জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
নার্সদের অভ্যন্তরীন দ্বন্দ্বে ব্যাহত চিকিৎসাসেবা, রোগীদের ভোগান্তি
যাপিতজীবন
প্রকাশঃ ২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:৫৪ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নার্সদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরমে পৌঁছেছে। ডিউটি বণ্টন ও পালনকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া এই বিরোধে হাসপাতালের স্বাভাবিক সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ রোগীরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, নিয়ম অনুযায়ী নার্সদের ডিউটি রোস্টার করা হলেও সম্প্রতি ‘নাসিমা’ নামের এক নার্সকে নাইট ডিউটি দেওয়া হলে তিনি তা পালন করতে অস্বীকৃতি জানান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নার্সদের মধ্যে দুই পক্ষের সৃষ্টি হয়। এক পক্ষ নিয়ম মেনে দায়িত্ব পালনের পক্ষে থাকলেও অন্য পক্ষ বিভিন্ন অজুহাতে ডিউটি এড়ানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সূত্র আরও জানায়, ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে ওই নার্স হাসপাতালে যোগ দেন। ২০২৪ সাল থেকে তিনি নিয়মিত নাইট ডিউটি এড়িয়ে চলছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। চলতি মাসের ৬ ও ৭ এপ্রিলের নাইট ডিউটি পালন না করায় ৭ এপ্রিল তাকে শোকজ করা হয়। পরে ২৬ এপ্রিল থেকে পুনরায় নাইট ডিউটির দায়িত্ব দেওয়া হলেও তিনি বিভিন্ন অজুহাতে তা এড়িয়ে যাচ্ছেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত এই সমস্যা সমাধান করে হাসপাতালের সেবার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক এবং দায়িত্বে অবহেলা করলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হোক।
এদিকে এ ঘটনায় সহকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। নাসিমা ডিউটি না করলে তারাও নাইট ডিউটি পালন করবেন না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হাসপাতালে কর্মরত অনেক নার্স।
নার্সদের এই বিরোধের কারণে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ পরিবেশে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সাধারণ নার্সদের একাংশের দাবি, নির্দিষ্ট কয়েকজনকে সুবিধা দিতে গিয়ে অন্যদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে, যা বৈষম্যমূলক।
এ পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে রোগীদের ওপর। হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও তাদের স্বজনরা অভিযোগ করছেন, রাতে প্রয়োজনের সময় নার্সদের পাওয়া যায় না। ওষুধ দেওয়া, স্যালাইন পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাও অনেক সময় বিলম্বিত হচ্ছে।
এক রোগীর স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, আমরা এখানে আসি সেবা পেতে, কিন্তু নার্সরা যদি নিজেদের মধ্যে মারামারি আর জেদাজেদিতে ব্যস্ত থাকে, তবে আমাদের দেখবে কে? ডিউটি নিয়ে এই অবহেলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।সরকার বেতন দিচ্চেন, ডিউটি কেন করবে না। ভালো না লাগলে চাকরি ছেড়ে চলে যান বলে মন্তব্য করেন তিনি।
হাসপাতালের সিনিয়র নার্স ফয়জুল নেছা বলেন, আমরা সবাই নাইট ডিউটি দায়িত্ব পালন করব, উনি বছরের পর বছর নাইট ডিউটি দায়িত্ব পালন করবেন না কেমন কথা। সে যেটাকা বেতন পায় আমরাও পাই, আমরা ডিউটি করব সে করবে না। সে ডিউটি না করলে আমরা নাইটের দায়িত্ব পালন করবো না।
নার্স ইনচার্জ জেরিনা আক্তার বলেন, এক ব্যক্তি কে নিয়ে সমস্যা। নাসিমার নাইট ডিউটি করার কথা সে করবে না। এর আগেও সে দুই দিন নাইট ডিউটি পালন করেনি। এখন সবার দাবী সে নাইট ডিউটি না করলে কেউ করবে না।
অভিযুক্ত নার্স নাসিমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করে ফোন কেটে দেন।
এ বিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কৃপেশ রায় বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সরকারি দায়িত্ব পালনে অবহেলা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. জসিম উদ্দিন বলেন, সরকারি চাকরি করতে হলে যার যে ডিউটি আছে পালন করতে হবে। সাময়িক অসুবিধার জন্য একদিন অথবা দুই দিন, মানবতা দিক বিবেচনা করা যায। মাসের মাস বছর পর বছর সেটা মেনে নেওয়া যাবে না।
জগন্নাথপুর হাসপাতাল, নার্স কোন্দল, নাইট ডিউটি, সুনামগঞ্জ স্বাস্থ্যসেবা, রোগীর ভোগান্তি