১৯ এপ্রিল ২০২৬

নির্বাচন / জাতীয় সংসদ নির্বাচন

সিলেটের সমাবেশে প্রাণ সুনামগঞ্জ, তবুও দলীয় প্রধানের সফরসূচিতে উপেক্ষিত

মেহেদী হাসান তানিম

প্রকাশঃ ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ৮:২৮ অপরাহ্ন

ছবিঃ ফাইল ছবি

সিলেটে রাজনৈতিক দলগুলোর বিভাগীয় সমাবেশ মানেই বিশাল জনসমাগম। বিশাল আয়োজন। বিএনপি, জামায়াত কিংবা বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। সবকটি দলের সিলেট বিভাগীয় সমাবেশে প্রাণ সুনামগঞ্জের নেতাকর্মী। সমাবেশে সফল করতে সড়ক পথ ছাড়াও নৌপথে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে শত শত কর্মীসমর্থক সিলেটে আসার নজিরও রয়েছে।

সর্বশেষ গত ২২ নভেম্বর সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরসা মাঠে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সমাবেশও হয়ে ওঠেছিল লোকে লোকারণ্য। সেদিনও হলুদ ও লাল রঙের ক্যাপ নজর কেড়েছিল সমোবেশে আসা লোকজনের। হলুদ ও লাল রঙের ক্যারিশমা দেখিয়েছিল সেই সুনামগঞ্জবাসী। 

কিন্তু সুনামগঞ্জবাসীর দুঃখ একটাই। বড় সমাবেশে বরাবরই তারা সবচেয়ে বেশি জনমাগম ঘটালেও দলের প্রধানদের নিজ এলাকায় পান না তারা। এ দুঃখ দীর্ঘদিনের। গত ২২ নভেম্বর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিলেট ছাড়াও মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে সমাবেশ করলেও সুনামগঞ্জে যাননি।


একইভাবে আগামী শনিবাার জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান সিলেট সফরের কর্মসূচিতে বিভাগের অন্য দুই জেলায় সমাবেশ করার কথা থাকলেও সুনামগঞ্জে কোনো কর্মসূচি নেই। 

সুনামগঞ্জের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা বলছেন, জনসমর্থনের দিক থেকে জেলাটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও অবকাঠামোগত দুর্বলতা, যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের কারণে বড় নেতাদের সফরসূচিতে বারবার উপেক্ষিত হচ্ছে সুনামগঞ্জ।

সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ফুল মিয়া বলেন, ‘সমাবেশে লোকসংখ্যা বাড়াতে সুনামগঞ্জকে সবাই মনে রাখেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতারা জেলা সফরে আসার সময় খুব বেশি একটা পান না। আবার অনেকের আগ্রহও কম থাকে। এতে তৃণমূল নেতাকর্মীরা হতাশ হলেও দিনশেষে দলের জন্য তারা এই ত্যাগ দিয়ে দেন। 

তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘হাওরাঞ্চল হওয়ায় যোগাযোগের কিছু সমস্যা থাকলেও এখানে দলীয় সমর্থক কম নয়। নিয়মিত কেন্দ্রীয় কর্মসূচি হলে সংগঠন আরও শক্তিশালী হতো। আমরা আশাবাদী দল ক্ষমতায় আসলে হাওরাঞ্চলে মানুষের উন্নয়নে কেন্দ্রীয় নেতারা ও দলের প্রধান নিয়মিত সুনামগঞ্জের মানুষের পাশে থাকবেন। 


এ ব্যাপারে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী বলেন, কেন্দ্রীয় নেতারা সুনামগঞ্জ আসেন না কথাটি সত্য নয়। এই যে আমি আজ সুনামগঞ্জেই রয়েছি। সিলেট বিভাগের বিএনপির আন্দোলন সংগ্রামে সুনামগঞ্জ জেলা আমাদের অন্যতম সারথী। আপনারা জানেন তারেক রহমান যখন দেশে এসেছেন তখন নির্বাচনের সময় ছিল ১৪-১৫ দিনের মতো সেজন্য তিনি সুনামগঞ্জ যেতে পারেননি। তবে এটা বিশ্বাস রাখেন যদি বিএনপি সরকার গঠন করে তাহলে দ্রুত সময়ের মধ্যেই তিনি সুনামগঞ্জ সফরে আসবেন।

সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীর ও সিলেটে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনের সমন্বয়ক মুহুাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের সুনামগঞ্জে শিডিউল ছিলো এবং আজকেও জামায়াতের আমির যাওয়ার জন্য জেলা আমিরকে বলছেন ব্যবস্থা করার জন্য। কিন্তু সময় স্বল্পতা এবং দূরবর্তী এলাকা হওয়ার কারণে স্থানীয় সংগঠন সেটা আয়োজন করতে পারেনি। এজন্য আপাতত আমরা যাচ্ছি না। 

তিনি বলেন, সময়ের একটা বিষয় আছে, সে কারণেই হচ্ছে না। দূরবর্তী এলাকা তো, কম সময়ের মধ্যে আমাদের জন্য কষ্টকর হয় আর সবাই তো মাঠে ময়দানেই।  

ফখরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘আমীরের সমাবেশে সুনামগঞ্জ থেকে মূলত প্রার্থীরা আসবেন। তাদেরকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে। সমাবেশে সিলেট জেলার লোকজন থাকবে। সুনামগঞ্জ থেকে তেমন একটা আসবেন না। এরকম আমাদের কোনো প্রস্তুতিও নেই।’


শেয়ার করুনঃ

নির্বাচন থেকে আরো পড়ুন

সিলেটের সমাবেশ, সুনামগঞ্জ, দলীয় প্রধানের সফরসূচি, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ