জার্মানির আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সিলেটের বৃষ্টি খাতুনের সাফল্য
প্রবাস
প্রকাশঃ ৮ জানুয়ারী, ২০২৬ ৬:৪৯ অপরাহ্ন
তখনও ভোরের আলো ফুটেনি, আবহাওয়া অনুভব হচ্ছে মাইনাস ৫ ডিগ্রীর উপরে। এমন সময়ই কাজে বেরিয়েছেন বাংলাদেশ থেকে সদ্য যুক্তরাজ্যে আসা শাহীন আলম। দ্রুত গতিতে রেলওয়ে স্টেশনের দিকে ছুটতে ছুটতে বললেন, এসেছি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে। ২০ ঘণ্টার কাজের অনুমতি থাকায় কাজ পাওয়াও কঠিন। অনেক কষ্টে একটি চাকরি পেয়েছি। ডিউটি ভোর ৬ টা থেকে। এখন যত ঠান্ডাই হোক কাজে যেতে হবে। মনে হচ্ছে এখানে গরমের প্রত্যাশা একটি বিলাসিতা মাত্র।
ঠান্ডার তীব্রতা কিংবা জীবনযাপন নিয়ে এই মন্তব্য কেবল শাহীন আলমেরই না। প্রতিটি নাগরিকের মন্তব্য প্রায় এক। বিশেষ করে যারা গরমের দেশ থেকে এসেছেন কিংবা যারা খোলা আকাশের নিচে কাজ করছেন তাদের দূর্দশা কয়েকগুণ বেশি।
হাঁড় কাপা এই শীতে শরীর না মানলেও বাধ্য হয়ে সাইকেল চালিয়ে ঘরে ঘরে ফুড ডেলিভারির কাজ করছেন শত শত তরুণ। যাদের অধিকাংশই ইমিগ্রেন্ট। তেমনই একজন রিপন মিয়া। তিনি থাকতেন মধ্যপ্রাচ্যের দুবাইতে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে এসেছেন। পূর্ণ সময় কাজের অনুমতি থাকলেও কোন কাজ না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে ডেলিভারির কাজ করেন। বলেন, কয়েক ধাপে ঠান্ডার কাপড় পরেছি। তবুও যেন শরীর চলে না। কিন্তু ঘরে বসে থাকারও উপায় নেই। তবে সুখের খবর হলো ঠান্ডা বেশি হলে উপার্জনটা একটু বেশি হয়। মানুষ ঘর থেকে বের না হয়ে অনলাইনে অর্ডার বেশি করে।
মূলত গত প্রায় ১৫ দিন থেকে শীতের তীব্রতা বাড়লেও গত এক সপ্তাহ থেকে তা দ্বীগুন হয়েছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বুধবার (৭ জানুয়ারি ) লন্ডন সিটিতে আবহাওয়া ছিলো মাইনাস ১ ডিগ্রি। যা অনুভূতি হচ্ছিলো প্রায় মাইনাস ৪ ডিগ্রি। তবে অন্যান্য সিটিতে তাপমাত্রা আরও কম থাকায় বিভিন্ন সিটিতে তুষারপাত হয়েছে।
কেবল তাই না, ঠান্ডার তীব্রতা নিয়ে ভয় বাড়িয়েছে যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া অধিদপ্তরের নতুন এক বার্তা। তাদের মতে আগামী কয়েকদিন শীত আরও বাড়তে পারে। এখনই কিছু কিছু এলাকায় শৈতপ্রবাহ চললেও তা আরও বাড়রে পারে। এমনকি অনেক এলাকায় সড়কে পিচ্ছিল অবস্থা তৈরি হওয়ায় রয়েছে দূর্ঘটনার শঙ্কা। এমন অবস্থায় সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বিনা প্রয়োজনে নাগরিকদের বাহিরে বের না হতেও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে দেশটির আবহাওয়া অফিস।
যুক্তরাজ্য, তুষারপাত, বাংলাদেশী, জীবনযুদ্ধ