২৭ এপ্রিল ২০২৬

দৈনন্দিন / নগরজীবন

রক্ষণাবেক্ষণের নামে সিলেটে ঘন ঘন বিদ্যুৎ ‘শাটডাউন’, ভোগান্তিতে গ্রাহকরা

মোসাইদ রাহাত

প্রকাশঃ ২৬ জানুয়ারী, ২০২৬ ১০:১৫ অপরাহ্ন

ছবিঃ সিলেট ভয়েস গ্রাফিক্স

সিলেটে টুনকো কাজের জন্যেও ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ করে রাখা হচ্ছে। কোনো ধরণের পূর্ব ঘোষণা কিংবা প্রচারণা ছাড়াই মেরামতের নামে এভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন করার ঘটনা বেড়েই চলছে। গত দুই-তিন মাস ধরে প্রতি শনিবার নিয়ম করেই বিদ্যুতের রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্য বিভিন্ন এলাকা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ করে দেওয়া হচ্ছে। ছুটির দিন ছাড়াও চলছে বিদ্যুৎ বিভাগের এমন কাণ্ড।   

 

এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা। ব্যাহত হচ্ছে অফিস, দোকান বা গৃহস্থালির দৈনন্দিন কার্যক্রম। বিশেষ করে পূর্ব ঘোষণা ছাড়া বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নের ঘটনায় দুর্ভোগ পোহাতে হয় বাসা-বাড়ির লোকজন। 

 

বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্টদের দাবি, সিলেটের বিদ্যুৎ বিতরণ শীর্ষক একটি উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। সেটি এই মাসের মধ্যেই শেষ করতে সরকার থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবে চলতি মাসেই সমস্যার সামাধান হয়ে যাবে।

 

গত দুই মাসের রক্ষণাবেক্ষন ও মেরামতের ঘোষণা দিয়ে কতবার সিলেটে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে, সেই তথ্য দিতে কর্তৃপক্ষ অপরাগতা জানালেও স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য বলছে, গত ডিসেম্বর ও চলতি মাসে মেরামতের জন্য বিভিন্ন এলাকায় ৯ বার বিদ্যুৎ ‘শাটডাউন’ করা হয়। যার মধ্যে ডিসেম্বরের ৬, ১৩, ১৪, ১৮, ২০ তারিখে এবং জানুয়ারি মাসের ৬, ১৭, ২৪, ২৬ তারিখে। 

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, সিলেট সিটি করপোরেশন ও আশেপাশের এলাকার বিদ্যুৎ রক্ষণাবেক্ষণ বা জরুরি মেরামতের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হয়। তবে এর কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি সাধারণ মানুষ জানে না। অনেক সময় অফিস, দোকান বা গৃহস্থালিতে পূর্বনির্ধারিত নোটিশ ছাড়া বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।

 

গতকাল রোববার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত নগরীর শাহজালাল উপশহরের বিভিন্ন ব্লক, ভারতীয় হাইকমিশন, পুলিশ কমিশনার কার্যালয় এবং আশপাশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। আজ (সোমবার) একই কারণ দেখিয়ে নগরী ও আশপাশের বিস্তীর্ণ ৬২ এলাকায় ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। নির্দেশনা অনুযায়ী, ৫ ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার কথা থাকলেও তা হয়নি। ফলে লোডশেডিং ছিল চরমে।

 

এদিকে রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের নামে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ অত্যন্ত অনিয়মিত হওয়ার ফলে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে সিটি করপোরেশন, সরকারি অফিস ও শপিংমল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঘন্টার পর ঘন্টার বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিচ্ছে। তাছাড়া সরকারি নির্দেশে চলা লোডশেডিংয়ের ফলে বিপর্যস্ত হচ্ছে নাগরিক জীবন।

 

জিন্দাবাজার এলাকার বাসিন্দা মো. জাফরুল আনোয়ার বলেন, ‘কিছুদিন আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছিলাম। হঠাৎ করেই বিদ্যুৎ চলে গেল। অফিস থেকে কোনো নোটিশও পাওয়া যায়নি। কাজ আটকে যায় এবং তা আবার পরে সম্পন্ন করতে গিয়ে সময় ও অর্থ দুটোই নষ্ট হয়েছে।’ 

 

কর্তৃপক্ষ যদি মাইকিং করে বা নোটিশ দিয়ে ভালো করে প্রচারণা চালাত, তাহলে আমরা আগাম সর্তক থাকতে পারতাম বলে জানান তিনি। 

 

তিনি আরও বলেন, ‘শীতকালে এতো লোডশেডিং কেন হচ্ছে আমি বুঝতেছি না, এখনই যদি এই অবস্থা হয় তাহলে গরমকালে কি অবস্থা হবে। আমরা চাই দ্রুত এই সমস্যাগুলোর সমাধান হোক।’

 

এদিকে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রেও প্রভাব পড়ছে। হাসপাতালগুলোতে জরুরি সেবা প্রদান করতে জেনারেটরের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তবে জেনারেটরের খরচ বাড়ছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় রোগীদের জন্য অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

 

সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলনের সমন্বয়ক আব্দুল করিম কিম বলেন, ‘অনেক এলাকায় নোটিশ না দিয়েই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেন, যা দায়িত্বহীনতা ও উদাসীনতার পরিচয়। এর ফলে নগরবাসীর মধ্যে চরম ভোগান্তী তৈরি হয়।

 

তিনি আরও বলেন, ‘জনবল কম থাকায় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখেন। তাই সরকারের উচিত নগরবাসীর কথা চিন্তা করে দ্রুত দক্ষ জনবল নিয়োগ করা।’

 

সিলেট বিভাগীয় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করি মানুষকে আগাম জানাতে। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে জরুরি মেরামতের কারণে তা সম্ভব হয় না। আমরা সব সময় সিটি ও আশেপাশের এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখতে সর্বাত্বক চেষ্টা করি।’

 

বিভাগীয় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড অফিসের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুল কাদির সিলেট ভয়েসকে বলেন, ‘মূলত রক্ষণাবেক্ষণ, সঞ্চালন লাইন উন্নয়ন এবং অপ্রত্যাশিত গাছপালা ছাটাইয়ের কারণে এ কয়েকদিন বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন করতে হচ্ছে। তাছাড়া সিলেটের বিদ্যুৎ বিতরণ শীর্ষক একটি উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। এই মাসের মধ্যেই শেষ করতে সরকার থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘তাছাড়া ঢাকা থেকে আমাদের লোডশেডিং করার নির্দেশনা ও প্ল্যান চার্ট দিয়ে দেয়া হয়েছে বর্তমানে লোডশেডিং বেশি করতে হচ্ছে। এটিতে আমাদের হাত নেই। তাও আমরা অনেক কাটছাট করে নাগরিক ভোগান্তির কথা মাথায় রেখে লোডশেডিং করতেছি।’

 

প্রচারণায় ঘাটতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পূর্ব ঘোষণা দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে আমাদের নির্দেশনা রয়েছে। যে এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না সেখানে মাইকিং করে জানিয়ে দিতে হয়। তবে আমি খোঁজ নিব এটি সঠিকভাবে পালন করা হচ্ছে কি না।’


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

বিদ্যুৎ বিভ্রাট, লোডশেডিং, সিলেট, নাগরিক দুর্ভোগ, বিদ্যুৎ শাটডাউন

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ