দিরাইয়ে নব দম্পতির অস্বাভাবিক মৃত্যু, সংকটে সহায়তা নেওয়ার আহ্বান বিশেষজ্ঞদের
দৈনন্দিন
২৫ বছরেও হয়নি ডাম্পিং স্টেশন, বর্জ্য অপসারণের দাবি এলাকাবাসীর
প্রকাশঃ ১১ জুলাই, ২০২৫ ৮:২৬ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরসভার হবিবনগর এলাকায় আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে খোলা জায়গায় পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বছরের পর বছর ধরে ময়লা ফেলছে। এতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশে, চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ যাতায়াত করে এই সড়কে—তাদের সকলকেই পঁচা গন্ধ সয়ে চলতে হচ্ছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, হবিবনগর এলাকায় সড়কের পাশেই ময়লার বিশাল স্তূপ। ময়লার দুর্গন্ধে নাক চেপে চলাচল করছেন পথচারীরা, জানালা-দরজা বন্ধ করে চলছে পরিবহন। সড়ক ঘেঁষে বসবাসরত এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরাও এই পরিস্থিতিতে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে।
স্থানীয় বাসিন্দা ধীরেন্দ্র দাস বলেন, “ময়লার দুর্গন্ধে রাস্তায় চলাচল কষ্টকর হয়ে পড়েছে। পৌরসভা যদি একটু সচেতন হতো, তাহলে এ অবস্থায় পড়তে হতো না।”
ফুটপাতের ভাসমান ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম বলেন, “গন্ধে দোকানে দাঁড়ানো যায় না, ব্যবসা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত এ ভাগাড় সরিয়ে নেয়ার দাবি জানাচ্ছি। ”
জানা গেছে, ২০০০ সালে পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হলেও আজ পর্যন্ত আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন নলজুর নদীতে ময়লা ফেলার পর বর্তমানে সড়কের পাশে ফেলছে, যা নিয়েই এখন চরম বিরক্তি ও উদ্বেগ স্থানীয়দের মধ্যে।
জগন্নাথপুর পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিদর্শক বিপলেশ ভট্টাচার্য বলেন, “আমরা প্রতিদিন ব্লিচিং পাউডার দেই দুর্গন্ধ কমাতে, এক দিন পরপর গাড়িতে ময়লা সরানো হয়।”
তবে এলাকাবাসীর দাবি, বাস্তবে ময়লা সঠিকভাবে সরানো হচ্ছে না, বরং তা জমে ভাগাড়ে রূপ নিয়েছে।
পৌরসভার প্রকৌশলী সতীশ গোস্বামী বলেন, “ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণে ৮-১০ কোটি টাকার প্রয়োজন। কিন্তু পৌরসভায় সে পরিমাণ বরাদ্দ নেই।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বিকাশ চন্দ্র রায় বলেন, “ময়লার দুর্গন্ধে বায়ুবাহিত রোগের জীবাণু ছড়াতে পারে। মাছির মাধ্যমে সংক্রামক রোগ ছড়ানোও অস্বাভাবিক নয়।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক বরকত উল্লাহ বলেন, “এটি একটি জরুরি ইস্যু। বরাদ্দ পেলেই ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের কাজ শুরু হবে।”
সুনামগঞ্জ, জগন্নাথপুর পৌরসভা, ডাম্পিং স্টেশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা