সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল ঘোষণা, ভোট ১২ মে
নির্বাচন
প্রকাশঃ ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ২:৩৫ অপরাহ্ন
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘সরকার গঠনের ইঙ্গিতবাহী’ আসন হিসেবে পরিচিত সিলেট-১ (সিটি করপোরেশন ও সদর উপজেলা) আসনে ভোটের মাঠ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে মূল লড়াই দৃশ্যমান হলেও নির্বাচনী পরিবেশ ও লেভেল ফিল্ড বা সমান সুযোগ-সুবিধা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ছোট দলগুলোর প্রার্থীরা। তাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী দলগুলোর প্রচারণার চাপে তারা সমান সুযোগ পাচ্ছেন না।
স্বাধীনতার পর অনুষ্ঠিত প্রতিটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে যে দল জয়ী হয়েছে, সেই দলই সরকার গঠন করেছে—এমন একটি প্রচলিত বিশ্বাস রয়েছে। সেই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার কারণে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এই আসনকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর আগ্রহ ও তৎপরতা এবারও চোখে পড়ার মতো। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটকে সামনে রেখে বিএনপি ও জামায়াত জয় নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করছে।
নির্বাচনী প্রচারণায় বড় দলগুলোর পাশাপাশি মাঠে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাসদ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), গণঅধিকার পরিষদ, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)-এর প্রার্থীরা। তবে ছোট দলগুলোর প্রার্থীরা বলছেন, বাস্তবে ভোটের মাঠে প্রতিযোগিতা সমান নয়।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাহমুদুল হাসান (হাতপাখা) জানান, তারা নিয়মিত গণসংযোগ ও সভা করছেন। তবে বড় দলগুলোর ব্যাপক পোস্টার, মাইকিং ও নেতাকর্মীর সংখ্যার কারণে তাদের প্রচারণা অনেক ক্ষেত্রে চাপা পড়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণ মানেই লেভেল ফিল্ড থাকা। কিন্তু বাস্তবে আমরা সেই পরিবেশ পুরোপুরি পাচ্ছি না।’
বাসদের প্রার্থী প্রণব জ্যোতি পাল (মই) অভিযোগ করেন, অনেক এলাকায় তাদের পোস্টার লাগাতে গিয়ে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা থাকলেও মাঠপর্যায়ে তার বাস্তব প্রতিফলন কম। প্রশাসনের আরও সক্রিয় ভূমিকা দরকার।’
এছাড়া গতকাল বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করে আমরন অনশনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সিপিবির প্রার্থী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। এসময় তিনি বলেন, সিলেটে চলাচলরত প্রায় ১০ হাজার সিএনজির অধিকাংশেই বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীদের পোস্টার থাকলেও এসব অনিয়ম উপেক্ষা করা হচ্ছে কেবল আমার লাগানো আইনসম্মত বিলবোর্ডগুলো অপসারণ করা হচ্ছে, যা স্পষ্ট পক্ষপাতমূলক আচরণের ইঙ্গিত দেয়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি টিলাগড় পয়েন্টে একটি বিলবোর্ড অপসারণের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, বিলবোর্ড খুলে নেওয়ার মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই একই স্থানে, একই কাঠামো ও আকারে জামায়াত প্রার্থীর বিলবোর্ড বসানো হয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, শ্রমজীবী ও মেহনতি মানুষের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তায় ভীত হয়েই একটি পক্ষ এমন আচরণ করছে, যা নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
অন্যদিকে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী আকমল হোসেন (ট্রাক) বলেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে প্রচারণা চালাতে চান। কিন্তু বড় দলের শোডাউনধর্মী কর্মসূচির কারণে অনেক এলাকায় জনসংযোগ কঠিন হয়ে পড়ছে। তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সিলেট-১ আসনে মোট ভোটার ৬ লাখ ৮০ হাজার ৯৪৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩ লাখ ৫৩ হাজার ১৮৬, নারী ৩ লাখ ২৭ হাজার ৭৪৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১৩ জন। সিটি করপোরেশনের ৪২টি ওয়ার্ড ও সদর উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই আসনে শহরাঞ্চলের ভোটার সংখ্যাই বেশি।
সিলেট, জাতীয় সংসদ নির্বাচন, নির্বাচন, সিলেট-১ আসন