০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অপরাধ-বিচার / অপরাধ

শান্তিগঞ্জে হাতকড়াসহ আসামির পলায়ন, পরে ‘সমঝোতায়’ উদ্ধার হাতকড়া

প্রতিনিধি, শান্তিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ

প্রকাশঃ ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৬:২৬ অপরাহ্ন


সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে পুলিশের হাত থেকে হাতকড়াসহ এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পুলিশি অভিযানের সময় হাতকড়াসহ পালিয়ে যাওয়া আসামি আসির মিয়াকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় কথিত ‘সমঝোতার’ মাধ্যমে তার কাছ থেকে হাতকড়া উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি।


হাতকড়া উদ্ধার হলেও আসামি অধরা থাকায় এবং ঘটনার পর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বক্তব্য পরিবর্তন করায় বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। বিশেষ করে পুলিশের হেফাজত থেকে হাতকড়াসহ একজন আসামি পালিয়ে যাওয়ার পর কীভাবে আসামিকে ছাড়াই হাতকড়া উদ্ধার হলো এ প্রশ্নই এখন ঘুরছে স্থানীয়দের মধ্যে।


ঘটনার বিষয়ে পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য এবং পরবর্তী বক্তব্যেও ভিন্নতা দেখা গেছে। বুধবার রাতে হাতকড়াসহ আসামির পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরদিন সকালে হাতকড়া উদ্ধারের কথা স্বীকার করেন শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অলিউল্লাহ।


বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শান্তিগঞ্জ থানার এসআই নুর উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দামোধরদপী পয়েন্ট এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসির মিয়াকে গ্রেপ্তার করে।


পুলিশ তাকে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নেওয়ার পথে হঠাৎ সেখানে হট্টগোল শুরু হয়। আসির মিয়ার স্বজনদের মধ্যে নারীসহ কয়েকজন পুলিশের কাজে বাধা দেন বলে জানা গেছে। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে এবং ওই সুযোগে আসির মিয়া হাতকড়াসহ পালিয়ে যান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।


ঘটনার প্রায় আধঘণ্টা পর আসির আলী নিজের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে বক্তব্য দেন। লাইভে তার হাতে হাতকড়া দেখা যায়। সেখানে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে অভিযোগ করেন, কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই তাকে গ্রেপ্তার করে হয়রানি করা হয়েছে।


ঘটনার পর রাতে শান্তিগঞ্জ থানার ওসি অলিউল্লাহ হাতকড়াসহ আসামির পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে পরদিন সকালে তিনি জানান, মব সৃষ্টি করে আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল এবং পরবর্তীতে হাতকড়া উদ্ধার হয়েছে।


ওসি অলিউল্লাহ বলেন, গত রাতে দামোধরদপী এলাকায় গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে মব সৃষ্টি করে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে হাতকড়া উদ্ধার করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।


আসামিকে কেন গ্রেপ্তার করা যায়নি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসামির অবস্থান জানা যায়নি। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি।


পূর্ব পাগলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আসকির আলী জানান, ঘটনার পর স্থানীয়রা পুলিশের সঙ্গে কথা বলে হাতকড়া উদ্ধারের চেষ্টা করেন। পরে অভিযুক্ত আসির আলীর কাছ থেকে হাতকড়া উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


তিনি বলেন, “রাতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর আমরা স্থানীয়রা পুলিশের সঙ্গে কথা বলে হাতকড়া উদ্ধারের চেষ্টা করি। পরে অভিযুক্ত আসির আলীর কাছ থেকে হাতকড়া উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছি।”


তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন পুলিশের হাতে থাকা হাতকড়া যদি আসামির হাতেই ছিল, তাহলে পুলিশি হেফাজত থেকে পালানোর পর সেটি কীভাবে স্থানীয়দের মাধ্যমে উদ্ধার হলো? হাতকড়া খুলতে চাবি প্রয়োজন হলে সেই চাবি কোথায় ছিল এ প্রশ্নও উঠেছে।


স্থানীয় মারজান আহমেদ চৌধুরী বলেন, আসামির হাতকড়া খুলতে তো চাবি লাগবে, পুলিশের সহযোগিতা লাগবে। তাহলে চাবি ছাড়া হাতকড়া কীভাবে খুলে উদ্ধার করা হলো?।


অন্যদিকে ফেসবুক লাইভে আসির আলী দাবি করেন, তাকে কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগও করেন তিনি। তবে তার বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযোগ বা তাকে গ্রেপ্তারের সুনির্দিষ্ট কারণ কী ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।


স্থানীয় হোসাইন আহমদ সোহান বলেন, “মিথ্যা মামলায় জেনেশুনে চা-নাস্তা খেয়ে ওয়ারেন্ট ছাড়া আসামি ধরতে গেলে এই ধরনের পরিস্থিতিই হবে।”


তবে আসির আলীর বিরুদ্ধে কোনো মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল কি না, অথবা পুলিশ কোন আইনি ক্ষমতাবলে তাকে গ্রেপ্তার করেছিল—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজন সরকার বলেন, হাতকড়া উদ্ধার হয়েছে, তবে আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। আসামি হয়তো কোথাও হাতকড়া রেখে চলে গেছে। পরবর্তীতে বলছে যে হাতকড়া এখানে আছে। সেই তথ্যমতেই হাতকড়া উদ্ধার হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, হাতকড়া যদি খুলেই আনতো, তবে তো আসামিকে পাওয়াই যেত ওইসময়। বিষয়টা এরকম নয়।


আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।



শেয়ার করুনঃ

অপরাধ-বিচার থেকে আরো পড়ুন

হাতকড়া, আসামি, পলায়ন, পুলিশ, শান্তিগঞ্জ, গ্রেপ্তার

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ