২৭ আগস্ট ২০২৬

অপরাধ-বিচার / মামলা

রায়নগরে ট্রিপল মার্ডার

আসামী বাবুলের শুরুতে প্রেম, পরে চুরির বর্ণনার ব্যাখ্যা দিলেন এসএমপি কমিশনার

প্রকাশঃ ২৭ আগস্ট, ২০২৬ ৪:৫৪ অপরাহ্ন


সিলেট নগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকায় বৃদ্ধ দম্পতি ও তাদের গৃহকর্মীকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামি বাবুল মিয়ার জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দির মধ্যে প্রাথমিক পার্যায়ে দুটি ভিন্ন বিষয়ের অবতারণা নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে শাহপরাণে ব্যবসায়ী শাহাব উদ্দিনকে হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন সম্পর্কিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ ব্যাখ্যা দেন।


পুলিশ কমিশনার জানান, রায়নগরের ঘটনায় প্রথম দফায় জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রেমসংক্রান্ত একটি বিষয় উল্লেখ করেছিলেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি চুরির বিষয়টি সামনে আনেন। ফলে শুরুতে তার বক্তব্যে দুটি বিষয়ই উঠে আসে।


তবে পুলিশ কমিশনার বলেন, কাউকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় সে অনেক ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে পুরো ঘটনা গুছিয়ে বলতে পারে না। সময় দেওয়ার পর এবং বিভিন্ন দিক থেকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মধ্যে বিষয়টি বোঝার সক্ষমতা তৈরি হয় এবং তখন সে মূল ঘটনাটি বলতে সক্ষম হয়। বাবুল মিয়ার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন দিক থেকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তার দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে পরবর্তীতে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দির মিল পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।


পুলিশ কমিশনার বলেন, সাধারণত প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় একজন ব্যক্তি কী বলবেন বা কী বলবেন না, তা তাৎক্ষণিকভাবে বুঝে উঠতে নাও পারেন। এটিকে একধরনের বোঝাপড়ার সমস্যা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন তিনি। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বিষয়টি বুঝতে পারেন এবং তখনই সঠিক তথ্য দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। একইভাবে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি দেওয়ার সময়ও তাকে বিভিন্ন দিক ও বিষয় সম্পর্কে বুঝিয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়। পুলিশের ধারণা, এ কারণেই ওই সময় বাবুল মিয়া বিষয়টি ভালোভাবে বুঝে মূল বা সঠিক ঘটনা বর্ণনা করেছেন।


চার দিনের রিমান্ড শেষে গেল বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) বেলা ১টার দিকে কড়া নিরাপত্তায় বাবুল মিয়াকে সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানার আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয় বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি থানার ওসি খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির।


আসামি বাবুল মিয়া (৪০) রায়নগর রাজবাড়ি এলাকার আখতার মিয়ার কলোনির বাসিন্দা। তার বাবার নাম মৃত নূর মিয়া।


উল্লেখ্য, গত ১২ আগস্ট সকাল ৯টার দিকে নগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার একটি বাসায় তিনজনকে হত্যার ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন— ওই বাসার মালিক মো. আবদুস সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং গৃহপরিচারিকা তাহমিনা বেগম (১৫)।


পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পরপরই ওই দিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রায়নগর রাজবাড়ী এলাকার একটি কলোনিতে অভিযান চালিয়ে বাবুল মিয়াকে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল মিয়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।


শেয়ার করুনঃ

অপরাধ-বিচার থেকে আরো পড়ুন

বাবুল মিয়া, সিলেট, এসএমপি, হত্যা মামলা, জবানবন্দি, পুলিশ কমিশনার

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ