আবারও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা, উদ্বিগ্ন হাওরপাড়ের কৃষকরা
সিলেটজুড়ে
প্রকাশঃ ১২ জুন, ২০২৫ ৯:৫৮ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার নোয়াকোট বিওপি’র সীমান্ত দিয়ে বিএসএফের পুশইন করা ১৭ জনকে মানবিক সহায়তা দিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (১২ জুন) সন্ধ্যায় আশ্রয়ন কেন্দ্রে থাকা ১৭ জনকে দেখতে যান তিনি। এসময় তাদের সবার মাঝে পোশাক, খাদ্য, ঔষধপত্র বিতরণ করেন ইউএনও। এতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আটককৃতরা।
আটককৃদের মধ্যে ৫জন পুরুষ, ৪জন নারী এবং ৮জন শিশু রয়েছেন। তাদের সবাই লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার বাসিন্দা।
তারা হলেন, লালমনিরহাট জেলার লালমনিরহাট থানার কুলিয়াঘাট গ্রামের শামসুল আলীর ছেলে সাইফুল ইসলাম(৩৫), তার স্ত্রী আরজিনা বেগম(২৮), ছেলে জাহিদ হাসান(১০), জাহিদুল ইসলাম (৬), মেয়ে ফৈরদৌসী(৪)। কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী থানার গোগারকুটি গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে সুজন আলী(২৫) তার স্ত্রী ফজলে বেগম(২৩), ভাই শরীফুল ইসলাম(১৮), ছেলে ইব্রাহিম(১.৫), মেয়ে সুমাইয়া(৫)। একই জেলার নাগেশ্বরী থানার দেওয়ানীটাড়ী গ্রামের নূর হোসেনের ছেলে মহুবর আলী(৩০) তার স্ত্রী মনিরা বেগম(২২), মেয়ে মোর্শেদা খাতুন(৯), ছেলে মীর হোসেন(৩)। একই থানার মাস্টার পাড়া গ্রামের গোবিন্দ এর ছেলে মিঠুন চন্দ্র(২৪), তার স্ত্রী দীপ্তি (২২) ও মেয়ে তুলসী(২)।
এর আগে, একইদিন দিন দুপুরে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের নোয়াকোট বিওপি’র সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ৪ পরিবারের মোট ১৭জনকে পুশইন করে বিএসএফ। এরপর টহলরত বিজিবির সদস্যরা তাদেরকে আটক করে ছাতক থানায় হস্তান্তর করে।
এদিকে বিকেলে উপজেলার উত্তর খুরমা ইউনিয়নে আমেরতল গ্রামের জাহান আরা চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ে পুলিশ নিরাপত্তায় আটককৃতদের খাওয়া ও থাকার জন্য আশ্রয় কেন্দ্রের ব্যবস্থা করা হয়।
আশ্রয় কেন্দ্রে আটককৃতদের মৌলিক চাহিদা মেটাতে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। জানা গেছে, আটকৃতরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে তারা অবৈধভাবে ভারতে বসবাস করে আসছিলেন। এমনকি, বিভিন্ন রাজ্যে তারা নির্মাণ শ্রমিক, কৃষিশ্রমিক, গৃহকর্মীসহ বিভিন্ন খাতে কর্মরত ছিলেন।
এ ব্যপারে ছাতক থানার ভারপাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোখলেছুর রহমান আকন্দ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, 'পুশইন করা ১৭ জনকে দুপুরে থানায় হস্তান্তর করে বিজিবি। পরে বিকালে তাদেরকে উপজেলা প্রশাসনের আশ্রয়ণ কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে এবং সেখানে তাদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ ২৪ ঘন্টা কাজ করছে।'
ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, 'পুশইন করা ১৭ জনের জন্য থাকা, খাওয়া, পোশাক ও চিকিৎসার শতভাগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনার আগ পর্যন্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদেরকে আশ্রয়ণ কেন্দ্রে পুলিশ হেফাজতে রাখা হবে।'
পুশইন, আটক, মৌলিক চাহিদা, ছাতক, বিজিবি, বিএসএফ, সীমান্ত, ছাতক সীমান্ত