২৭ এপ্রিল ২০২৬

দৈনন্দিন / আন্দোলন-বিক্ষোভ

নাগরিক দুর্ভোগের প্রতিবাদে সিলেটে তীব্র হচ্ছে আন্দোলন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ১৩ অক্টোবর, ২০২৫ ৬:৩৩ অপরাহ্ন


ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে সংস্কারে ধীর গতি, রেলের টিকিট সংকট ও বিমানে অতিরিক্ত ভাড়াসহ সিলেটের সঙ্গে বর্তমান সরকারের বৈষম্যের প্রতিবাদে তীব্র হচ্ছে নাগরিক আন্দোলন। রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন সংগঠন প্রতিদিনই বিভিন্ন ধরণের কর্মসূচি পালন করছে। 

 

সম্প্রতি রাজনৈতিক নেতাদের ডাকে প্রতিবাদে নেমেছেন সর্বস্তরের মানুষ। আজ সোমবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুমের ডাকে দক্ষিণ সুরমার হুমায়ুন রশিদ চত্বরে ‘সিলেটবাসীর গণঅবস্থান ও মানববন্ধন’ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। 

 

এর আগে গতকাল রোববার (১২ অক্টোবর) বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এক ঘণ্টা সিলেটের সকল দোকানপাট বন্ধ করে প্রতীকী কার্মসূচি পালন করা হয়েছে। 

 

এছাড়া ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাজ দ্রুত শেষ করার দাবিতে গত বৃহস্পতিবার সড়ক উপদেষ্টার সাথে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধি দল। সবমিলিয়ে বলা চলে নাগরিক দুর্ভোগের প্রতিবাদে প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠেছে সিলেট। তীব্র হচ্ছে সর্বস্তরের নাগরিক আন্দোলন। 

 

সোমবার দক্ষিণ সুরমার হুমায়ুন রশিদ চত্বরে ‘সিলেটবাসীর গণঅবস্থান ও মানববন্ধন’ কর্মসূচিতে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ‘ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক শুধু একটি রাস্তা নয়, এটি সিলেটবাসীর প্রাণরেখা। কিন্তু সরকারের অব্যবস্থাপনা ও উদাসীনতার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়ক আজ মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন দুর্ঘটনায় নিরীহ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে, ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।বছরের পর বছর সংস্কারের নামে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও বাস্তবে কোনো উন্নতি নেই।’


তিনি বলেন, ‘সিভিল সার্ভিস, সামরিক বাহিনী কিংবা জাতীয় রাজনীতির কোথাও সিলেটবাসীর ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নেই। কেন্দ্রীয়ভাবে আমাদের নেতৃত্ব বিকাশের পথ রুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীতেও সিলেটের কেউ নেই—ফলে পুরো বিভাগ এক ধরনের শূন্যতার মধ্যে পড়ে আছে। যোগাযোগ ব্যবস্থায় এই বঞ্চনা আর সহ্য করা হবে না।’ 


তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকেও এখনই সিলেটবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু চট্টগ্রামে তিন ঘণ্টায় যাওয়া সম্ভব করলেই হবে না-সিলেটকেও একই গুরুত্ব দিতে হবে। সিলেটকে আর বঞ্চিত করা যাবে না।’ 


কাইয়ুম চৌধুরী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে সিলেটবাসী আর কোনো বঞ্চনা সহ্য করবে না। নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াত জনগণের মৌলিক অধিকার-এই অধিকার রক্ষায় অবহেলা মানে জনগণের জীবনের সঙ্গে ছেলেখেলা করা।’ 

 

কর্মসূচি থেকে আগামী ২০ অক্টোবর জেলা প্রশাসকের কাছে জেলা বিএনপি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। 

 

এর আগে একই ইস্যুতে রোববার (১২ অক্টোবর) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এক ঘণ্টা সিলেটের সকল দোকানপাট বন্ধ করে প্রতীকী কার্মসূচি পালন করা হয়েছে।  বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে এই কর্মসূচি পালিত হয়। পরে প্রধান উপদেষ্টা বরাবরে একটি স্মারকলিপি সিলেটের জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। 

 

সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট ভয়েসকে বলেন, কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের অভূতপূর্ব সাঁড়া মিলেছে। যারা কোনো দিনও কোনো দাবি নিয়ে মাঠে আসেননি, তারা জনদুর্ভোগ ইস্যুতে মাঠে নেমেছেন। 

 

আরিফুল হক চৌধুরী আরও বলেন, ‘আমাদের দাবিগুলো জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আমাদের সুনির্দিষ্ট দাবিগুলো পূরণে সরকার কী ব্যবস্থা নেয়, তা জানাতে হবে। যদি ১৫ দিনের মধ্যে কোনো সিদ্ধান্ত না আসে, তাহলে সিলেটের সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

 

পরবর্তীতে কী ধরণের কর্মসূচি আসতে পারে এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে আবার বসা হবে।’ তবে এই সময়ের মধ্যে সরকার প্রধান একটা পদক্ষেপ নিবেন বলে আশাবাদী তিনি। 

 

এ বিষয়ে সিলেটের ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) মো. সারওয়ার আলম বলেন, ‘নাগরিক দুর্ভোগ নিয়ে যে দাবিগুলো ওঠেছে সবগুলোই যৌক্তিক। কিন্তু এখানে অনেকগুলো বিষয় জড়িত। তারপরও সিলেটের মানুষের দাবিগুলো আমরা সরকারের যথাযথ জায়গার অবহিত করছি। আশা করা যাচ্ছে দ্রুতই একটা সমাধান হবে।’

 

তিনি বলেন, ‘আমরা চাচ্ছি ঢাকা-সিলেট ছয়লেনের কাজ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত একটি স্পেশাল ট্রেন সিলেট রুটে চালু করতে। আমি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পত্র পাঠিয়েছি। আগামী সপ্তাহে ঢাকায় গিয়ে এ ব্যাপারে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় কী না সেই ব্যবস্থা করছি।’


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক, কাজে ধীরগতি, আন্দোলন, বিক্ষোভ, নাগরিক

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ