয় এক কৃষক মনির মিয়া জানান, জমি থেকে ধান কেটে মারাই করে ঘরে তুলা পর্যন্ত শঙ্কায় রয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘নিজের কিছু জমিসহ অন্যের কিছু জমি বর্গা নিয়ে ধান চাষ করেছি। আইজ মেঘর (বৃষ্টি) লগে পাত্থর (শিলাবৃষ্টি) দিছে।

এতে ফসলের অনেক ক্ষতি হয়েছে।’ 

 

মনির বলেন, ‘মাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণ বৃষ্টির ফলে হাওরের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে গিয়ে সাময়িক বন্যার শঙ্কা তৈরি হয়। নদ-নদীর পানি বেড়ে গিয়ে বাঁধের ওপর চাপ বাড়ে।’ এতে যদি বাঁধ ধসে যায় তবে ফসলি জমি তলিয়ে গিয়ে ক্ষতির সম্ভাবনার কথা জানান তিনি। 

 

রফিনগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য প্রেমানন্দ চৌধুরী বলেন, শিলাবৃষ্টির তাণ্ডবে হাওরের প্রায় সব ধান ঝরে গেছে।

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনোরঞ্জন অধিকারী জানান, রফিনগর ইউনিয়নের পাগনার হাওড় ও কালিকুটা হাওরসহ বিভিন্ন এলাকায় শিলাবৃষ্টিতে বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি চরনারচর ইউনিয়নের একাধিক গ্রামেও এর প্রভাব পড়েছে।

 

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫০০ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও ৭০ শতাংশ, কোথাও ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ফসল নষ্ট হয়েছে। মাঠ জরিপ শেষে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।


শেয়ার করুনঃ

সিলেটজুড়ে থেকে আরো পড়ুন

সিলেট শিলাবৃষ্টি, হাওর ফসল ক্ষতি, দিরাই ঝড়, সুনামগঞ্জ বজ্রপাত, কৃষক আতঙ্ক

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ