৫০০ টাকা মজুরিসহ চারদফা দাবিতে সিলেটের ২৩ চা-বাগানে কর্মবিরতি
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ২৭ আগস্ট, ২০২৬ ৫:৪৮ অপরাহ্ন
দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ, ২০২৩ সালে প্রণীত গেজেট বাতিল, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন এবং ভূমি অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে সিলেট ভ্যালির ২৩টি চা-বাগানে দুইঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করছেন চা শ্রমিকেরা। গতকাল বুধবার থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি আজ বৃহস্পতিবারও সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত চলে।
শ্রমিকেরা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে অনির্দিষ্টকালের এ কর্মবিরতি চলবে। সিলেট ভ্যালির মালনীছড়া, লাক্কাতুরা, বুরজান, খাদিমসহ ২৩টি চা-বাগানে একযোগে কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
শ্রমিকদের চার দাবির মধ্যে রয়েছে, দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা করা, ২০২৩ সালে প্রণীত গেজেট বাতিল, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন আয়োজন এবং ভূমির অধিকার নিশ্চিত করা।
চা শ্রমিকেরা জানান, প্রায় এক মাস ধরে এসব দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন তারা। গত ৯ আগস্ট সিলেটে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ শেষে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। তখন দাবি বাস্তবায়নে প্রশাসনকে ১৫ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল।
শ্রমিক নেতারা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় গতকাল বুধবার থেকে দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি শুরু করেন তারা।
মালনীছড়া চা-বাগানের শ্রমিক ও চা শ্রমিক ঐক্য কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অজিত রায় বাড়াইক বলেন, ‘বর্তমানে একজন চা শ্রমিকের দৈনিক মজুরি মাত্র ১৮৭ টাকা। বর্তমান বাজারদরে এই সামান্য মজুরি দিয়ে একটি পরিবারের দু’বেলা খাবারের ব্যবস্থা করাও কঠিন। তাই দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণসহ চার দফা দাবি আদায়ে আমরা আন্দোলনে নেমেছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’
চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন না হওয়ায় শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ শ্রমিকদের।
বুরজান চা-বাগানের শ্রমিক সাইদুল রহমান সোহেল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন না হওয়ায় অনেক বাগানে ভারপ্রাপ্ত কমিটি দিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তাই দ্রুত চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান তিনি।
লাক্কাতুরা চা-বাগানের শ্রমিক রঘু দাস বলেন, ‘এখন আমরা প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করছি। দাবি আদায় না হলে পর্যায়ক্রমে টানা কর্মবিরতির মতো কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হব।’
শ্রমিকদের স্মারকলিপি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, চা শ্রমিকদের দাবিগুলোর মধ্যে চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া চলছে। এ জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় শিগগিরই নির্বাচন আয়োজন করবে।
এর আগে গত ১৪ আগস্ট চা শ্রমিকদের দাবিদাওয়া নিয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন চা শ্রমিক ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা। এ সময় শ্রমিকদের অধিকার, ভূমি ও জীবনমান উন্নয়নসংক্রান্ত আট দফা দাবি সংবলিত স্মারকলিপি মন্ত্রীর কাছে দেওয়া হয়।
সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী জানান, চা-বাগানগুলোর বাস্তবতা সরেজমিনে পর্যালোচনার জন্য শ্রম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হবে। ওই দলের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বর্তমান মজুরিতে পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে জানিয়ে দ্রুত দাবি বাস্তবায়ন না হলে কর্মসূচি আরও কঠোর করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।
চা শ্রমিক, মজুরি বৃদ্ধি, কর্মবিরতি, চা বাগান, ভূমি অধিকার, সিলেট ভ্যালি